Sunday, August 9, 2026

Creating liberating content

एमएस धोनी पेंशन: अंतरराष्ट्रीय...

भारतीय क्रिकेट के सबसे सफल कप्तानों में शामिल महेंद्र सिंह धोनी ने भले...

India Vs Sri Lanka:...

Mohammed Siraj (Screengrabs) Mohammed Siraj produced an unexpected batting heroics on Sunday,...

Karnataka Weather: आज कई...

कर्नाटक में मानसून की सक्रियता के बीच मौसम एक बार फिर करवट ले...

Watch: Ronaldo wedding rumours...

Ronaldo wedding rumours send hundreds to church as another couple gets an...
Homeবাংলাভারতীয়দের শত্রু নন...

ভারতীয়দের শত্রু নন সব পাকিস্তানি, বললেন মোহন ভাগবত

ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষকে সম্পূর্ণভাবে ভারতের শত্রু হিসেবে দেখা ঠিক নয়। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক এবং সামরিক স্তরে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ থাকলেও সাধারণ মানুষের মনোভাবকে একই মাপকাঠিতে বিচার করা উচিত নয় বলেই মত তাঁর।

মোহন ভাগবতের এই মন্তব্য এমন একটি সময়ে সামনে এসেছে, যখন ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক নানা কারণে উত্তেজনাপূর্ণ। সীমান্ত পরিস্থিতি, সন্ত্রাসবাদ, কাশ্মীর ইস্যু এবং দুই দেশের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পারস্পরিক অবিশ্বাস রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নীতি ও রাজনৈতিক অবস্থানকে আলাদা করে দেখার আহ্বান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

### পাকিস্তানের সাধারণ মানুষকে নিয়ে কী বললেন ভাগবত?

মোহন ভাগবতের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল ভারতীয় এবং পাকিস্তানি সাধারণ মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক। তাঁর মতে, পাকিস্তানের প্রত্যেক নাগরিককে ভারতের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন হিসেবে দেখা উচিত নয়। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও সাধারণ মানুষের অনুভূতি সবসময় সরকারের নীতির সঙ্গে এক হয় না।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত রাষ্ট্র এবং সাধারণ নাগরিকের মধ্যে পার্থক্য করার প্রয়োজনীয়তার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। কোনও দেশের সরকারের সিদ্ধান্ত বা নীতির সঙ্গে সেই দেশের প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত মতামত এক হবে—এমনটা ধরে নেওয়া যায় না।

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রযোজ্য বলে মনে করা হচ্ছে। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক যতই কঠিন হোক না কেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, আত্মীয়তা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক সম্পর্কের জায়গা রয়েছে।

### ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস

ভারত এবং পাকিস্তানের সম্পর্কের ইতিহাস অত্যন্ত জটিল। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক নানা সংঘাত ও রাজনৈতিক বিরোধের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। একাধিক যুদ্ধ, সীমান্ত সংঘর্ষ এবং কাশ্মীর ইস্যু দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবিত করেছে।

এর পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অভিযোগও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিয়েছে। ভারত বারবার পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। পাকিস্তান অবশ্য বিভিন্ন সময়ে ভারতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বা পাল্টা বক্তব্য দিয়েছে।

এই দীর্ঘ রাজনৈতিক সংঘাতের ফলে দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেই অবিশ্বাসের মধ্যেও দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক মিল এবং ঐতিহাসিক যোগাযোগের বিষয়টি অস্বীকার করা যায় না।

### সাধারণ মানুষ বনাম রাষ্ট্রীয় নীতি

মোহন ভাগবতের মন্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল রাষ্ট্রীয় নীতি এবং সাধারণ মানুষের মনোভাবকে আলাদা করে দেখা। একটি দেশের সরকার যে সিদ্ধান্ত নেয়, তা সবসময় সেই দেশের প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন নয়।গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নাগরিকদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত থাকতে পারে। কেউ সরকারের নীতির সমর্থক হতে পারেন, আবার কেউ সেই নীতির বিরোধিতাও করতে পারেন। তাই একটি দেশের সরকারের অবস্থানের ভিত্তিতে সেই দেশের সমস্ত নাগরিককে বিচার করা যুক্তিসঙ্গত নয়।ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুই দেশের সাধারণ মানুষ একে অপরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না করলেও তাঁদের মধ্যে ভাষা, খাবার, সংগীত, সিনেমা এবং ঐতিহাসিক সংস্কৃতির অনেক মিল রয়েছে।

### কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও বার্তার গুরুত্ব

বর্তমানে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল। সীমান্ত এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করে। এই পরিস্থিতিতে কোনও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বা সামাজিক ব্যক্তিত্ব যখন সাধারণ মানুষের সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করেন, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় আসে।

মোহন ভাগবতের বক্তব্যকে সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেই দেখা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে একদিকে নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থের প্রশ্ন রয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে এসেছে।

রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক খারাপ হতে পারে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে দুই দেশের প্রত্যেক নাগরিক একে অপরের শত্রু। এই ধারণাটিই তাঁর বক্তব্যের মূল সুর বলে মনে করা হচ্ছে।

### সীমান্তের ওপারে সাধারণ মানুষের জীবন

ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্তের দুই পাশে বসবাসকারী বহু মানুষের জীবন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। সীমান্ত উত্তেজনা বাড়লে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনও প্রভাবিত হয়।

বাণিজ্য, যোগাযোগ, যাতায়াত এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়েও তার প্রভাব পড়ে। ফলে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হলে সাধারণ মানুষের জীবনেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তবে একইসঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্ত্রাসবাদ বা সীমান্ত সংক্রান্ত হুমকির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান থাকা প্রয়োজন। কিন্তু নিরাপত্তার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব—এই দুই বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়।

### পাকিস্তানের মানুষের মধ্যেও ভিন্ন মত রয়েছে

পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক মতামতও একরকম নয়। সেখানে যেমন ভারতের প্রতি কঠোর অবস্থানের সমর্থক মানুষ রয়েছেন, তেমনই দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের পক্ষে মত দেওয়া মানুষও রয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্কের নানা দৃষ্টান্ত মাঝেমধ্যেই সামনে আসে। ক্রিকেটও দুই দেশের মানুষের আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

যদিও রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে এই যোগাযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে যায়, তবুও সাধারণ মানুষের স্তরে পারস্পরিক আগ্রহ এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগ পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না।

### শান্তির সম্ভাবনা কোথায়?

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উন্নতির জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক আস্থা—তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ। সন্ত্রাসবাদ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের সমাধান না হলে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা কঠিন।

একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ কমানোও প্রয়োজন। কারণ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাত সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ঘৃণা বাড়িয়ে দিতে পারে। সেই জায়গায় রাষ্ট্রীয় নীতির পাশাপাশি সামাজিক স্তরেও দায়িত্বশীল বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

মোহন ভাগবতের মন্তব্য সেই কারণেই আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি সাধারণ পাকিস্তানিদের সম্পূর্ণভাবে ভারতের শত্রু হিসেবে দেখার ধারণার বিরোধিতা করেছেন। এর ফলে দুই দেশের সাধারণ মানুষের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

### রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে বৃহত্তর বার্তা

মোহন ভাগবতের মন্তব্যকে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখলে এর সামাজিক দিকটি উপেক্ষিত হতে পারে। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হল—একটি দেশের জনগণ এবং সেই দেশের রাষ্ট্রীয় নীতিকে আলাদা করে বিচার করা প্রয়োজন।

ভারত-পাকিস্তানের মতো দীর্ঘদিনের সংঘাতপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থান একদিকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা বিদ্বেষ না বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের সাধারণ নাগরিকদের সম্পূর্ণভাবে ভারতের শত্রু হিসেবে না দেখার পক্ষে মন্তব্য করে মোহন ভাগবত ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের একটি ভিন্ন দিক সামনে এনেছেন। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক বিরোধ এবং সাধারণ মানুষের সম্পর্কের মধ্যে পার্থক্য করার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।

দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত, সন্ত্রাসবাদ এবং কূটনৈতিক মতবিরোধের মতো জটিল সমস্যা রয়েছে। সেই সমস্যাগুলির সমাধান সহজ নয়। তবে রাষ্ট্রীয় স্তরে মতবিরোধ থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিদ্বেষ না বাড়ানো এবং মানুষের মনোভাবকে আলাদা করে দেখার প্রয়োজনীয়তা এই মন্তব্য নতুন করে সামনে আনল।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বকেয়া DA হিসাব হবে WBIFMS-এই

পশ্চিমবঙ্গের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা Dearness Allowance (DA)-র হিসাব তৈরির ক্ষেত্রে এবার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হল। রাজ্যের WBiFMS HRMS পোর্টালে নতুন একটি মডিউল যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের চাকরিজীবনের বেতন সংক্রান্ত পুরনো তথ্য...

বিজয়ের ডিলিমিটেশন বিল ঘিরে বৈঠকে অনুপস্থিত ডিএমকে সাংসদরা

তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক পরিসরে ডিলিমিটেশন বা লোকসভা আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে চর্চায় এলেন তামিল অভিনেতা তথা তামিলগা ভেত্রি কাজাগম (TVK) প্রধান কে বিজয়। ডিলিমিটেশন ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে দক্ষিণের রাজ্যগুলির মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সেই...

ফুকেট-দিল্লি বিমানে তীব্র ঝাঁকুনি, পাইলট নিয়ে নতুন রিপোর্ট

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান মাঝ আকাশে তীব্র টার্বুলেন্সের মুখে পড়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। বিমানে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও পরিস্থিতি সামলে বিমানটি শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে নিরাপদে পৌঁছয়। ঘটনার পর বিমান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.