Monday, October 19, 2026

Creating liberating content

यूईएम जयपुर ने मानवता...

जयपुर में आयोजित मानवता के लिए दौड़ के दसवें संस्करण में यूनिवर्सिटी ऑफ...

अक्टूबर 2026 में पड़ेंगी...

सनातन हिंदू धर्म में एकादशी तिथि का विशेष धार्मिक महत्व माना जाता है।...

इंफोसिस और विप्रो में...

देश की प्रमुख सूचना प्रौद्योगिकी सेवा कंपनियों में शामिल इंफोसिस और विप्रो के...

स्वर्ग में कर्ण को...

महाभारत के महान योद्धाओं में कर्ण का नाम केवल उनकी वीरता और संघर्ष...
Homeবাংলা‘দোষারোপ করে লাভ...

‘দোষারোপ করে লাভ নেই’, নেপাল বিপর্যয়ে দায় এড়াল চিন! কাঠমান্ডু-বেজিং সম্পর্কে বাড়ছে টানাপোড়েন

নেপাল-চিন সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানের পর বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। প্রাথমিকভাবে নেপালের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছিল, **চিনের ভূখণ্ডে তৈরি হওয়া একটি প্রাকৃতিক জলাধার বা ‘জিওলজিক্যাল ডিজাস্টার ড্যাম’ ভেঙে যাওয়ার ফলেই ভয়াবহ জলস্রোত নেমে আসে**। পাশাপাশি, বিপদের আগাম খবর চিনের তরফে নেপালকে দেওয়া হয়নি বলেও প্রশ্ন ওঠে। তবে সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে বেজিং। 

## কী বলল চিন?

নেপালে নিযুক্ত চিনা দূতাবাসের তরফে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, **বিপর্যয়ের সূত্রপাত নেপাল সীমান্তবর্তী অঞ্চলে**। চিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট সকালে সেখানে হিমবাহ ধস ও ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক ঘটনা ঘটে। তার ফলেই কাদা, পাথর ও জলের প্রবল স্রোত তৈরি হয় এবং নেপাল ও চিন—দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটে। 

বেজিং আরও জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে একে অপরকে দোষারোপ না করে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহযোগিতা করাই গুরুত্বপূর্ণ। চিনা দূতাবাসের বক্তব্যের মূল সুর—**‘দোষারোপ করে কোনও লাভ নেই, সহযোগিতাই জীবন বাঁচায়।’** 

## নেপালের অভিযোগ কী ছিল?

বিপর্যয়ের পর নেপালের বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হয়েছিল, চিনের দিকে থাকা একটি প্রাকৃতিক বাধা বা জলাধার ভেঙে যাওয়ার ফলে আচমকা বিপুল পরিমাণ জল নেমে আসে। ফলে নেপালের রসুয়া জেলায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এর পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছিল—**চিন যদি আগে থেকেই সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে জানতে পেরে থাকে, তাহলে নেপালকে কেন সতর্ক করা হল না?** এই প্রশ্ন থেকেই কাঠমান্ডু ও বেজিংয়ের মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

তবে চিনের বক্তব্য, এ ধরনের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই এবং আগাম সতর্কতা না দেওয়ার দাবি ‘ভুয়ো’। 

## আসলে কীভাবে ঘটল বিপর্যয়?

সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে ছবিটা কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে। **লাংটাং লিরুং এলাকার একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ে** বিপুল বরফ ও পাথরের ধস তৈরি হয়েছিল বলে স্যাটেলাইট তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। সেই ধস নদীর গতিপথে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ ও কাদা নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে ভয়াবহ জলস্রোত তৈরি হয়। 

প্রথমদিকে এই ঘটনার সঙ্গে একটি ভূমিকম্পের যোগসূত্রের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পরে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা **USGS** জানায়, যে ভূকম্পন রেকর্ড হয়েছিল সেটি আসলে ভূমিধসের ফলে তৈরি হওয়া সিসমিক সিগন্যাল; কোনও পৃথক ভূমিকম্প এই বিপর্যয়ের মূল কারণ ছিল না। 

## ভয়াবহ জলের তোড়ে ভেসে যায় একাধিক এলাকা

২৬ আগস্টের এই বিপর্যয়ে নেপাল-চিন সীমান্তের বিস্তীর্ণ অঞ্চল কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

রাস্তাঘাট, সেতু, বাড়িঘর এবং বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ **গিরং বন্দর** এলাকাতেও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। 

নেপালের রসুয়া, নুয়াকোট-সহ একাধিক এলাকায় নদীর জল বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায়। বহু মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছে।

## মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে

বিপর্যয়ের কয়েকদিন পরেও উদ্ধারকাজ চলছে। বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে **শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ১,৪০০-রও বেশি মানুষ নিখোঁজ** বলে সর্বশেষ রিপোর্টে উঠে এসেছে। তবে উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে। 

নিখোঁজদের মধ্যে বহু বিদেশি পর্যটক এবং তীর্থযাত্রী রয়েছেন। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় থাকা বহু ভারতীয়ও এই বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছেন। 

## কেন আগাম সতর্কতা নিয়ে এত প্রশ্ন?

এই বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির একটি হল **early warning system**।

সীমান্তের একদিকে যদি বিপুল বরফ-পাথরের ধস হয়ে নদীর গতিপথে অস্থায়ী বাধা তৈরি হয়, তাহলে সেই বাধা ভেঙে গেলে নিচের দিকে থাকা এলাকাগুলিতে কয়েক মিনিট বা ঘণ্টার মধ্যে ভয়াবহ জলস্রোত পৌঁছতে পারে।

এই কারণেই নেপালের বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—চিনের ভূখণ্ডে এমন কোনও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না এবং হয়ে থাকলে তার তথ্য নেপালকে দেওয়া হয়েছিল কি না। চিন অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

## সীমান্তের দুই দেশেই উদ্ধার অভিযান

বিপর্যয়ের পর নেপাল ও চিন দুই দেশই উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। বহু রাস্তা ও সেতু ভেঙে যাওয়ায় স্থলপথে দুর্গত এলাকায় পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে হেলিকপ্টারসহ আকাশপথে উদ্ধার অভিযান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

চিনের তিব্বতেও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে এটি শুধুমাত্র নেপালের অভ্যন্তরীণ বিপর্যয় নয়—**নেপাল-চিন সীমান্তজুড়ে একটি বড় মানবিক সংকট** তৈরি হয়েছে।

## নতুন করে বন্যার আশঙ্কা

বিপর্যয়ের পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ নয়। ধসের ফলে নদীর গতিপথে বাধা এবং নতুন জলাধারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ফের আচমকা জল নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলিকে তাই একদিকে নিখোঁজদের সন্ধান করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার বিপর্যয় থেকেও নিজেদের ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সুরক্ষিত রাখতে হচ্ছে। 

## জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ

হিমালয়ের এই ধরনের বিপর্যয় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিজ্ঞানীরা অবশ্য কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার সরাসরি কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করেননি। তবে উষ্ণতা বৃদ্ধি, হিমবাহের গলন এবং পার্বত্য অঞ্চলের বরফ ও মাটির স্থিতিশীলতা কমে যাওয়ার কারণে এ ধরনের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা। 

## কাঠমান্ডু-বেজিং সম্পর্কে কি প্রভাব পড়বে?

নেপাল ও চিনের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। সীমান্ত বাণিজ্য, পর্যটন এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন—একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ।

তাই এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে যদি দু’দেশের মধ্যে প্রকাশ্য মতপার্থক্য তৈরি হয়, তাহলে তা কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

তবে এই মুহূর্তে চিন স্পষ্টতই বিষয়টিকে **প্রাকৃতিক দুর্যোগ** হিসেবে দেখছে এবং পারস্পরিক দোষারোপের বদলে উদ্ধারকাজে সহযোগিতার বার্তা দিচ্ছে। 

## শেষ কথা

নেপাল-চিন সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানের পর বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। নেপালের কিছু মহল চিনের ভূখণ্ডে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি **আগাম সতর্কতা না দেওয়ার অভিযোগ** তুললেও বেজিং তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। 

অন্যদিকে, স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ ও USGS-এর তথ্য অনুযায়ী, বিপর্যয়ের পিছনে মূল ভূমিকা ছিল **হিমবাহ ধস ও তার ফলে তৈরি হওয়া বিশাল বরফ-পাথরের ধস**। 

এখন রাজনৈতিক দোষারোপের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে উদ্ধারকাজ। শত শত মানুষের প্রাণহানি এবং **১,৪০০-রও বেশি মানুষের নিখোঁজ হওয়ার** ঘটনায় নেপাল ও চিন—দুই দেশের কাছেই দ্রুত উদ্ধার, তথ্য আদানপ্রদান এবং সীমান্তবর্তী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। 

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

ঔরঙ্গজেবের আমলের ৩৩৪ বছরের বনেদি পুজোর অমলিন ঐতিহ্য

পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোর ইতিহাসে বনেদি পুজোর আলাদা মর্যাদা রয়েছে। সেই ঐতিহ্যের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের পানাগড়ের সোঁয়াই গ্রামের মুখোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপুজো। এ বছর এই পুজো ৩৩৪ বছরে পা দিয়েছে। শুধু প্রাচীনত্ব নয়, এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্বপ্নাদেশ, বর্ধমানের...

বাংলায় পথচলা শুরু বিজয় থলপতির টিভিকের নতুন অধ্যায়

তামিলনাড়ুতে রাজনৈতিক সাফল্যের পর এবার পশ্চিমবঙ্গে সাংগঠনিক বিস্তার শুরু করল বিজয় থলপতি-র দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (TVK)। পূর্ব বর্ধমান জেলার ফাগুপুরে দলের প্রথম কার্যালয় খোলার মাধ্যমে বাংলায় আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে...

সন্ত্রাসে শীর্ষে পাকিস্তান, হাক্কানির বিস্ফোরক আত্মসমালোচনা ভাইরাল

সন্ত্রাসবাদে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় পাকিস্তানের শীর্ষে উঠে আসার দাবি ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (IEP)-এর প্রকাশিত Global Terrorism Index 2026-এর তথ্য সামনে আসার পর পাকিস্তানের প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হুসেন হাক্কানি ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.