Sunday, September 27, 2026

Creating liberating content

28 दिन की रिचार्ज...

भारत में प्रीपेड मोबाइल उपभोक्ताओं के लिए रिचार्ज व्यवस्था में महत्वपूर्ण बदलाव की...

মৃত্যুকামনার মন্তব্যে নতুন রাজনৈতিক...

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র প্রতিষ্ঠাতা...

শি জিনপিংকে ঘিরে মেলানিয়ার...

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংর সঙ্গে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পর একটি মুহূর্ত ঘিরে...

ব্রাজিল ম্যাচের আগে সতর্ক...

ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে বিরল এক অধ্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে ব্লু টাইগার্স। আগামী ৩ অক্টোবর...
Homeবাংলাহরমুজে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ,...

হরমুজে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ, ট্রাম্পের দাবিতে তীব্র উত্তেজনা

পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের আবহে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে **হরমুজ প্রণালী**। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের উপর এখন আমেরিকার “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি এবং অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। 

তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে ইরান। তেহরানের বক্তব্য, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির উপর এখনও ইরানের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ”-এর দাবি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে জলপথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। 

## হরমুজ প্রণালী কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এই সরু জলপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই কারণে হরমুজ প্রণালীতে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যুদ্ধ বা সামরিক উত্তেজনার কারণে জাহাজ চলাচল কমে গেলে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়, বাড়তে পারে পরিবহণ খরচ এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এই জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধের আগের তুলনায় নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। আল জাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার মাত্র **আটটি জাহাজ** হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। 

## কী বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?

ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর Truth Social পোস্টে দাবি করেছেন, **“হরমুজ প্রণালীর উপর আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।”** তাঁর বক্তব্যে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, আমেরিকার সামরিক শক্তির কারণে ইরানের পক্ষে এই পরিস্থিতিকে আগের মতো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। 

এর আগে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে মার্কিন সামরিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি এমনও দাবি করেছেন যে মার্কিন বাহিনী জলপথটির বিভিন্ন অংশে মাইন অপসারণের কাজ করেছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ নিরাপদ করার চেষ্টা করছে। 

ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ওয়াশিংটন শুধু ইরানের উপর সামরিক চাপ তৈরি করতে চাইছে না, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের কার্যক্রমেও নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

## ইরানের পাল্টা অবস্থান কী?

ট্রাম্পের বক্তব্যের পরই ইরানের পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তেহরানের বক্তব্য, আমেরিকা হরমুজের উপর “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” প্রতিষ্ঠা করেছে—এই দাবি অতিরঞ্জিত।

ইরানের অবস্থান হল, জলপথটি স্বাভাবিকভাবে চালু করার প্রশ্নটি তাদের সঙ্গে চলা আলোচনার সঙ্গে যুক্ত। আমেরিকার সামরিক চাপ এবং অবরোধ চলতে থাকলে হরমুজ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না বলেই ইরান জানিয়েছে। 

ফলে পরিস্থিতি এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে আমেরিকা বলছে তারা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, অন্যদিকে ইরান বলছে জলপথের উপর তাদের প্রভাব এখনও রয়েছে।

## বাস্তবে কতটা স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল?

ট্রাম্পের “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ”-এর দাবির পাশাপাশি বাস্তব জাহাজ চলাচলের পরিসংখ্যানও গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ সংস্থাগুলি এখনও হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে অত্যন্ত সতর্ক। যুদ্ধ, সম্ভাব্য মাইন, ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার আশঙ্কা এবং উচ্চ যুদ্ধবিমা খরচের কারণে বহু জাহাজ স্বাভাবিক রুট এড়িয়ে চলছে।

আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করত, সেখানে মঙ্গলবার মাত্র আটটি জাহাজ পার হয়েছে। অর্থাৎ সামুদ্রিক বাণিজ্য এখনও স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। 

এই পরিসংখ্যানই দেখাচ্ছে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে সামরিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাস্তব বাণিজ্যিক নিরাপত্তার প্রশ্নটিও এখনও বড় হয়ে রয়েছে।

## ‘কন্ট্রোল’ মানেই কি পুরোপুরি খোলা?

এখানেই ট্রাম্পের দাবিকে ঘিরে মূল বিতর্ক।

কোনও জলপথের উপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং সেই জলপথে অবাধ ও নিরাপদ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এক বিষয় নয়। বর্তমানে হরমুজে জাহাজ চলাচল অত্যন্ত সীমিত। ফলে আমেরিকা সামরিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও জলপথটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে বলা যাচ্ছে না।

এই কারণেই ট্রাম্পের দাবির পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পরিসংখ্যানও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। 

## মার্কিন নৌবাহিনীর ভূমিকা

হরমুজ সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। ওয়াশিংটনের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ তৈরি করতে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে চাপ বজায় রাখতে সক্রিয় রয়েছে।

ট্রাম্প এই সামরিক অবস্থানকে “শক্তির প্রদর্শন” হিসেবেই তুলে ধরছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, আমেরিকা হরমুজকে শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি জলপথ হিসেবে দেখছে না; বর্তমান সংঘাতের কৌশলগত লড়াইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবেও বিবেচনা করছে।

## কেন এত উদ্বেগ জ্বালানি বাজারে?

হরমুজ প্রণালী বন্ধ বা অকার্যকর হয়ে গেলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করে। সেই জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হল হরমুজ। ফলে জাহাজ চলাচল কমে গেলে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

এর প্রভাব পড়তে পারে—

* আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দামে

* জ্বালানি আমদানির খরচে

* জাহাজ চলাচলের বিমা খরচে

* পরিবহণ ব্যয়ে

* বিশ্ববাজারে মুদ্রাস্ফীতির উপর

* তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলির অর্থনীতিতে

এই কারণেই হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে প্রতিটি সামরিক বা কূটনৈতিক পরিবর্তনের দিকে বিশ্ববাজার নজর রাখছে।

## ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলির উদ্বেগ

হরমুজের পরিস্থিতি ভারতীয় অর্থনীতির কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশ। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানির উপর ভারতের উল্লেখযোগ্য নির্ভরতা রয়েছে।

তাই হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব জ্বালানি খরচ, পরিবহণ এবং বৃহত্তর অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।

এশিয়ার অন্যান্য তেল আমদানিকারক দেশগুলিও একই ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

## জাহাজ সংস্থাগুলি কেন ভয় পাচ্ছে?

বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু সামরিক সংঘাতই নয়, **যুদ্ধবিমার খরচ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিও** বাণিজ্যিক জাহাজ সংস্থাগুলির জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হরমুজের মতো সংকীর্ণ জলপথে কোনও সামরিক সংঘাত বা মাইন বিস্ফোরণের আশঙ্কা থাকলে জাহাজ মালিকরা বিকল্প রুট বিবেচনা করতে বাধ্য হন। এতে যাত্রাপথ দীর্ঘ হয় এবং পরিবহণ খরচও বেড়ে যায়।

ফলে একটি জলপথ সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও যদি বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি নিরাপদ মনে না করে, তাহলে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়ে।

## আমেরিকা-ইরান সংঘাতের নতুন মাত্রা

হরমুজকে ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতকে আরও জটিল করেছে।

একদিকে ওয়াশিংটন সামরিক চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে তেহরানও নিজেদের কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে। হরমুজ প্রণালী এই সংঘাতে কার্যত একটি বড় কৌশলগত হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

এর আগে ইরানের পক্ষ থেকেও হরমুজের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দাবি করা হয়েছিল। ফলে দুই দেশের বক্তব্য এখন সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে। 

## শান্তি আলোচনা কি হরমুজ খুলতে পারে?

বর্তমানে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে নজর রয়েছে। কিন্তু হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও যথেষ্ট দূরে।

ইরান চাইছে মার্কিন সামরিক চাপ কমুক এবং তাদের শর্তগুলি বিবেচনা করা হোক। অন্যদিকে আমেরিকা হরমুজকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখার দাবি করছে।

ফলে আলোচনায় অগ্রগতি হলে হরমুজ পরিস্থিতিরও উন্নতি হতে পারে। কিন্তু আলোচনার পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে সংকট আরও দীর্ঘ হতে পারে।

## ট্রাম্পের বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব

ডোনাল্ড ট্রাম্পের “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” মন্তব্যের সামরিক দিকের পাশাপাশি রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে।

নিজের প্রশাসনের সামরিক অবস্থানকে শক্তিশালী হিসেবে তুলে ধরতে এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প বারবার দেখাতে চাইছেন যে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে উদ্যোগী এবং ইরানের উপর চাপ প্রয়োগ করতে সক্ষম।

তবে আন্তর্জাতিক মহলে এই দাবির মূল্যায়ন করতে গিয়ে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বাস্তব জাহাজ চলাচল এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

## ইরানের জন্য হরমুজ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ইরানের জন্য হরমুজ প্রণালী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ। দেশটির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই জলপথের উপর তাদের সামরিক ও ভৌগোলিক প্রভাব রয়েছে।

তাই আমেরিকা যদি এই জলপথে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করে, তাহলে সেটি তেহরানের কাছে সরাসরি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা স্বাভাবিক।

ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করাও সেই বৃহত্তর কৌশলগত অবস্থানেরই অংশ।

## বিশ্বের নজর এখন হরমুজে

হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি শুধু আমেরিকা ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক বিষয় নয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ওমান, কুয়েত, কাতারসহ গোটা উপসাগরীয় অঞ্চল এই পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

এছাড়া ইউরোপ এবং এশিয়ার তেল আমদানিকারক দেশগুলিও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।

কারণ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব জ্বালানি সরবরাহ থেকে শুরু করে বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে পৌঁছতে পারে।

## ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত জোরালো হলেও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ এখনও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।

একদিকে ট্রাম্প বলছেন, আমেরিকার হাতে হরমুজের “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” রয়েছে। অন্যদিকে ইরান সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করছে এবং বাস্তবে জাহাজ চলাচলও যুদ্ধের আগের তুলনায় অনেক কম। 

তাই আগামী দিনে এই জলপথে কতটা নিরাপদ ও স্বাভাবিক বাণিজ্যিক চলাচল ফিরছে, সেটিই হবে ট্রাম্পের দাবির বাস্তব প্রভাব বোঝার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

## সামনে কী হতে পারে?

আগামী দিনগুলিতে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রথমত, আমেরিকা কতদিন এবং কতটা শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখে।

দ্বিতীয়ত, ইরান তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে সরে এসে জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুযোগ বাড়ায় কি না।

তৃতীয়ত, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা কোনও সমাধানের দিকে এগোয় কি না।

এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জাহাজ সংস্থাগুলি আবার নিয়মিতভাবে হরমুজ ব্যবহার শুরু করছে কি না, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

## শেষ কথা

হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের **“সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ”** দাবি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, আমেরিকার সামরিক শক্তি এখন এই কৌশলগত জলপথের উপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে। 

কিন্তু ইরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে বাস্তব জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন ১৩০-১৪০টি জাহাজ পর্যন্ত হরমুজ অতিক্রম করত, সাম্প্রতিক সময়ে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে এক অঙ্কে। 

ফলে হরমুজ নিয়ে এখন মূল প্রশ্ন শুধু **“কে নিয়ন্ত্রণ করছে?”** নয়। বরং প্রশ্ন হল—**কবে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপদ, নিয়মিত এবং নির্বিঘ্ন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ফিরবে?** সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে এই সংকটের পরবর্তী অধ্যায় এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

মৃত্যুকামনার মন্তব্যে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কে হুমায়ুন কবীর

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র প্রতিষ্ঠাতা এবং বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী **শুভেন্দু অধিকারী**কে উদ্দেশ্য করে তাঁর করা মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। সাংবাদিকদের সামনে হুমায়ুন...

শি জিনপিংকে ঘিরে মেলানিয়ার ভিডিও ভাইরাল, জল্পনা তুঙ্গে

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংর সঙ্গে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পর একটি মুহূর্ত ঘিরে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। ওয়াশিংটনে শি জিনপিংয়ের রাষ্ট্রীয় সফরের সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভ্যর্থনা পর্বে করমর্দনকে ঘিরে একটি অস্বস্তিকর মুহূর্ত তৈরি...

ব্রাজিল ম্যাচের আগে সতর্ক আনোয়ার, আত্মবিশ্বাসী ভারত শিবির

ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে বিরল এক অধ্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে ব্লু টাইগার্স। আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে ভারত। তার আগে দলের অন্যতম ভরসাযোগ্য ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি সতীর্থদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.