Saturday, September 26, 2026

Creating liberating content

বইয়ের স্টলে বিবেকানন্দ-বুদ্ধ-শঙ্করাচার্যকে রাখছে...

দুর্গাপুজোর আবহে এবার বইয়ের স্টল ঘিরে নতুন কৌশল নিয়েছে সিপিএম। প্রতি বছরের মতো...

রাষ্ট্রসংঘে শাহবাজের বক্তব্যের কড়া...

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী **শাহবাজ শরিফ** ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলার...

জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে এম...

প্রধান নির্বাচন কমিশনার **জ্ঞানেশ কুমার**কে অপসারণের সম্ভাব্য প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন...

মন্দারমণির অজুহাতে শ্বশুরবাড়িতে চুরি,...

উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে এক চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেন এক যুবক, যিনি...
Homeবাংলাবিধানসভা অভিযানে ঝাড়খণ্ডের...

বিধানসভা অভিযানে ঝাড়খণ্ডের ছাত্ররা, বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ

একাধিক দাবি-দাওয়া নিয়ে এবার ঝাড়খণ্ড বিধানসভা অভিযানের ডাক দিলেন রাজ্যের ছাত্ররা। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রের বিভিন্ন সমস্যা, ছাত্রছাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা এবং সরকারের কাছে একাধিক দাবিকে সামনে রেখেই এই আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গিয়েছে। কর্মসূচিকে ঘিরে রাজ্য প্রশাসনের তরফেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হতে পারে।

ঝাড়খণ্ডে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রসমাজের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিকাঠামোর ঘাটতি, পরীক্ষার সময়সূচি, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা নিয়ে মাঝেমধ্যেই আন্দোলনে নামতে দেখা যায় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনকে। এবার সেই অসন্তোষই বিধানসভা অভিযানের মাধ্যমে আরও বড় আকার নিতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

### কেন বিধানসভা অভিযানের ডাক?

ছাত্রদের বক্তব্য, তাঁদের একাধিক দাবি দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে জানানো হলেও প্রত্যাশিত সমাধান হয়নি। ফলে এবার সরাসরি বিধানসভার দিকে মিছিল করে নিজেদের দাবি জানাতে চাইছেন তাঁরা। ছাত্র সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।

ছাত্রদের অভিযোগের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা, নিয়োগ ও পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় এবং ছাত্রকল্যাণমূলক পরিষেবার প্রসঙ্গ রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্রছাত্রীদের এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, ছাত্রসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত সমস্যাগুলি কেবল ছাত্রদের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, বরং রাজ্যের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ তৈরির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই সরকারের কাছে তাঁদের দাবি দ্রুত বিবেচনা করার আবেদন জানানো হচ্ছে।

### ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে বাড়ছে তৎপরতা

বিধানসভা অভিযানের আগে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জেলা ও স্থানীয় স্তরে ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। কর্মসূচিতে কত সংখ্যক ছাত্র যোগ দেবেন, কোথা থেকে মিছিল শুরু হবে এবং কীভাবে তা বিধানসভা চত্বরে পৌঁছবে—এসব বিষয় নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বড় আকারের ছাত্র জমায়েত হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হতে পারে। বিশেষ করে বিধানসভা চত্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মিছিল বা জমায়েত হলে পুলিশকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়।

তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের মূল উদ্দেশ্য সরকারের কাছে নিজেদের দাবি তুলে ধরা। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করাই তাঁদের লক্ষ্য বলে দাবি করা হয়েছে।

### শিক্ষাক্ষেত্রের সমস্যা নিয়ে সরব ছাত্ররা

ঝাড়খণ্ডের ছাত্রসমাজের অন্যতম বড় সমস্যা হল উচ্চশিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ। রাজ্যের বহু তরুণ উচ্চশিক্ষা শেষ করার পরও উপযুক্ত চাকরির সুযোগ পান না। সরকারি নিয়োগের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে ছাত্রদের মধ্যে হতাশা আরও বাড়ে।

একইসঙ্গে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, ফল প্রকাশ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়সীমা নিয়েও ছাত্রদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। পরীক্ষার আয়োজন থেকে ফল প্রকাশ পর্যন্ত দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হলে চাকরিপ্রার্থীদের বয়সসীমা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার উপর তার প্রভাব পড়তে পারে।

এই ধরনের বিষয়গুলিই ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠছে। আন্দোলনকারীরা চাইছেন, সরকার শিক্ষাব্যবস্থা ও নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আরও স্বচ্ছ এবং সময়বদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

### রাজনৈতিক মহলেও নজর

ছাত্রদের বিধানসভা অভিযান রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিষয়গুলি সরাসরি সরকারের ভাবমূর্তির সঙ্গে যুক্ত। ফলে ছাত্রদের আন্দোলন যদি বড় আকার নেয়, তাহলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও বিষয়টি নিয়ে সরব হতে পারে।

রাজনৈতিক দলগুলি প্রায়শই ছাত্র ও যুবসমাজের সমস্যাকে নিজেদের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরে। তাই এই কর্মসূচির পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে আসতে পারে।

তবে ছাত্র আন্দোলনকে সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে না দেখে তাঁদের উত্থাপিত দাবিগুলির বাস্তবতা এবং সরকারের প্রতিক্রিয়ার উপর গুরুত্ব দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।

### প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

যদি বিপুল সংখ্যক ছাত্র বিধানসভা অভিযানে অংশ নেন, তাহলে রাঁচি শহরের যান চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে। মিছিলের রুট অনুযায়ী একাধিক রাস্তা সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হতে পারে। বিধানসভা চত্বরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও প্রশাসনের অন্যতম বড় দায়িত্ব হবে।

একদিকে আন্দোলনকারীদের গণতান্ত্রিক অধিকার বজায় রাখা এবং অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কোনও ধরনের সংঘাত তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। অতীতে বিভিন্ন রাজ্যে ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তাই ঝাড়খণ্ডেও প্রশাসন আগেভাগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে পারে।

### সরকারের কাছে কী প্রত্যাশা ছাত্রদের?

ছাত্র সংগঠনগুলির মূল দাবি হল, সরকার তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসুক এবং সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করুক। শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তবে পদক্ষেপের দাবিই এখন তাঁদের প্রধান বক্তব্য।

শিক্ষাক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়ন, পরীক্ষার সময়সূচি ও ফল প্রকাশে স্বচ্ছতা, নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতি বাড়ানো এবং ছাত্রকল্যাণমূলক প্রকল্প কার্যকর করার মতো বিষয়গুলি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা।

সরকার যদি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলি সমাধানের উদ্যোগ নেয়, তাহলে আন্দোলনের উত্তেজনা অনেকটাই কমতে পারে। অন্যদিকে দাবি পূরণে কোনও অগ্রগতি না হলে কর্মসূচি আরও বড় আকার নিতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে ঝাড়খণ্ডের ছাত্রদের বিধানসভা অভিযানকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নজর বেড়েছে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত দাবিকে সামনে রেখে ছাত্রসমাজ কতটা বড় জমায়েত করতে পারে এবং সরকারের তরফে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় নাকি পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তার উপরও অনেক কিছু নির্ভর করবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ঝাড়খণ্ডের ছাত্রসমাজ নিজেদের দাবি নিয়ে এবার সরাসরি সরকারের দরজায় পৌঁছতে চাইছে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

বইয়ের স্টলে বিবেকানন্দ-বুদ্ধ-শঙ্করাচার্যকে রাখছে সিপিএম

দুর্গাপুজোর আবহে এবার বইয়ের স্টল ঘিরে নতুন কৌশল নিয়েছে সিপিএম। প্রতি বছরের মতো মার্কস, এঙ্গেলস, লেনিন কিংবা বিপ্লবী সাহিত্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে এবার **স্বামী বিবেকানন্দ, গৌতম বুদ্ধ এবং আদি শঙ্করাচার্যের রচনাও** রাখা হবে দলের বিভিন্ন বইয়ের স্টলে। দলীয় নেতৃত্বের...

রাষ্ট্রসংঘে শাহবাজের বক্তব্যের কড়া জবাব দিল ভারত

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী **শাহবাজ শরিফ** ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলার পর কড়া পাল্টা জবাব দিল নয়াদিল্লি। ‘রাইট অব রিপ্লাই’ (Right of Reply) ব্যবহার করে ভারতের প্রতিনিধি পাকিস্তানের বক্তব্যকে ‘বাস্তবতা আড়াল করার চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেন এবং...

জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে এম এ বেবিকে ফোন মমতার

প্রধান নির্বাচন কমিশনার **জ্ঞানেশ কুমার**কে অপসারণের সম্ভাব্য প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। এই আবহেই সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক **এম এ বেবি**কে ফোন করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী **মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়**। বিরোধী শিবিরের বিভিন্ন দলকে...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.