বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে আরও এক অনন্য মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে মাঠে নামলেই তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর সঙ্গে একটি বিরল রেকর্ডে নাম লেখাবেন। মেসির এটি হবে ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল, যা এতদিন শুধুমাত্র কাফুর দখলেই ছিল।
২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার এবং সব মিলিয়ে ষষ্ঠবার বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচে গোল না করলেও লিওনেল মেসি দুইটি গোলেই গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন। তাঁর অসাধারণ নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং খেলার নিয়ন্ত্রণ আবারও প্রমাণ করে কেন তিনি এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসি প্রথমবার ফাইনাল খেলেছিলেন ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত আসরে। সেবার জার্মানির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের জন্য গোল্ডেন বল জিতেছিলেন মেসি।
এরপর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে নাটকীয় টাইব্রেকারে হারিয়ে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেন তিনি। সেই ফাইনালে দুটি গোল করে ইতিহাস গড়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এবার ২০২৬ সালে তিনি টানা দ্বিতীয়বার এবং ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে চলেছেন।
অন্যদিকে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার কাফু খেলেছিলেন ১৯৯৪, ১৯৯৮ এবং ২০০২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল। ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে তিনি বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পান এবং ২০০২ সালে অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠে নামা একমাত্র ফুটবলার ছিলেন কাফু। এবার সেই বিরল কৃতিত্বে ভাগ বসাতে চলেছেন মেসি |
শুধু তৃতীয় ফাইনাল নয়, ৩৯ বছর বয়সেও মেসির ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করছে। এবারের বিশ্বকাপে তিনি গোল করার পাশাপাশি একাধিক অ্যাসিস্ট করেছেন এবং নকআউট পর্বে দলের আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স শুধুমাত্র একটি সংখ্যা—মেসির পারফরম্যান্সই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
এবারের ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ স্পেন। একদিকে অভিজ্ঞ লিওনেল মেসির নেতৃত্বে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে তরুণ প্রতিভায় ভরপুর স্পেন। ফলে এই ম্যাচ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা তুঙ্গে। অনেকেই মনে করছেন, এটি হতে পারে মেসির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ এবং সেই ম্যাচেই ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লিখতে পারেন তিনি।
যদি আর্জেন্টিনা ফাইনালে জয় পায়, তাহলে মেসি দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের কৃতিত্বও অর্জন করবেন। একই সঙ্গে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার পাশাপাশি দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল রেকর্ডও গড়বেন তিনি। এমন কীর্তি বিশ্ব ফুটবলে খুব কম খেলোয়াড়ের ঝুলিতেই রয়েছে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল শুধু আর্জেন্টিনা ও স্পেনের লড়াই নয়, এটি লিওনেল মেসির আরেকটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সাক্ষী হওয়ারও অপেক্ষা। কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর এখন সেই মহারণের দিকে, যেখানে মেসি নিজের কিংবদন্তি ক্যারিয়ারে আরও একটি সোনালি পালক যোগ করার সুযোগ পাবেন।


