পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর দেশজুড়ে চলা আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে। এবার ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করছেন। তাঁর দাবি, সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন যাতে থেমে না যায় এবং আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য অক্ষুণ্ণ থাকে, সেই কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলনের ২১তম দিনে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে পুলিশ ও চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পরই অভিজিৎ দীপকে আন্দোলনকারীদের সামনে ঘোষণা করেন যে, তিনি অবিলম্বে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসছেন এবং ওয়াংচুকের আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
অভিজিৎ দীপকে বলেন, আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের প্রতিবাদ চলবে। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের মাধ্যমে যে বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলির প্রতি সরকারকে গুরুত্ব সহকারে নজর দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য, কোনও একজন ব্যক্তিকে সরিয়ে দিলেই আন্দোলন শেষ হয়ে যায় না; বরং আদর্শ ও দাবিগুলিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ আরও দাবি করেছে, পুরো প্রক্রিয়া আইন মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিজিৎ দীপকের অনশন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আন্দোলনস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এক মহিলা তাঁর দিকে কালি সদৃশ তরল ছুড়ে মারেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, অনশন কর্মসূচির পাশাপাশি পূর্বঘোষিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিও নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীতে সম্ভাব্য বিক্ষোভের কথা মাথায় রেখে দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যারিকেড, নজরদারি এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহল থেকেও প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। সমাজকর্মী আন্না হাজারে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দ্রুত আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সোনম ওয়াংচুকের হাসপাতাল ভর্তি হওয়ার পর অভিজিৎ দীপকের অনশন আন্দোলনকে নতুন গতি দিয়েছে। এখন সরকারের সঙ্গে আলোচনার কোনও সম্ভাবনা তৈরি হয় কি না এবং আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে। একইসঙ্গে অনশনরতদের শারীরিক অবস্থার ওপরও চিকিৎসকরা নিয়মিত নজর রাখছেন।
সব মিলিয়ে, সোনম ওয়াংচুকের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর অভিজিৎ দীপকের অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু হওয়ায় আন্দোলন নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবিতে অনড় থাকার বার্তা দিয়েছেন, অন্যদিকে প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েকদিনে এই আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর সারা দেশের।


