Home বাংলা অভিষেকের পার্টি অফিস ভাঙতে এগিয়ে এলেন স্থানীয় বাসিন্দারাই

অভিষেকের পার্টি অফিস ভাঙতে এগিয়ে এলেন স্থানীয় বাসিন্দারাই

0
2

দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত একটি দলীয় কার্যালয় ভাঙাকে কেন্দ্র করে শনিবার তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে চলা এই ভাঙার অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল এবং পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়।

প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট ভবনটি অনুমোদিত নকশা ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল এবং প্রযোজ্য নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আগে থেকেই নোটিস জারি করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় শনিবার ভাঙার কাজ শুরু হয়। অভিযানে আধিকারিকদের পাশাপাশি ভারী যন্ত্রপাতিও ব্যবহার করা হয়।

সবচেয়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে স্থানীয় কিছু মানুষের অংশগ্রহণ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভাঙার সময় এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নিজেরাই এগিয়ে এসে নির্মাণসামগ্রী সরানো এবং ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কারের কাজে সহযোগিতা করেন। প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এই কাজ হয় বলে জানা গিয়েছে। যদিও স্থানীয়দের এই অংশগ্রহণকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে এসেছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ব্যারিকেড করে সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী, র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ভাঙার কাজ চলাকালীন পরিস্থিতি মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ছিল বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য, এই অভিযান সম্পূর্ণভাবে নির্মাণ সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে। বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এই পদক্ষেপ কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয় বলেই দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ভবিষ্যতেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়ে

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। দলের নেতাদের দাবি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আড়ালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। যদিও প্রশাসনের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, সমস্ত পদক্ষেপ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে এই ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। একদিকে প্রশাসন বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছে, অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও সামনে আসছে। ফলে বিষয়টি আগামী দিনেও রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে

উল্লেখ্য, এর আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সম্পত্তিতে অনুমোদনহীন নির্মাণের অভিযোগ তুলে কলকাতা পুরসভা নোটিস জারি করেছিল। সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই আমতলার এই দলীয় কার্যালয়ে ভাঙার অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।

সব মিলিয়ে, আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত দলীয় কার্যালয়ে প্রশাসনের ভাঙার অভিযান এবং তাতে স্থানীয়দের অংশগ্রহণ নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশাসন যেখানে আইনি পদক্ষেপের কথা বলছে, সেখানে রাজনৈতিক মহল এই ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন তুলছে। আগামী দিনে এই ইস্যু কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের। (

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here