Saturday, September 19, 2026

Creating liberating content

বিশ্বকর্মা পুজোয় কর্মস্থলে এই...

বিশ্বকর্মা পুজো ২০২৬ পালিত হচ্ছে ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান...

জোড়াফুল ছাড়া কোন প্রতীকে...

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীক ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের...

আরও পাঁচ বছর টাটা...

টাটা গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড়সড় পরিবর্তনের জল্পনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল টাটা সন্সের...

ত্রাণের নৌকায় উঠতে হুড়োহুড়ি,...

মালদার ভুতনিতে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে ত্রাণের জন্য বানভাসি মানুষের হাহাকার আরও একবার প্রকাশ্যে...
HomeবাংলাJPSC বাতিলে হাইকোর্টের...

JPSC বাতিলে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ, ক্ষুব্ধ ছাত্রনেতারা

ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে চলতে থাকা বিতর্ক আরও জটিল হয়ে উঠল। একদিকে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন ছাত্রছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার ১১তম ও ১৩তম Jharkhand Public Service Commission বা JPSC-এর পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তে এবার স্থগিতাদেশ জারি করেছে ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট। আদালতের এই নির্দেশের পর নতুন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারী ছাত্রনেতারা। তাঁদের অভিযোগ, সরকার পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে তাঁদের পাশে থাকার কথা বললেও আদালতে নিজেদের সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে defend করতে পারেনি। ফলে তাঁরা নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন এবং আন্দোলনের নতুন পর্ব শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। 

হাই কোর্টের এই নির্দেশে একদিকে যেমন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদনকারী চাকরিপ্রার্থীদের সাময়িক স্বস্তি মিলেছে, অন্যদিকে সরকারের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। কারণ যে ছাত্রদের দাবির চাপে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তারাই এবার সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের বক্তব্য, যদি সরকার সত্যিই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চায়, তাহলে আদালতে সেই অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরা উচিত ছিল।

## কী নিয়ে শুরু হয়েছিল আন্দোলন?

ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। JPSC এবং Jharkhand Staff Selection Commission বা JSSC-এর একাধিক পরীক্ষায় অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব এবং পরীক্ষাপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা। আন্দোলন ধীরে ধীরে বড় আকার নেয় এবং ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। 

অভিযোগের মধ্যে ছিল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, সরকারি চাকরির মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে যেসব পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও সামনে আসে।

ক্রমশ আন্দোলনের চাপ বাড়তে থাকে। ছাত্ররা শুধু পরীক্ষা বাতিলের দাবি করেননি, তাঁরা সরকারের জবাবদিহি এবং ভবিষ্যতের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছ ব্যবস্থার দাবিও তোলেন।

## তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন

ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলন কয়েকদিনের মধ্যে থেমে যায়নি। টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে রাঁচি-সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ কর্মসূচি চলতে থাকে। আন্দোলনকারীরা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন এবং নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের দায় নিয়ে সরকারের জবাবদিহি দাবি করেন।

১৫ আগস্ট ছাত্ররা Tiranga Yatra-ও বের করেছিলেন। এরপর ২০ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। 

এই দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে রাজ্য সরকারের উপর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপও বাড়তে থাকে। বিরোধী দলগুলিও ছাত্রদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করে। এমনকি জোটের শরিক কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীও মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে চিঠি লিখে আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার আবেদন জানিয়েছিলেন। 

## আন্দোলনের চাপে পরীক্ষার বাতিল ঘোষণা

দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৭ আগস্ট ঝাড়খণ্ড সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ঘোষণা করেন, TDPL-এর মাধ্যমে পরিচালিত সমস্ত নিয়োগ পরীক্ষা এবং সেই পরীক্ষার ফল বাতিল করা হবে। পাশাপাশি TDPL-এর মাধ্যমে হওয়া নিয়োগগুলিও বাতিল করার কথা জানানো হয়। ২০১৪ সাল থেকে ওই সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষায় কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে CID তদন্তের কথাও ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি অভিযোগগুলির পৃথক তদন্তের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়।

সরকারের এই সিদ্ধান্তে আন্দোলনকারীদের মধ্যে সাময়িকভাবে স্বস্তি তৈরি হয়েছিল। কারণ তাঁদের অন্যতম দাবি ছিল অনিয়মের অভিযোগ থাকা নিয়োগ পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

কিন্তু পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যায়।

## JPSC নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তে আদালতের হস্তক্ষেপ

সরকার ১১তম থেকে ১৩তম JPSC পরীক্ষা এবং Food Safety Officer পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কিছু চাকরিপ্রার্থী আদালতের দ্বারস্থ হন।

মামলার শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট সরকারের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেয়। এর ফলে বাতিলের সরকারি নির্দেশ আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। প্রায় ৪৫০ জন প্রার্থী এই আদালতের নির্দেশের ফলে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫৪ জন Food Safety Officer-ও রয়েছেন। 

আদালতের এই পদক্ষেপের পরই নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়। কারণ সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাঁরা আদালতে গিয়েছিলেন, তাঁরা এখন আপাতত স্বস্তি পেলেও আন্দোলনকারী ছাত্রদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

## ছাত্রনেতাদের অভিযোগ, সরকার ‘প্রতারণা’ করেছে

হাই কোর্টের স্থগিতাদেশের পর আন্দোলনকারী ছাত্রনেতাদের একাংশ সরাসরি হেমন্ত সোরেন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকার আন্দোলনের সময় তাঁদের দাবি মেনে নেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু আদালতে সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থান নেয়নি।

ছাত্রনেতাদের বক্তব্যের মূল প্রশ্ন হল—সরকার যদি মনে করে থাকে যে JPSC-এর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় অনিয়ম হয়েছে, তাহলে আদালতে সেই অনিয়মের প্রমাণ এবং তদন্তের প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে তুলে ধরা হল না কেন?

এই প্রশ্ন থেকেই তাঁদের মধ্যে সরকারের প্রতি অবিশ্বাস আরও বেড়েছে। তাঁদের মতে, সরকার আন্দোলন থামানোর জন্য সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিল, কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত আইনি লড়াইয়ে কতটা প্রস্তুত ছিল, তা এখন প্রশ্নের মুখে।

তাই ছাত্রনেতারা নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন এবং জানিয়েছেন, তাঁদের লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। বরং আদালতের নির্দেশের পর আন্দোলনের নতুন পর্ব শুরু হতে পারে। 

## সরকারের সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ

হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ হেমন্ত সোরেন সরকারের জন্য নিঃসন্দেহে একটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। কারণ একদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগের জবাব দিতে হবে, অন্যদিকে আদালতে সরকারি সিদ্ধান্তের বৈধতা ও ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা কাজ করবে। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এর আগে আন্দোলনরত ছাত্রদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে JPSC এবং JSSC-এর মতো নিয়োগকারী সংস্থার পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আরও বাড়ানো হবে। তিনি আরও বলেছিলেন, প্রকৃত মেধাবীরা যাতে কোনও ধরনের অনিয়মের কারণে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা হবে। 

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু ভবিষ্যতের পরীক্ষায় সংস্কারের আশ্বাস যথেষ্ট নয়। পুরনো পরীক্ষার অভিযোগ এবং ইতিমধ্যে হওয়া নিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান প্রয়োজন।

## চাকরিপ্রার্থীদের দুই ধরনের উদ্বেগ

বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝাড়খণ্ডের চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যেও দুই ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একদল মনে করছেন, অনিয়মের অভিযোগ থাকা পরীক্ষার ফল ও নিয়োগ বাতিল হওয়া উচিত এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। অন্যদিকে, যাঁরা ইতিমধ্যে ওই পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল।

সরকারের বাতিলের সিদ্ধান্ত তাঁদের চাকরি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছিল। হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ আপাতত তাঁদের জন্য স্বস্তি এনেছে। কিন্তু পুরো বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। আদালতের পরবর্তী শুনানি এবং মামলার ফলের উপর অনেকটাই নির্ভর করবে তাঁদের ভবিষ্যৎ।

এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র পরীক্ষার্থীদের একটি অংশকে স্বস্তি বা অসন্তোষ দেয় না; এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে থাকে ইতিমধ্যে চাকরি পাওয়া প্রার্থীদের ভবিষ্যৎও।

## আন্দোলনে নতুন মোড়

হাই কোর্টের নির্দেশের পর ছাত্র আন্দোলন নতুন মোড় নিতে পারে। এর আগে আন্দোলনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান-বিক্ষোভ, মিছিল এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। এক পর্যায়ে বিধানসভা অভিযানও হয়, যার পর বহু আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের খবর সামনে আসে। 

পুলিশি পদক্ষেপ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপও বাড়ে। 

এই পটভূমিতে JPSC নিয়ে আদালতের নতুন নির্দেশ ছাত্রদের আন্দোলনকে ফের সক্রিয় করে তুলতে পারে। তাঁদের মূল দাবি এখন শুধু পরীক্ষা বাতিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং সরকারের জবাবদিহির দিকে আরও বেশি কেন্দ্রীভূত হতে পারে।

## দুই মাসের সময়সীমার প্রসঙ্গও গুরুত্বপূর্ণ

ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সরকার কিছু দাবি মেনে নেওয়ার পর আন্দোলনকারীদের একাংশ সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে সরকারকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কার ও অন্যান্য দাবির বাস্তবায়ন করতে হবে বলে তাঁরা জানিয়ে দিয়েছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দুই মাসের সময়সীমার কথাও উঠে এসেছে। 

অর্থাৎ ছাত্রদের আন্দোলন পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বরং সরকার বাস্তবে কী পদক্ষেপ নেয়, তার উপর ভবিষ্যতের আন্দোলনের দিক অনেকটাই নির্ভর করছে।

## রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে

JPSC ও JSSC নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে তৈরি হওয়া আন্দোলন এখন আর শুধুমাত্র চাকরিপ্রার্থীদের বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও এই ইস্যুকে সামনে রেখে হেমন্ত সোরেন সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাচ্ছে।

বিজেপি ইতিমধ্যেই ছাত্র আন্দোলন এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলটির নেতারা CBI তদন্তের দাবিও তুলেছেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে যুবসমাজের ক্ষোভকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। 

অন্যদিকে কংগ্রেসের মতো জোটসঙ্গী দলের পক্ষ থেকেও আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

## এখন নজর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপে

বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আদালতের পরবর্তী শুনানি এবং সরকার কীভাবে এই মামলায় নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে। হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ আপাতত সরকারের বাতিলের সিদ্ধান্তকে কার্যকর হওয়া থেকে আটকে দিয়েছে। তবে এটি চূড়ান্ত রায় নয়।

ফলে JPSC-এর ১১তম ও ১৩তম পরীক্ষার ভবিষ্যৎ, সংশ্লিষ্ট নিয়োগের বৈধতা এবং অনিয়মের অভিযোগ—সবকিছু নিয়েই আইনি প্রক্রিয়া চলবে।

একইসঙ্গে ছাত্র আন্দোলনও কোন পথে এগোয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আন্দোলনকারীরা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা তাঁদের দাবিতে অনড়। আদালতের নির্দেশ তাঁদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ঝাড়খণ্ডের JPSC নিয়োগ বিতর্ক এখন তিনটি স্তরে পৌঁছে গিয়েছে—**আদালতের লড়াই, ছাত্র আন্দোলন এবং সরকারের রাজনৈতিক চাপ।** সরকার একদিকে অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত ও ভবিষ্যতের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার আশ্বাস দিচ্ছে, অন্যদিকে আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে পূর্বের বাতিলের সিদ্ধান্ত আপাতত প্রশ্নের মুখে। ছাত্রনেতারা অভিযোগ করছেন, সরকার তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং আদালতে নিজেদের সিদ্ধান্ত যথেষ্ট শক্তভাবে তুলে ধরেনি।

এখন দেখার বিষয়, সরকার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপে কী অবস্থান নেয় এবং আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে নতুন করে কীভাবে আলোচনা করে। একইসঙ্গে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে ১১তম ও ১৩তম JPSC পরীক্ষার মাধ্যমে হওয়া নিয়োগের ভবিষ্যৎ। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখনই থামছে না।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

বিশ্বকর্মা পুজোয় কর্মস্থলে এই ভুলগুলি একেবারেই নয়

বিশ্বকর্মা পুজো ২০২৬ পালিত হচ্ছে ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান বিশ্বকর্মা হলেন দেবশিল্পী ও নির্মাণকৌশলের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা। কারখানা, ওয়ার্কশপ, দোকান, অফিস, গ্যারাজ, নির্মাণক্ষেত্র এবং বিভিন্ন কর্মস্থলে এই দিনে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। যাঁরা যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি,...

জোড়াফুল ছাড়া কোন প্রতীকে লড়বে মমতা-ঋতব্রত শিবির

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীক ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই শিবিরের মধ্যে টানাপড়েন ক্রমেই জটিল আকার নিয়েছে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—শেষ পর্যন্ত কোন শিবির ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার...

আরও পাঁচ বছর টাটা সন্সের চেয়ারম্যান থাকছেন এন চন্দ্রশেখরন

টাটা গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড়সড় পরিবর্তনের জল্পনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল টাটা সন্সের পরিচালন পর্ষদ। এন চন্দ্রশেখরনকে আরও পাঁচ বছরের জন্য টাটা সন্সের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান পদে পুনর্নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত বোর্ড বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.