Thursday, August 20, 2026

Creating liberating content

বন্যা রুখতে আরামবাগে মাস্টার...

বর্ষার শুরু থেকেই বারবার বন্যার আশঙ্কায় ভুগতে হয় হুগলির আরামবাগ মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকার...

ট্রেনে মদ নিয়ে যাওয়া...

ভারতীয় রেলে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ যাতায়াত করেন। দূরপাল্লার ট্রেনে এক রাজ্য থেকে...

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংকট চরমে,...

বাংলাদেশে ফের ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ সংকট। গ্যাস ও LNG সরবরাহে ঘাটতি,...

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষ নিয়ে...

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে মুখ খুললেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী...
Homeবাংলারাতবিরেতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাস্থ্যমন্ত্রী,...

রাতবিরেতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, পরীক্ষা ওষুধের স্টক

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার মান খতিয়ে দেখতে এবার আচমকা রাতের অন্ধকারেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হাজির হলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ পূর্ব বর্ধমানের বড়শুল ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাঁর এই আকস্মিক পরিদর্শন ঘিরে রীতিমতো চাঞ্চল্য তৈরি হয়। কোনও আগাম খবর ছাড়াই মন্ত্রী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে যাওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের অনেকেই প্রথমে অবাক হয়ে যান। জেলা স্বাস্থ্য দফতর কিংবা পুলিশ—কাউকেই আগে থেকে তাঁর সফরের বিষয়ে জানানো হয়নি। ফলে মন্ত্রীর এই আচমকা পরিদর্শনকে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার বাস্তব চিত্র সরাসরি বোঝার উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল ফেরানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই সরকারি হাসপাতাল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে রোগীরা ঠিকমতো চিকিৎসা ও অন্যান্য পরিষেবা পাচ্ছেন কি না, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিয়মিত সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করছেন। এবার সেই ধারাবাহিকতায় পূর্ব বর্ধমানের বড়শুল ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রাতের বেলায় হঠাৎ পৌঁছে গেলেন তিনি।

## আচমকা মন্ত্রীর আগমনে চমকে যান চিকিৎসক-নার্সরা

বৃহস্পতিবার রাতে বড়শুল ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যখন স্বাভাবিক নিয়মে চিকিৎসা পরিষেবা চলছিল, ঠিক সেই সময় আচমকাই সেখানে পৌঁছন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কোনও পূর্বঘোষণা না থাকায় মন্ত্রীর আগমনের জন্য আলাদা কোনও প্রস্তুতিও ছিল না। মন্ত্রীকে সরাসরি ওয়ার্ডে ঢুকতে দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা কার্যত অবাক হয়ে যান।

সাধারণত কোনও মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিক হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। সেই অনুযায়ী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নথিপত্র কিংবা অন্যান্য প্রশাসনিক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তেমন কোনও সুযোগ ছিল না। ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যে পরিষেবা প্রতিদিনের মতোই চলছে, তার বাস্তব চিত্র দেখার সুযোগ পান মন্ত্রী।

এই ধরনের surprise inspection-এর অন্যতম উদ্দেশ্য হল, হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা। আগাম খবর না থাকলে চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি রোগীদের কাছ থেকেও সরাসরি পরিষেবা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়। বড়শুলে ঠিক সেই পদ্ধতিতেই বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। 

## জরুরি বিভাগ থেকে ইনডোর—সব জায়গায় পরিদর্শন

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছেই কোনও নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকেননি মন্ত্রী। তিনি জরুরি বিভাগ এবং ইনডোর বিভাগ ঘুরে দেখেন। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, ভর্তি থাকা রোগী এবং তাঁদের পরিজনদের সঙ্গে কথা বলেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীরা কী ধরনের পরিষেবা পাচ্ছেন, কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার বাস্তব অবস্থা কেমন—তা বোঝার চেষ্টা করেন তিনি।

রোগীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর আচরণও ছিল যথেষ্ট স্বাভাবিক। রোগীদের আত্মীয়দের সঙ্গে হাত মেলানো এবং তাঁদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। এর ফলে পরিদর্শনটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক পর্যালোচনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; রোগীদের অভিজ্ঞতাও সরাসরি জানার চেষ্টা করেছেন মন্ত্রী। 

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক এবং নার্সদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। কোথায় পরিষেবা ভালো হচ্ছে, কোথায় ঘাটতি রয়েছে—সেই বিষয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। একটি নার্সের কাজের প্রশংসা করে তাঁর পিঠ চাপড়ে দেওয়ার ঘটনাও নজরে আসে। 

## ফ্রিজার খুলে ওষুধ এবং ভ্যাকসিন পরীক্ষা

মন্ত্রীর পরিদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মজুত ওষুধ এবং ভ্যাকসিন পরীক্ষা করা। তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফ্রিজার খুলে সেখানে রাখা ওষুধ ও ভ্যাকসিন খতিয়ে দেখেন। সেগুলি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না, তার দিকে নজর দেন তিনি।

শুধু ফ্রিজারে থাকা ওষুধই নয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্যত্র থাকা ওষুধের প্যাকেটও পরীক্ষা করেন। কোনও ওষুধের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে কি না কিংবা প্যাকেটে কোনও ধরনের ত্রুটি রয়েছে কি না, তা খুঁটিয়ে দেখেন তিনি। 

সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীদের জন্য বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ওষুধের stock management এবং expiry date নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কোনও expired medicine যাতে রোগীর কাছে না পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করা স্বাস্থ্য প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে এই বিষয়টির উপর বিশেষ নজর দেওয়ায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওষুধ ব্যবস্থাপনার বাস্তব পরিস্থিতিও সামনে আসে।

## হাসপাতালের রেজিস্টার ও নথিও খতিয়ে দেখলেন

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নজর শুধু চিকিৎসা পরিষেবা কিংবা ওষুধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিভিন্ন রেজিস্টার এবং প্রশাসনিক নথিও পরীক্ষা করেন। হাসপাতালের নিয়মিত কাজকর্ম, রোগী পরিষেবা এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে নথিভুক্ত হচ্ছে কি না, তা বোঝার জন্য এই ধরনের রেজিস্টার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আচমকা পরিদর্শনের ফলে নথিপত্রও আগাম প্রস্তুত করে রাখার সুযোগ ছিল না। ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দৈনন্দিন প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক ছবি মন্ত্রীর সামনে উঠে আসে। 

স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে শুধু চিকিৎসক বা ওষুধ থাকলেই হয় না। রোগী ভর্তি, চিকিৎসা, ওষুধ বিতরণ, জরুরি পরিষেবা এবং অন্যান্য কার্যক্রমের যথাযথ রেকর্ড রাখা প্রয়োজন। সেই দিক থেকেও মন্ত্রীর নথি পরীক্ষা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

## চিকিৎসা ও নার্সিং পরিষেবায় খুশি মন্ত্রী

পরিদর্শন শেষে বড়শুল ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা ও নার্সিং পরিষেবা নিয়ে মোটের উপর সন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানে চিকিৎসা পরিষেবা এবং নার্সিং ব্যবস্থা ভালো রয়েছে। তবে একইসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতির কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।

মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে **পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে আরও নজর দেওয়া প্রয়োজন**। তাঁর মতে, সাফাইয়ের কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না এবং সেটি দ্রুত ঠিক করা দরকার। অর্থাৎ চিকিৎসা পরিষেবা সন্তোষজনক হলেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের hygiene এবং cleanliness-এর ক্ষেত্রে আরও উন্নতি প্রয়োজন বলে মনে করেছেন তিনি। 

হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিচ্ছন্নতা রোগী পরিষেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চিকিৎসা চলাকালীন রোগীদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। বিশেষ করে ইনডোর বিভাগ, জরুরি বিভাগ এবং ওষুধ সংরক্ষণের জায়গাগুলিতে পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

## পুরনো স্মৃতিও মনে করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বড়শুল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত স্মৃতিও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তিনি জানান, একসময় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক কোয়ার্টারে তিনি বহুবার থেকেছেন। ফলে জায়গাটির সঙ্গে তাঁর পুরনো পরিচিতিও রয়েছে।

এই কারণে বর্তমান পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখার অভিজ্ঞতাটি তাঁর কাছে কিছুটা আলাদা বলেই মনে করা হচ্ছে। আগে যে জায়গার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল, দায়িত্ব পাওয়ার পর সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বর্তমান পরিষেবার অবস্থা খতিয়ে দেখতে রাতের বেলায় পৌঁছে যাওয়া তাৎপর্যপূর্ণ। 

## Surprise Inspection কেন গুরুত্বপূর্ণ?

সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ নতুন নয়। চিকিৎসক না থাকা, নার্সের ঘাটতি, ওষুধের সমস্যা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব কিংবা পরিষেবা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার মতো বিভিন্ন অভিযোগ মাঝেমধ্যেই সামনে আসে। এই পরিস্থিতিতে surprise inspection প্রশাসনের কাছে বাস্তব সমস্যা বোঝার একটি কার্যকর উপায় হতে পারে।

আগাম পরিদর্শনের খবর থাকলে কোনও হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র সাময়িকভাবে নিজেদের পরিষেবা ও পরিকাঠামো সাজিয়ে নিতে পারে। কিন্তু আচমকা পরিদর্শনের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ থাকে না। ফলে রোগী এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা তুলনামূলকভাবে সহজ হয়।

বড়শুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর রাতের এই পরিদর্শন সেই দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শুধু আধিকারিকদের বক্তব্য শোনেননি; বরং নিজে ওয়ার্ডে গিয়ে রোগী, চিকিৎসক এবং নার্সদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ওষুধের stock পরীক্ষা করেছেন এবং নথিপত্রও খতিয়ে দেখেছেন।

## পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি দ্রুত মেটানোর বার্তা

পরিদর্শনের শেষে মন্ত্রী যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, সেটি হল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিচ্ছন্নতা। চিকিৎসা ও নার্সিং পরিষেবা ভালো থাকলেও যদি হাসপাতালের পরিবেশ পরিষ্কার না থাকে, তাহলে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মী উভয়ের জন্যই সমস্যা তৈরি হতে পারে।

তাই বড়শুল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ক্ষেত্রে এবার সাফাই ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার দিকে নজর দিতে হবে। মন্ত্রীর পর্যবেক্ষণের পর স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

এতে একটি বিষয়ও স্পষ্ট—সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মূল্যায়ন শুধু চিকিৎসক উপস্থিত রয়েছেন কি না বা রোগী দেখা হচ্ছে কি না, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ওষুধের মেয়াদ, vaccine storage, নথিপত্র, nursing service এবং cleanliness—সবকিছুকেই পরিষেবার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

## রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ছে

নতুন সরকারের আমলে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে বারবার দাবি করা হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে জেলা হাসপাতাল—সব স্তরেই রোগীরা যাতে প্রয়োজনীয় পরিষেবা পান, সেটাই লক্ষ্য।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিয়মিত হাসপাতাল পরিদর্শন সেই নজরদারি ব্যবস্থারই অংশ। পূর্ব বর্ধমানের বড়শুল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রাতের surprise visit সেই ধারাবাহিকতায় নতুন সংযোজন। 

তবে শুধু পরিদর্শন করলেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সব সমস্যা দূর হবে না। পরিদর্শনের সময় চিহ্নিত সমস্যাগুলি কত দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে, তার উপরও নজর রাখতে হবে। বড়শুলে পরিচ্ছন্নতার ঘাটতির যে বিষয়টি উঠে এসেছে, সেটি দ্রুত সংশোধন করা গেলে surprise inspection-এর উদ্দেশ্যও আরও কার্যকর হবে।

সব মিলিয়ে, পূর্ব বর্ধমানের বড়শুল ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর রাতের আচমকা পরিদর্শন সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নজরদারি জোরদার করার বার্তাই দিয়েছে। রাত ৯টার সময় কোনও পূর্ববার্তা ছাড়াই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে জরুরি বিভাগ ও ইনডোর ঘুরে দেখা, রোগীদের সঙ্গে কথা বলা, চিকিৎসক-নার্সদের পরিষেবা পর্যবেক্ষণ, ফ্রিজার খুলে ওষুধ ও ভ্যাকসিন পরীক্ষা এবং বিভিন্ন রেজিস্টার খতিয়ে দেখার মাধ্যমে মন্ত্রী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামগ্রিক পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেছেন। চিকিৎসা ও নার্সিং পরিষেবা নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি দ্রুত দূর করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যের আরও সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কি এমন surprise inspection চালানো হবে? যদি নিয়মিতভাবে এই ধরনের নজরদারি হয় এবং পরিদর্শনে উঠে আসা সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান করা যায়, তাহলে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার মান আরও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

বন্যা রুখতে আরামবাগে মাস্টার প্ল্যান, বরাদ্দ ১২০০ কোটি

বর্ষার শুরু থেকেই বারবার বন্যার আশঙ্কায় ভুগতে হয় হুগলির আরামবাগ মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষকে। প্রবল বৃষ্টি, নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং জলাধার থেকে জল ছাড়ার ফলে প্রতি বছরই আরামবাগ ও সংলগ্ন অঞ্চলে তৈরি হয় জলমগ্ন পরিস্থিতি। চলতি বছরেও পরিস্থিতির ব্যতিক্রম...

ট্রেনে মদ নিয়ে যাওয়া কি বৈধ? জানুন রেলের নিয়ম

ভারতীয় রেলে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ যাতায়াত করেন। দূরপাল্লার ট্রেনে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়ার সময় অনেকেরই সঙ্গে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র থাকে। এর মধ্যে পোশাক, খাবার, প্রসাধনী থেকে শুরু করে কখনও কখনও অ্যালকোহল বা মদও...

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংকট চরমে, বাড়ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং

বাংলাদেশে ফের ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ সংকট। গ্যাস ও LNG সরবরাহে ঘাটতি, বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির সংকট এবং চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ—সব মিলিয়ে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার বাইরে বিভিন্ন গ্রামীণ ও মফস্বল...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.