২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপ এখনও বেশ কিছুটা দূরে হলেও, ভারতীয় ক্রিকেটে এখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে সম্ভাব্য দল নিয়ে আলোচনা। প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক তথা কিংবদন্তি ব্যাটার সুনীল গাভাসকরও সেই আলোচনায় যোগ দিয়ে নিজের পছন্দের ১৫ সদস্যের ভারতীয় স্কোয়াড প্রকাশ করেছেন। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে তৈরি এই দলে যেমন জায়গা পেয়েছেন একাধিক প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটার, তেমনই সুযোগ পেয়েছেন ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় তারকারাও। তবে কয়েকজন পরিচিত মুখকে বাদ দেওয়ায় তাঁর দল ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
গাভাসকরের মতে, আগামী বিশ্বকাপে ভারতের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ক্রিকেটার হলেন শুভমন গিল। গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখেই তিনি গিলের উপর আস্থা রেখেছেন। তাঁর বিশ্বাস, আগামী দিনে ভারতীয় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এই তরুণ ব্যাটারের।
ব্যাটিং বিভাগে গাভাসকর অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছেন। তাঁর দলে রয়েছেন বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার মতো অভিজ্ঞ তারকা, পাশাপাশি শুভমন গিল, সাই সুদর্শন, শ্রেয়স আইয়ার এবং তিলক বর্মার মতো নতুন প্রজন্মের ব্যাটাররাও সুযোগ পেয়েছেন। বড় মঞ্চে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের গুরুত্ব যেমন রয়েছে, তেমনই আগামী দিনের জন্য তরুণদেরও প্রস্তুত করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
অলরাউন্ডারদের ক্ষেত্রেও গাভাসকরের পছন্দে রয়েছে বৈচিত্র্য। হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেল, রবীন্দ্র জাডেজা এবং নীতীশ কুমার রেড্ডির মতো ক্রিকেটারদের তিনি দলে রেখেছেন। তাঁর মতে, আধুনিক একদিনের ক্রিকেটে এমন ক্রিকেটারদের গুরুত্ব অনেক বেশি, যারা ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। বিশেষ করে নক-আউট ম্যাচে অলরাউন্ডাররাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম।
বোলিং বিভাগে গাভাসকরের ভরসা জসপ্রীত বুমরাকে কেন্দ্র করেই। তাঁর সঙ্গে দলে জায়গা পেয়েছেন মহম্মদ সিরাজ, আর্শদীপ সিং এবং হর্ষিত রানা। স্পিন আক্রমণে রয়েছেন জাডেজা ও অক্ষর প্যাটেল। তাঁর মতে, ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ আফ্রিকার মাটিতে হওয়ায় সেখানে গতি ও বাউন্সকে কাজে লাগাতে সক্ষম পেস আক্রমণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তবে গাভাসকরের স্কোয়াডে সবচেয়ে বেশি চমক তৈরি করেছে কয়েকজন বড় নামের অনুপস্থিতি। উইকেটকিপার হিসেবে ঋষভ পন্থ বা সঞ্জু স্যামসনের পরিবর্তে তিনি অন্য বিকল্পের উপর ভরসা দেখিয়েছেন। এছাড়া যশস্বী জয়সওয়ালের মতো কিছু পরিচিত ক্রিকেটারও তাঁর চূড়ান্ত দলে জায়গা পাননি। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্রিকেট মহলে নানা মতামত সামনে এসেছে। কেউ গাভাসকরের দূরদর্শিতার প্রশংসা করছেন, আবার কেউ মনে করছেন বর্তমান ফর্মে থাকা কয়েকজন ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই ২০২৭ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। আগামী এক বছরেরও বেশি সময়ে ক্রিকেটারদের ফর্ম, ফিটনেস, আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্স এবং নির্বাচকদের পরিকল্পনার উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। তবুও গাভাসকরের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারের এমন সম্ভাব্য স্কোয়াড প্রকাশ হওয়ায় আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
উল্লেখ্য, এটি কোনও সরকারি দল নয়, বরং সুনীল গাভাসকরের ব্যক্তিগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি সম্ভাব্য স্কোয়াড। শেষ পর্যন্ত ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপের জন্য ভারতীয় দল নির্বাচন করবে বিসিসিআইয়ের নির্বাচক কমিটি। তবে প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মতামত অনেক সময় নির্বাচনী আলোচনা এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশাকে নতুন দিশা দেখায়। সেই কারণেই গাভাসকরের এই স্কোয়াড ইতিমধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেটমহলে অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।


