লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চায় এসেছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দাবি করেছেন, সোনম ওয়াংচুক তাঁদের সমালোচনা করেননি। বরং দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের একটি ছোট অংশ কেটে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। ভাইরাল অংশে সোনমকে বলতে শোনা যায়, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং তাঁরা ‘সন্ত’ নন। তবে অভিজিৎ দীপকের দাবি, পুরো বক্তব্য শুনলে বিষয়টির অন্য একটি দিকও স্পষ্ট হবে।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে সোনম ওয়াংচুক সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলনের সময়ে তিনি তিনজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। তবে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা নিজে কোনও অপরাধ বা নেতিবাচক বিষয় নয় বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। বরং ভারতের রাজনীতিতে আরও বেশি তরুণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলেই মত দেন ওয়াংচুক।
সোনমের বক্তব্যের যে অংশটি বেশি আলোচনায় এসেছে, সেখানে তিনি বলেন, ওই নেতারা এমন কোনও ‘সন্ত’ নন, যাঁরা নিজেদের জন্য কিছুই চাইবেন না। তাঁর বক্তব্য ছিল, তাঁদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে এবং ভবিষ্যতে তাঁরা রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন বা নিজেদের রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলতে পারেন। তবে তাঁর মূল উদ্বেগ ছিল আন্দোলনের চরিত্র নিয়ে। ছাত্র আন্দোলন কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের হাতিয়ার হওয়া উচিত নয় এবং ছাত্র আন্দোলনকে অরাজনৈতিক রাখাই প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
এই মন্তব্যের পরই অভিজিৎ দীপকে পালটা প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁর দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ছোট ভিডিও ক্লিপটি ছড়িয়েছে, সেখানে সোনম ওয়াংচুকের বক্তব্যের মাত্র একটি অংশ তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর কথায়, পুরো সাক্ষাৎকারের প্রায় ৯৯ শতাংশ বাদ দিয়ে এমন একটি অংশকে সামনে আনা হয়েছে, যার ফলে মনে হচ্ছে সোনম তাঁদের সমালোচনা করেছেন। বাস্তবে ওয়াংচুক তাঁদের সততা, দক্ষতা এবং আন্দোলন পরিচালনার পদ্ধতির প্রশংসাও করেছেন বলে দাবি দীপকের।
অভিজিৎ দীপকের বক্তব্য অনুযায়ী, সোনমকে যখন তাঁদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তখন তিনি নিশ্চিতভাবে কিছু বলেননি। বরং ভবিষ্যতে কোনও ব্যক্তি কী করবেন, তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়—এই যুক্তিই দিয়েছেন। দীপকের মতে, এই অবস্থান যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত। তিনিও দাবি করেছেন, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে তিনি নিজেও কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেন না।
দীপকের আরও দাবি, ওই সাক্ষাৎকারে সোনম ওয়াংচুক তাঁদের ‘দক্ষ’ এবং ‘ভাল নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি এখনও পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং তাঁরা আন্দোলনটি সততার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন বলেও নাকি প্রশংসা করেছেন সোনম। তাই ভাইরাল ক্লিপ দেখে পুরো বক্তব্যের অর্থ বিচার করা ঠিক নয় বলেই মত সিজেপি প্রতিষ্ঠাতার।
অন্যদিকে, সোনম ওয়াংচুকের বক্তব্যের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল আন্দোলনের অরাজনৈতিক চরিত্র বজায় রাখার বিষয়ে তাঁর সতর্কতা। তাঁর মতে, তরুণদের রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা থাকতেই পারে। কিন্তু কোনও ছাত্র আন্দোলন যদি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়, তাহলে তার মূল উদ্দেশ্য এবং বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি সিজেপি নেতাদের এই বিষয়টি মাথায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সিজেপি এবং তাদের আন্দোলন জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। NEET-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগকে সামনে রেখে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনের সঙ্গেও সিজেপি নেতাদের নাম জড়িয়েছে। ওই আন্দোলনে সোনম ওয়াংচুকও যুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘ অনশন করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সরকারের কাছ থেকে লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি অনশন শেষ করেন।
ফলে সোনম ওয়াংচুকের মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন মূলত দুটি প্রশ্নকে সামনে আনছে—একদিকে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তরুণ নেতাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা, অন্যদিকে একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের কতটা অংশ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। অভিজিৎ দীপকের বক্তব্য, পুরো বক্তব্য শুনলে সোনমের মন্তব্যকে শুধুমাত্র সমালোচনা হিসেবে দেখা যায় না। অন্যদিকে সোনমের মূল বক্তব্যে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সম্ভাবনার পাশাপাশি আন্দোলনের অরাজনৈতিক চরিত্র বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট ছিল। ফলে ভাইরাল ক্লিপের বাইরে সম্পূর্ণ বক্তব্যের প্রেক্ষাপটই এখন এই বিতর্ক বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


