সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত মুখ স্যান্ডি সাহা। নানা ধরনের কনটেন্ট এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য মাঝেমধ্যেই খবরের শিরোনামে থাকেন তিনি। এবার নিজের জীবনের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনে চাঞ্চল্য তৈরি করলেন স্যান্ডি। একটি পডকাস্টে গিয়ে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে গুরুতর হেনস্তা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। স্যান্ডির দাবি, ঢাকায় গিয়ে তিনি চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।
স্যান্ডির বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ইনফ্লুয়েন্সার জুটি প্রিন্স মামুন ও লায়লার মধ্যে যখন সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল, তখন বিষয়টি মেটাতে তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্য দিকে মোড় নেয় বলে দাবি তাঁর।
### ‘মামুন ও লায়লার অশান্তি মেটাতেই ঢাকায় গিয়েছিলাম’
পডকাস্টে স্যান্ডি জানান, প্রিন্স মামুন এবং লায়লার সম্পর্কের সমস্যা সম্পর্কে জানার পর তিনি বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকায় যান। তাঁর দাবি, মামুনের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
স্যান্ডির অভিযোগ, একদিন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মামুন তাঁকে অশ্লীলভাবে স্পর্শ করেন। তিনি প্রতিবাদ করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন স্যান্ডি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এরপর তাঁকে মারধর করা হয় এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে প্রিন্স মামুনের কোনও পালটা বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ বর্তমান প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে স্যান্ডির বক্তব্যকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত।
### পেনসিল হিল দিয়ে আঘাতের অভিযোগ
স্যান্ডি আরও দাবি করেছেন, তাঁর উপর হামলার সময় পেনসিল হিল দিয়ে ঘাড়ে আঘাত করা হয়েছিল। এর ফলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন বলে জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আঘাতের কারণে শরীরে ক্ষত তৈরি হয়েছিল এবং পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।
এই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে পডকাস্টে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন স্যান্ডি। সাধারণত হাসি-ঠাট্টা এবং বিনোদনমূলক কনটেন্টের জন্য পরিচিত এই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব নিজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন।
### আরও গুরুতর অভিযোগ স্যান্ডির
শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের পাশাপাশি স্যান্ডি আরও একটি অত্যন্ত গুরুতর দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, নির্যাতনের এক পর্যায়ে মামুন তাঁর মুখে মূত্রত্যাগ করেছিলেন। এই অভিযোগের কথা বলতে গিয়ে নিজের মানসিক যন্ত্রণার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
স্যান্ডির দাবি, ঘটনার পর তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে অস্ত্রোপচারও করতে হয়েছিল। যদিও তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি বা ঘটনার স্বাধীন তদন্তের তথ্য বর্তমান প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়নি। তাই তাঁর এই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
### ‘বারবার ভালোবেসে প্রতারিত হয়েছি’
পডকাস্টে শুধু ঢাকার ঘটনাই নয়, নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেছেন স্যান্ডি। তাঁর বক্তব্য, জীবনে বারবার ভালোবেসে প্রতারিত হয়েছেন তিনি। সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাস করে আঘাত পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।
ঢাকার ঘটনার প্রসঙ্গ বলতে গিয়ে তাঁর কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, ওই অভিজ্ঞতা তাঁর উপর গভীর মানসিক প্রভাব ফেলেছে। নিজের যন্ত্রণার কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি।
### কে এই প্রিন্স মামুন?
প্রিন্স মামুন বাংলাদেশের পরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের অন্যতম। লায়লার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা হয়েছে। তাঁদের সম্পর্কের নানা ঘটনা এবং প্রকাশ্য দ্বন্দ্বও বিভিন্ন সময়ে ভাইরাল হয়েছে।
স্যান্ডির দাবি অনুযায়ী, সেই সম্পর্কের টানাপোড়েনের সময়ই তিনি বিষয়টি মেটাতে ঢাকায় গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেই তাঁর সঙ্গে মামুনের আচরণ নিয়ে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে অভিযোগ স্যান্ডির।
### অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চর্চা
স্যান্ডির এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের অংশ ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেকে ঘটনার তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বা পোস্টকে ঘটনার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য, চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্যান্ডির অভিযোগই মূল তথ্যসূত্র।
### সামনে কী?
স্যান্ডি সাহার এই বিস্ফোরক অভিযোগের পর এখন নজর প্রিন্স মামুনের প্রতিক্রিয়ার দিকে। তিনি অভিযোগগুলি স্বীকার করেন কি না, অথবা তাঁর পক্ষ থেকে কোনও ব্যাখ্যা বা পালটা দাবি সামনে আসে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, স্যান্ডির বক্তব্য যদি কোনও আইনি অভিযোগ বা তদন্তের দিকে এগোয়, সেক্ষেত্রে ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। আপাতত তাঁর পডকাস্টে দেওয়া বক্তব্যই এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তার আড়ালে থাকা ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ক্ষমতার অসমতা এবং হেনস্তার অভিযোগ নিয়ে এই ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলেছে। তবে আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে ওঠা দাবিগুলিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।


