নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানের ঘটনায় উদ্বেগ আরও বাড়ল। **ঈশা ফাউন্ডেশনের ৭৭ জন কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রীর কোনও খোঁজ মিলছে না।** এই পরিস্থিতির কথা জানাতে গিয়ে আবেগ সামলাতে পারলেন না সদগুরু জগ্গী বাসুদেব। তাঁকে কাঁদতে দেখা যায়, এমনকী তাঁর হাত-পাও কাঁপছিল।
## ৭৭ পুণ্যার্থীর খোঁজ নেই
ঈশা ফাউন্ডেশনের একটি বড় দল কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় গিয়েছিল। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈশা ফাউন্ডেশনের **৭৪৩ জন পুণ্যার্থী তিব্বতে এবং ১৪৮ জন নেপালে** ছিলেন। কিন্তু নেপাল-তিব্বত সীমান্তের অভিবাসন কেন্দ্রে থাকা ৭৭ জনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনেও ৭৭ জন ইশা ফাউন্ডেশন-সম্পর্কিত তীর্থযাত্রীর নিখোঁজ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা কৈলাসযাত্রা শেষে ফেরার পথে সীমান্ত এলাকায় ছিলেন।
—
# ধ্বংসের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন সদগুরু
সাধারণত শান্ত ও স্থিরভাবেই প্রকাশ্যে কথা বলতে দেখা যায় সদগুরুকে। কিন্তু এবার পরিস্থিতির ভয়াবহতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি কার্যত ভেঙে পড়েন।
তিনি জানান, বিপর্যয়ের ব্যাপকতা দেখে পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ছবি ও খবর তাঁর কাছে পৌঁছলেও নিখোঁজ পুণ্যার্থীদের বিষয়ে এখনও কোনও **আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য** পাওয়া যায়নি।
সদগুরুর আবেগঘন বক্তব্যের সময় ইশা শিবিরেও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পটভূমিতে কান্নার শব্দও শোনা যাচ্ছিল।
—
# নিজেই দুর্গত এলাকায় যেতে চান সদগুরু
নিখোঁজ পুণ্যার্থীদের পরিস্থিতি জানতে সদগুরু নিজে দুর্গত এলাকায় যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
তবে বিপর্যয়ের কারণে ওই অঞ্চলের রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে পৌঁছনো অত্যন্ত কঠিন। সদগুরু জানিয়েছেন, **ভারত, চিন এবং মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অনুমতি চাওয়া হচ্ছে**, যাতে তিনি তাঁর দলের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে বুঝতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন।
—
# কোথায় ঘটল এই ভয়াবহ বিপর্যয়?
বিপর্যয়ের কেন্দ্র ছিল নেপালের **রসুয়া জেলা**, যা চিন-তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত। এই অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভোটেকোশী নদীতে আচমকা প্রবল জলস্রোত নেমে আসে।
হড়পা বানে তিমুর ও স্যাফ্রুবেসি-সহ একাধিক এলাকা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাড়িঘর, রাস্তা, সেতু এবং গাড়ি জলের তোড়ে ভেসে যায়।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২৬ আগস্টের এই বিপর্যয়ের পর নেপালে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে এবং প্রায় **১,০০০ জন নিখোঁজ** বলে রিপোর্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি।
—
# শুধু নেপাল নয়, তিব্বতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি
এই বিপর্যয়ের প্রভাব নেপালের সীমান্ত পেরিয়ে চিনের তিব্বতেও পড়েছে। হিমালয় অঞ্চলে প্রবল জলস্রোত ও কাদার স্রোত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতেও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে উদ্ধারকাজ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
—
# কৈলাসযাত্রীরা কেন বিপদের মধ্যে পড়লেন?
**মাউন্ট কৈলাস** ও মানস সরোবর যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ নেপালের রসুয়া সীমান্ত দিয়ে যায়। তাই ওই অঞ্চলে বিপর্যয়ের সময় বহু তীর্থযাত্রী আটকে পড়েন।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। নেপালে প্রায় **২৮৮ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ** থাকার খবর পাওয়া গিয়েছিল।
অন্যদিকে, কৈলাসযাত্রায় থাকা ৫৭ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রীর একটি দলও বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
—
# উদ্ধারকাজে সবচেয়ে বড় বাধা যোগাযোগ ব্যবস্থা
বিপর্যয়ের পর বহু রাস্তা ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারী দলগুলির পক্ষে দুর্গত এলাকায় পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে।
হেলিকপ্টারের সাহায্যে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজদের সন্ধানে বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। তবে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকারীদেরও অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
—
# এখনও কি নিখোঁজদের জীবিত পাওয়ার আশা রয়েছে?
নিখোঁজ হওয়ার অর্থ যে মৃত্যু নিশ্চিত—এমনটা বলা যাচ্ছে না।
দুর্গত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং বহু মানুষ নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারেন। ফলে নিখোঁজদের সঠিক অবস্থান সম্পর্কে তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের পরিণতি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
এই কারণেই পরিবারগুলি এখনও উদ্ধারকারী দলের খবরের অপেক্ষায় রয়েছে।
—
# আরও বড় বিপদের আশঙ্কা
বিপর্যয়ের পর হিমালয় অঞ্চলে আরও একটি সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ জমে নদীতে নতুন জলাধার বা হ্রদের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা ভেঙে গেলে ফের ভয়াবহ বন্যা হতে পারে।
ফলে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে এখন আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ—**নতুন করে যাতে প্রাণহানি না ঘটে তা নিশ্চিত করা।**
—
# জলবায়ু পরিবর্তনের দিকেও প্রশ্ন
হিমালয়ের হিমবাহ ও উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশগত পরিবর্তন নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে হিমবাহ ধস বা বরফ-পাথরের বিশাল স্তর ভেঙে পড়ার পর প্রবল জলস্রোত তৈরি হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
—
# শোকের ছায়া ইশা শিবিরে
৭৭ জনের কোনও সন্ধান না পাওয়ার খবরের পর ইশা ফাউন্ডেশনের শিবিরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সদগুরুর আবেগঘন বক্তব্যও সেই উদ্বেগেরই প্রতিফলন।
একজন আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে তাঁকে সাধারণত দৃঢ় অবস্থায় দেখা গেলেও এবার তাঁর কণ্ঠে ছিল উৎকণ্ঠা এবং অসহায়ত্ব। তিনি নিজে দুর্গত এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করতে চান।
এখন তাঁর সঙ্গে থাকা পুণ্যার্থীদের পরিবারগুলিরও একটাই অপেক্ষা—**কখন আসে প্রিয়জনদের নিরাপদ থাকার খবর।**
—
# শেষ কথা
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানের ঘটনায় **ঈশা ফাউন্ডেশনের ৭৭ জন কৈলাসযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন**। তাঁদের কোনও আনুষ্ঠানিক খবর না পাওয়ায় উদ্বেগ চরমে উঠেছে। এই পরিস্থিতির কথা জানাতে গিয়ে সদগুরু জগ্গী বাসুদেবও কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
বিপর্যয়ে নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজারের কাছাকাছি মানুষ নিখোঁজ বলে সর্বশেষ রিপোর্টে উঠে এসেছে। উদ্ধারকাজ চলছে, কিন্তু ধ্বংসপ্রাপ্ত রাস্তা-সেতু এবং নতুন বন্যার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে।
**এখন সবচেয়ে বড় আশা—নিখোঁজ পুণ্যার্থীদের যত বেশি সম্ভব জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা এবং তাঁদের পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়া।**


