মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রাজ্যের জল ও বর্জ্যজল পরিকাঠামোয় ধারাবাহিক সাইবার হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্তত সাতটি মার্কিন রাজ্যে জল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কম্পিউটার এবং অপারেশনাল প্রযুক্তি ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহের তালিকায় রয়েছে ইরান-ঘনিষ্ঠ সাইবার গোষ্ঠী। তবে এখনও পর্যন্ত মার্কিন কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে এই সমস্ত হামলার জন্য ইরানকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করেনি।
ঘটনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ হামলাগুলির লক্ষ্য কোনও সাধারণ ওয়েবসাইট বা ব্যক্তিগত কম্পিউটার নয়। জল সরবরাহের পাম্প, চাপ নিয়ন্ত্রণ, পরিশোধন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত ইন্টারনেট-সংযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই জল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকে সতর্ক করেছে।
### কোন কোন রাজ্যে হামলার অভিযোগ?
জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে জল ও বর্জ্যজল পরিষেবা সংক্রান্ত সাইবার ঘটনার খবর সামনে আসতে শুরু করে। মিনেসোটায় একাধিক জল পরিষেবা ব্যবস্থায় সমস্যা ধরা পড়ে। এরপর মিশিগান, জর্জিয়া, নিউ জার্সি এবং সাউথ ডাকোটার মতো রাজ্যেও একই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া যায়। বিভিন্ন রিপোর্টে অন্তত সাতটি রাজ্যের কথা বলা হয়েছে।
মিনেসোটার ব্রাহামের ঘটনা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সেখানে জল সরবরাহ ব্যবস্থার একটি অংশে নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে জল সংরক্ষণ এবং ব্যবহারে সতর্কতা জারি করতে হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে পরিষেবা স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জর্জিয়ার ক্লেটন কাউন্টিতেও জল সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়। সেখানে সাময়িকভাবে জলচাপ কমে যায় এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাসিন্দাদের জন্য জল সংক্রান্ত পরামর্শ জারি করা হয়েছিল। তবে সাধারণ পানীয় জলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে এমন কোনও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
### কেন ইরানের দিকে সন্দেহ?
মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এর আগে থেকেই ইরান-ঘনিষ্ঠ সাইবার গোষ্ঠীগুলির কার্যকলাপ নিয়ে সতর্ক করে আসছে। বিশেষ করে ইন্টারনেটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত Programmable Logic Controllers বা PLC-কে লক্ষ্য করার বিষয়ে FBI, CISA, NSA এবং অন্যান্য মার্কিন সংস্থা সতর্কবার্তা জারি করেছে। এই ডিভাইসগুলি শিল্প ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।
মার্কিন সরকারি সতর্কতায় বলা হয়েছে, ইরান-ঘনিষ্ঠ সাইবার অভিনেতারা ইন্টারনেট-সংযুক্ত operational technology বা OT ডিভাইসকে কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। রকওয়েল অটোমেশন/অ্যালেন-ব্র্যাডলি PLC-সহ বিভিন্ন শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। পরবর্তীতে সতর্কবার্তায় Schneider Electric এবং Siemens-এর মতো নির্মাতাদের প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়।
এই পূর্ববর্তী সাইবার কার্যকলাপ এবং সাম্প্রতিক জল পরিকাঠামোয় হামলার মধ্যে মিল থাকায় তদন্তকারীদের সন্দেহ ইরান-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর দিকে যাচ্ছে।
### তবে কি ইরানই হামলা করেছে?
এই প্রশ্নের উত্তর এখনও নিশ্চিত নয়। তদন্তকারীরা ইরান-ঘনিষ্ঠ হ্যাকারদের সম্ভাব্য ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন। কিন্তু কোনও সাইবার হামলার উৎস নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা অত্যন্ত জটিল।
হ্যাকাররা বিভিন্ন দেশের সার্ভার, VPN, প্রক্সি এবং অন্য প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো ব্যবহার করতে পারে। ফলে হামলার প্রযুক্তিগত সূত্র কোনও নির্দিষ্ট দেশের দিকে ইঙ্গিত করলেও সেটিই যে সরাসরি সেই দেশের সরকারের নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে, তা প্রমাণ করতে অতিরিক্ত তথ্য প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক হামলাগুলির ক্ষেত্রেও তাই ইরানের নাম সন্দেহের কেন্দ্রে থাকলেও বিষয়টি এখনও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।
### জল পরিকাঠামো কেন গুরুত্বপূর্ণ?
জল সরবরাহ ব্যবস্থা একটি দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক পরিকাঠামোর অংশ। সাধারণ মানুষের পানীয় জল, শিল্পক্ষেত্র, হাসপাতাল, অগ্নিনির্বাপণ এবং অন্যান্য পরিষেবা অনেকটাই নির্ভর করে নিরবচ্ছিন্ন জল সরবরাহের উপর।
এই ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় সাইবার হামলার ঝুঁকিও বেড়েছে। আগে যেখানে বহু যন্ত্র স্থানীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হত, এখন দূর থেকে নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য ইন্টারনেট-সংযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে।
এর ফলে সুবিধার পাশাপাশি নতুন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। কোনও আক্রমণকারী যদি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ঢুকে পাম্প, ভালভ বা চাপ নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিবর্তন করতে পারে, তাহলে বাস্তব পরিকাঠামোয় তার প্রভাব পড়তে পারে।
### হামলায় কী ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে?
সাম্প্রতিক ঘটনায় সব জায়গায় একই মাত্রার ক্ষতি হয়নি। কোথাও কেবল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে, আবার কোথাও অপারেশনাল সমস্যাও দেখা দিয়েছে।
মিনেসোটার ব্রাহাম শহরে জলাধারে জল পুনরায় ভরার প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। স্থানীয় কর্মীদের দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। অন্যান্য জায়গায়ও কিছু জল সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক পদ্ধতির বদলে manual control-এর দিকে যেতে বাধ্য হয়েছিল।
তবে এখনও পর্যন্ত কোনও বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি জল সরবরাহ বিপর্যয় বা ব্যাপকভাবে পানীয় জল দূষিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এটাই আপাতত সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়।
### মার্কিন প্রশাসনের সতর্কবার্তা
ঘটনার পর মার্কিন প্রশাসন জল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিজেদের operational technology সিস্টেমের নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব PLC বা নিয়ন্ত্রণ ডিভাইস সরাসরি ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত, সেগুলিকে সুরক্ষিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রয়োজন না থাকলে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ডিভাইসকে সরাসরি ইন্টারনেটে সংযুক্ত না রাখাই নিরাপদ। পাশাপাশি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড, বহুস্তরীয় authentication, network segmentation এবং নিয়মিত security monitoring-এর মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
মার্কিন সরকারি সতর্কবার্তাতেও ইন্টারনেট থেকে PLC-গুলির সরাসরি exposure কমানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
### ছোট শহরগুলিই কি বেশি ঝুঁকিতে?
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি বড় উদ্বেগ হল ছোট শহর এবং স্থানীয় জল সরবরাহ সংস্থাগুলির সীমিত প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো। বড় শহরগুলির তুলনায় অনেক ছোট municipality-এর নিজস্ব cybersecurity team থাকে না। ফলে পুরনো সফটওয়্যার, দুর্বল password কিংবা ভুলভাবে internet-connected থাকা ডিভাইস আক্রমণকারীদের সুযোগ করে দিতে পারে।
মিনেসোটার ব্রাহামের মতো ছোট শহরের ঘটনাগুলি সেই দুর্বলতাকেই সামনে এনেছে। একটি ছোট জল পরিষেবা ব্যবস্থার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সাইবার হামলা মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন হতে পারে।
### ইরানের সাইবার সক্ষমতা নিয়ে পুরনো সতর্কতা
ইরান-ঘনিষ্ঠ সাইবার গোষ্ঠীর কার্যকলাপ নতুন কিছু নয়। মার্কিন প্রশাসন অতীতেও ইরানের সঙ্গে যুক্ত হ্যাকারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছিল, ইরানের Ministry of Intelligence and Security-এর সঙ্গে যুক্ত সাইবার কার্যকলাপ এবং psychological operations পরিচালনায় ব্যবহৃত কয়েকটি ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই ধরনের ঘটনাই দেখায় যে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সাইবার সক্ষমতাকে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
### যুদ্ধের আবহে সাইবার হামলার গুরুত্ব
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির সময়কালও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সাইবার ক্ষেত্রটি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরাসরি সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কোনও দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় সাইবার হামলা চালানো তুলনামূলক কম খরচে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। জল, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, পরিবহণ বা স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত বিঘ্ন সাধারণ মানুষের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই মার্কিন জল সরবরাহ ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিকে শুধু স্থানীয় প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখছে না নিরাপত্তা মহল।
### ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক
মিনেসোটার জল ব্যবস্থায় সাইবার হামলার ঘটনায় ইরানের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানকে দায়ী করার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে মিনেসোটার প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। অন্যদিকে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা এবং বিশেষজ্ঞ এই ধরনের হামলার ক্ষেত্রে ইরান-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর সম্ভাব্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন।
ফলে ঘটনাটি এখন শুধু cybersecurity-এর বিষয় নয়, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ হয়ে উঠেছে।
### সামনে কী হতে পারে?
তদন্তকারীরা এখন হামলাগুলির মধ্যে কোনও সমন্বিত যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখছেন। একই ধরনের প্রযুক্তি বা vulnerability ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, একই ধরনের digital infrastructure থেকে হামলা পরিচালিত হয়েছিল কি না এবং পূর্বে শনাক্ত ইরান-ঘনিষ্ঠ সাইবার কার্যকলাপের সঙ্গে মিল রয়েছে কি না—এসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ।
যদি তদন্তে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক বা সাইবার পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তবে আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল জল সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখা এবং সম্ভাব্য নতুন হামলা প্রতিরোধ করা।
### বড় শিক্ষা কী?
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জল সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালনা করা সুবিধাজনক হলেও, সেই প্রযুক্তিকে যথেষ্ট সুরক্ষা না দিলে সেটিই দুর্বলতায় পরিণত হতে পারে।
অন্তত সাতটি রাজ্যে জল পরিকাঠামোকে ঘিরে সাইবার হামলার খবর প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের প্রমাণ নেই, ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী আক্রমণ হলে পরিস্থিতি অনেক বেশি গুরুতর হতে পারে।
সব মিলিয়ে, আমেরিকার একাধিক রাজ্যের জল ও বর্জ্যজল ব্যবস্থায় সাইবার হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। অন্তত সাতটি রাজ্যে এই ধরনের ঘটনা সামনে আসার পর ইরান-ঘনিষ্ঠ সাইবার গোষ্ঠীর সম্ভাব্য ভূমিকা তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। তবে ইরান সরাসরি এই হামলা চালিয়েছে—এমন চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা এখনও নেই। মার্কিন প্রশাসনের আগের সতর্কবার্তায় ইরান-ঘনিষ্ঠ হ্যাকারদের PLC এবং internet-connected operational technology লক্ষ্য করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছিল।
জল সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক পরিকাঠামোকে সাইবার হামলার লক্ষ্য করা হলে তার প্রভাব শুধু কম্পিউটার সিস্টেমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বাস্তব জীবনে জলচাপ, পাম্পিং এবং পরিষেবা ব্যবস্থাতেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনায় কিছু এলাকায় এমন operational disruption দেখা গেলেও এখনও পর্যন্ত ব্যাপক জলদূষণ বা দীর্ঘমেয়াদি পরিষেবা বিপর্যয়ের প্রমাণ নেই।
এখন তদন্তের ফলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হামলাগুলির প্রকৃত উৎস, ব্যবহৃত পদ্ধতি এবং সম্ভাব্য সংগঠিত যোগসূত্র স্পষ্ট হলে বোঝা যাবে এটি কতটা বড় আন্তর্জাতিক সাইবার অভিযান। একই সঙ্গে ছোট ও মাঝারি জল পরিষেবা সংস্থাগুলির cybersecurity পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এখন মার্কিন প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


