রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এ বছরই প্রথম দুর্গাপুজো। স্বাভাবিকভাবেই ২০২৬-এর শারদোৎসবকে ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশা। পুজোর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে সরকারি অনুদান, বিদ্যুতে ছাড়, দমকলের ফি, পুজো কার্নিভ্যাল—একাধিক বিষয় নিয়ে সোমবার পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতার মিলন মেলায় আয়োজিত এই বৈঠকের দিকে এখন নজর পুজো উদ্যোক্তাদের।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা অবশ্য সরকারি পুজো অনুদান নিয়ে। এ বছর আদৌ কতগুলি পুজো কমিটি অনুদান পাবে, প্রত্যেককে কত টাকা দেওয়া হবে এবং আগের সরকারের চালু করা অন্যান্য সুবিধাগুলি বহাল থাকবে কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলতে পারে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে।
### অনুদান পাবেন কারা?
গত জুনে অনুদান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, যে পুজো কমিটিগুলি সত্যিই সরকারি সহায়তার উপর নির্ভরশীল, তাদের সাহায্য করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। যেসব পুজোর আর্থিক প্রয়োজন নেই, তাদের ক্ষেত্রে সরকারি অনুদানের প্রয়োজনীয়তা নেই বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ফলে এবার অনুদানের ক্ষেত্রে কোনও নতুন মাপকাঠি তৈরি হয় কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।
গত সরকারের আমলে পুজো কমিটিগুলিকে দেওয়া অনুদানের অঙ্ক ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছিল। শেষবার প্রায় ৪৫ হাজার পুজো কমিটি ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান পেয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলে ৮০ শতাংশ ছাড় এবং দমকল-সহ বিভিন্ন সরকারি ফি মকুবের সুবিধাও দেওয়া হয়েছিল।
এবার সেই একই কাঠামো থাকবে, নাকি নতুন সরকার সম্পূর্ণ ভিন্ন নীতি গ্রহণ করবে—সোমবারের বৈঠকেই তার একটা স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।
### শুধু অনুদান নয়, পুজোর সামগ্রিক প্রস্তুতিও আলোচনায়
দুর্গাপুজো মানেই শুধু পুজো কমিটির অনুষ্ঠান নয়। মহালয়া থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। কলকাতার পাশাপাশি জেলা শহরগুলিতেও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা, রাস্তার পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ পরিষেবা এবং দমকল ব্যবস্থার উপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।
তাই পুজোর প্রস্তুতি বৈঠকে সরকারি অনুদানের পাশাপাশি সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। বিশেষ করে পুজোর আগে রাস্তা মেরামত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যানজট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশাসনের পরিকল্পনা সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
### পুজো কার্নিভ্যাল নিয়েও বাড়ছে আগ্রহ
এবারের দুর্গাপুজোয় নতুন সরকারের ভাবনায় কী ধরনের পরিবর্তন আসছে, তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। পুজো কার্নিভ্যাল হবে কি না, হলে তার পরিসর কেমন হবে—সেটিও আলোচনার অন্যতম বিষয়। মূল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহালয়া থেকে শুরু করে গোটা উৎসবকে ঘিরে একটি বড় পরিকল্পনা তৈরি করেছে রাজ্য সরকার।
সরকারি পরিকল্পনায় বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। এর আগে ২০২৬ সালের মহালয়াকে কেন্দ্র করে বড় সরকারি সাংস্কৃতিক আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানা গিয়েছে। ফলে পুজোর মূল অনুষ্ঠানগুলির পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে সাংস্কৃতিক কর্মসূচির
### পুজো কমিটিগুলির প্রত্যাশা কী?
গত কয়েক বছর ধরে সরকারি অনুদান বহু পুজো কমিটির বাজেট পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি বাজেটের পুজোগুলির ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য দিয়ে মণ্ডপ, প্রতিমা, আলো বা অন্যান্য আয়োজনের খরচ সামলানো কিছুটা সহজ হয়েছিল।
তাই নতুন সরকারের প্রথম দুর্গাপুজোয় অনুদান নিয়ে পুজো উদ্যোক্তাদের আগ্রহ স্বাভাবিক। কত টাকা দেওয়া হবে, সব কমিটি পাবে কি না এবং প্রয়োজনের ভিত্তিতে বাছাই করা হবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে আজকের বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন উদ্যোক্তারা।
### ধর্মীয় আয়োজন নিয়ে বিতর্কের আবহ
দুর্গাপুজোর প্রতিমা, পুজোর আচার এবং ভোগ বিতরণের মতো বিষয় নিয়েও সম্প্রতি বিভিন্ন মহল থেকে নানা মত সামনে এসেছে। কিছু ক্ষেত্রে তা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ফলে সরকারের তরফে এবারের পুজো পরিচালনা ও আয়োজন নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। D
সরকারের পক্ষ থেকে পুজো কমিটিগুলিকে কী ধরনের নির্দেশ দেওয়া হবে, প্রশাসনিক সহযোগিতার কাঠামো কী হবে এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের সমন্বয় কীভাবে করা হবে—এসব বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।
### একই দিনে সামাজিক সুরক্ষার অর্থপ্রদান
দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি বৈঠকের পাশাপাশি সোমবার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। নবান্ন সভাঘর থেকে বর্ধিত হারে বার্ধক্যভাতা, বিধবাভাতা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতার অর্থ উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর সূচনা করার কথা রয়েছে তাঁর। অর্থাৎ একই দিনে উৎসবের প্রস্তুতি এবং সামাজিক সুরক্ষা—দুই ক্ষেত্রেই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের দুর্গাপুজো নতুন সরকারের জন্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। আর পুজো কমিটিগুলির কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আপাতত একটাই—**সরকারি অনুদান মিলবে কত, আর কারা পাবেন?** সোমবারের বৈঠকেই সেই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হতে পারে।


