২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা হয়ে গিয়েছে — এইবার জয়ী হয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী শক্তির মুখ María Corina Machado; আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল দেওয়া হল না। যদিও তিনি ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন, কিন্তু নোবেল কমিটি এ বছর শীর্ষ মর্যাদার হাতে তুলে দিয়েছে Machado-কে, যাতে আন্তর্জাতিক মনোযোগও ভিয়েনেজুয়েলার গণতন্ত্রের সংগ্রামে যায়।
নরওয়ের ওসলোতে ১০ অক্টোবর ওই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। রাইজিং প্রকল্প ও নোবেল কমিটি Machado-কে “ভেনেজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রচার” ও “তানাশাহিদিক শাসন থেকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের সংগ্রাম” করার জন্য পুরস্কার দিয়েছেন।
ট্রাম্প কেন পেলেন না?
ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ থামিয়েছেন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা করেছেন। এমনকি কিছু দেশ ও নেতারা ট্রাম্পকে নোবেলের প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু নোবেল কমিটি তাঁর দাবি ও প্রচারাভিযার প্রমাণ বা ন্যায্যতা নিয়ে সন্দিহান ছিল এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এই বছর কমিটির মাপকাঠিতে শ্রেষ্ঠ প্রার্থী ছিলেন Machado |
Machado-এর সংগ্রামের পথ
María Corina Machado ১৯৬৭ সালে কারাকাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়ন করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলায় মানবাধিকার, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা নিয়েছেন।
২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। পরে Maduro প্রশাসনের দমননীতির কারণে সাংসদ পদ থেকে অপসারিত হন। ২০২৪ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ দ্বারা বাদ দেয়া হয়। এরপর থেকে তিনি গোপন হয়ে জীবনযাপন করছেন, কিন্তু তার আন্দোলন থেমে যায়নি।
পুরস্কার প্রদান ও অর্থ
নোবেল পুরস্কার কার্যক্রমানুযায়ী, বিজয়ীকে ১০ ডিসেম্বর ওসলোতে পদক, ডিপ্লোমা ও ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রাউন (SEK) প্রদান করা হবে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮ কোটি টাকার সমমান।
Machado পুরস্কার গ্রহণ করে তাঁর বার্তায় বলেছেন, “এই পুরস্কার সমস্ত ভেনেজুয়েলার মানুষের নামে।” তিনি তাঁর সংগ্রামে আন্তর্জাতিক জনগণ ও নেতৃবৃন্দের সহানুভূতির আহ্বান জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও অর্থবহতা
নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে আলোচনার দাবি উঠেছে যে এই সিদ্ধান্ত শুধু Machado-এর প্রতি নয়, বরং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার একটি চিহ্ন। আন্তর্জাতিক সংস্থা IDEA (International Institute for Democracy and Electoral Assistance) এই পুরস্কারকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “গণতন্ত্র ও শান্তি একে অপরের জন্য অপরিহার্য।”
এই মর্মে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে যখন বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের অবনতি ও স্বৈরশাসনের উদ্ভব হচ্ছে — নোবেল কমিটি মনে করেছে যে এমন সময় সাহসী নেতৃত্ব যথায়োগ্য স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ট্রাম্প তাঁর নোবেল হারকে ন্যায্য মনে করেননি। তিনি এবং তাঁর দলের পক্ষ থেকে নোবেল কমিটিকে “রাজনীতি ভিত্তিক সিদ্ধান্ত” নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু নোবেল কমিটির চেয়ারজুড়ে বলা হয়েছে, তারা সিদ্ধান্ত নেয় ‘অ্যালফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার ভিত্তিতে’ — অর্থাৎ কাজের মূল্য ও প্রভাবের প্রেক্ষিতে।
যদিও ২০২৫-এ ট্রাম্প নোবেল পাননি, ভবিষ্যতে—বিশেষ করে যদি তার মধ্যস্থতা ও শান্তি প্রচেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে সফল হয়—তিনি আবার আলোচনায় আসতে পারেন।




