পশ্চিমবঙ্গের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)। আগামী মাধ্যমিক পরীক্ষাকে সামনে রেখে পরীক্ষায় বসার যোগ্যতার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে পর্ষদ। এই পরিবর্তনের ফলে নির্দিষ্ট বয়সের নিচে থাকা কোনও শিক্ষার্থী আর মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। একইসঙ্গে স্কুলগুলিকেও ছাত্রছাত্রীদের নথিপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পর্ষদের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, **যেসব শিক্ষার্থীর জন্মতারিখ ৩১ অক্টোবর ২০১২-এর পরে, তারা ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।** অর্থাৎ নির্ধারিত বয়সসীমার আগে কোনও ছাত্রছাত্রীকে পরীক্ষায় বসানোর সুযোগ থাকবে না। স্কুল কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই নিয়মের বাইরে থাকা কোনও শিক্ষার্থীর নাম পর্ষদে পাঠানো যাবে না।
এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে রাজ্য সরকারের পূর্ববর্তী শিক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশিকা। ১৯৯১ এবং ২০০৫ সালে জারি হওয়া সরকারি আদেশ অনুযায়ী নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই নীতিকেই আরও কার্যকর করতে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষার যোগ্যতার ক্ষেত্রেও বয়সের বিষয়টি কঠোরভাবে প্রয়োগ করছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।
শুধু বয়সসীমা নয়, পর্ষদের এই নতুন নির্দেশিকায় আরও একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এবার থেকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলি তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রথম ভাষা (First Language) নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বাধীনতা পাবে। এর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষাগত চাহিদা অনুযায়ী স্কুলগুলি সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত বয়সের আগেই ছাত্রছাত্রীদের উচ্চতর শ্রেণিতে তুলে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল। এর ফলে পরীক্ষার সময় মানসিক ও শারীরিক পরিপক্বতা নিয়ে প্রশ্ন উঠত। নতুন এই নিয়ম সেই সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
অন্যদিকে, অভিভাবকদেরও সন্তানের জন্মতারিখ সংক্রান্ত নথি এবং স্কুলে জমা দেওয়া তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ, জন্মতারিখের কোনও অসঙ্গতি থাকলে ভবিষ্যতে পরীক্ষার আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যেতে পারে।
পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য অনলাইন নিবন্ধন ও অন্যান্য প্রশাসনিক কাজের সময় স্কুলগুলিকে শিক্ষার্থীদের জন্মতারিখ, শ্রেণিভিত্তিক তথ্য এবং প্রয়োজনীয় নথি পুনরায় যাচাই করতে হবে। কোনও ভুল তথ্য জমা পড়লে তার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়কেই বহন করতে হতে পারে।
শিক্ষা মহলের মতে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে পরীক্ষা পরিচালনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে। একইসঙ্গে সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান নিয়ম কার্যকর হওয়ায় অপ্রাপ্তবয়স্ক পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা কমবে। এতে রাজ্যের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও শৃঙ্খলা আসবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ হল, শুধুমাত্র পড়াশোনার প্রস্তুতি নয়, নিজের সমস্ত শিক্ষাগত নথিপত্রও আগে থেকেই যাচাই করে রাখা উচিত। জন্মতারিখ, নামের বানান কিংবা রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কোনও ভুল থাকলে দ্রুত স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যতে পরীক্ষার আবেদন বা অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে কোনও জটিলতার সম্ভাবনা থাকবে না।
পর্ষদের এই নতুন নির্দেশিকা আগামী দিনের মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং বিদ্যালয়—সকলেরই এই নিয়মগুলি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।


