তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলতে থাকা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহী সাংসদ ও বিধায়কদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, যারা দল ছেড়ে তাঁর বিরুদ্ধে মন্তব্য করছেন বা তৃণমূল নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন, তাঁদের যদি সত্যিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আস্থা থাকে, তাহলে আগে দলে ফিরে আসুন। এমনটা হলে তিনি নিজের পদ থেকে এক ঘণ্টার মধ্যেই ইস্তফা দিতে প্রস্তুত। এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাইরে থেকে সমালোচনা করা খুব সহজ। কিন্তু যাঁরা নিজেদের তৃণমূলের প্রকৃত সমর্থক বলে দাবি করছেন, তাঁদের উচিত আবার দলের পতাকার নিচে ফিরে আসা।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, যদি বিদ্রোহী সাংসদ ও বিধায়করা পুনরায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আস্থা রেখে দলে যোগ দেন, তাহলে তিনি নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে কোনও দ্বিধা করবেন না। তাঁর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দলের কিছু নেতা প্রকাশ্যে নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন, আবার কয়েকজন দলত্যাগও করেছেন। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে দলের অভ্যন্তরে ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
অভিষেক আরও বলেন, তিনি কখনও ব্যক্তিগত পদ বা ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেননি। দলের স্বার্থ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই কেউ যদি দাবি করেন যে তাঁর জন্য দলের ক্ষতি হয়েছে, তাহলে সেই অভিযোগ বাস্তবে প্রমাণ করার সুযোগ রয়েছে। বিদ্রোহীরা দলে ফিরে এলে তিনি নিজের পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য শুধু বিদ্রোহী নেতাদের উদ্দেশেই নয়, দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছেও একটি স্পষ্ট বার্তা। অভিষেক বোঝাতে চেয়েছেন যে দলীয় ঐক্যই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। একইসঙ্গে তিনি বিরোধীদের সেই অভিযোগও খণ্ডন করার চেষ্টা করেছেন, যেখানে দাবি করা হচ্ছিল যে দলের ভাঙনের জন্য তিনিই দায়ী।
এদিকে বিদ্রোহী শিবিরের তরফে এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চ্যালেঞ্জের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মন্তব্যের পর দলীয় অন্দরের দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হতে পারে। অন্যদিকে তৃণমূলের সমর্থকদের একাংশের দাবি, দলের নেতৃত্বকে ঘিরে যে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা চলছে, এই বক্তব্য তারই জবাব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনীতিতে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ নতুন বিষয় নয়। তবে কোনও শীর্ষ নেতা নিজের পদ ছাড়ার মতো ঘোষণা করলে তা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক গুরুত্ব পায়। এখন বিদ্রোহী নেতারা এই আহ্বানে কী প্রতিক্রিয়া জানান এবং ভবিষ্যতে তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
সব মিলিয়ে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে। বিদ্রোহী সাংসদ-বিধায়কদের উদ্দেশে তাঁর প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ দলীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করে কি না, তা আগামী দিনে স্পষ্ট হবে। আপাতত তাঁর এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।


