মোদীর প্রশংসা করেও কটাক্ষ ট্রাম্পের! প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের
Trump-Modi Clash or Compromise?
শুল্ক ইস্যুতে টানা বাকযুদ্ধ, ভারতকে একের পর এক কটাক্ষে বিদ্ধ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এবার হোয়াইট হাউস থেকে শোনা গেল ভিন্ন সুর। প্রকাশ্যে মোদীর প্রশংসা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবু আড়ালে কটাক্ষ ছুঁড়তে ভোলেননি। ট্রাম্পের স্পষ্ট ঘোষণা— “মোদী দুর্দান্ত প্রধানমন্ত্রী, আমার বন্ধু। কিন্তু ওনার কিছু সিদ্ধান্ত একেবারেই মানতে পারছি না।”
ট্রাম্প কি পিছু হটলেন? নাকি আরও বড় আঘাতের পরিকল্পনা করছেন?
রাশিয়া থেকে তেল কেনার প্রসঙ্গে ফের কড়া অবস্থান নিয়েছে ভারত। ঠিক সেই সময়েই তিয়ানজিনে এক ফ্রেমে দেখা গেল মোদী, শি জিনপিং আর পুতিনকে। ভারত-চিন-রাশিয়ার এই ঘনিষ্ঠতায় কি অস্বস্তিতে আমেরিকা? তাহলে কি উদ্বেগ চেপে রাখতে পারছেন না ট্রাম্প?
ট্রাম্পকে একবারও সরাসরি উত্তর দেননি মোদী
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছিলেন— “মনে হচ্ছে, আমরা ভারত আর রাশিয়াকে হারিয়ে ফেলেছি চিনের অন্ধকার গহ্বরে। তবে ওদের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ কামনা করি।” যদিও এভাবে ভারতকে একাধিকবার নিশানা করেছেন ট্রাম্প, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত কয়েক মাসে তাঁর নাম একবারও উচ্চারণ করেননি। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময়ে বাণিজ্য চুক্তির হুমকি দিয়ে যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব ট্রাম্প বারবার নিজের বলে দাবি করলেও, মোদী এ বিষয়ে কখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি।
ভারতের আইটি খাতে আসছে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা!
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করলেও ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের জন্য কঠিন বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর, হোয়াইট হাউস এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে ভাবছে, যাতে আমেরিকার প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে ভারত-সহ বিদেশে আর কাজ আউটসোর্স করার অনুমতি দেওয়া হবে না। অর্থাৎ মার্কিন কোম্পানিগুলি আর ভারতীয় বা বিদেশি কর্মীদের দিয়ে দূর থেকে কাজ করাতে পারবে না।
ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতি কার্যকর করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এর উদ্দেশ্য—আউটসোর্সিং বন্ধ করে আমেরিকানদের জন্য বেশি চাকরির সুযোগ তৈরি করা। তবে এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারতের আইটি সেক্টর সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকায় আউটসোর্সিংয়ের প্রধান কেন্দ্র ভারত, আর সেই জায়গাতেই এবার কোপ নামাতে চলেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের নতুন আইটি নীতি কার্যকর হলে চাপে পড়বে ভারতীয় আইটি খাত। লক্ষ লক্ষ চাকরি চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ধাক্কা শুধুই ভারতের জন্য নয়—ক্ষতির মুখে পড়তে পারে আমেরিকার সংস্থাগুলিও। গুগল, মাইক্রোসফট, আইবিএম-সহ শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কোম্পানিগুলি খরচ বাঁচাতে বছরের পর বছর ভারতীয় আউটসোর্সিংয়ের ওপর নির্ভর করেছে। সেই ভরসাই এবার নড়ে যেতে পারে।




