ভারতের সড়ক পরিকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে টোল আদায়ের পরিমাণও। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, **২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশজুড়ে টোল আদায়ের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ₹৭০,২৮৭ কোটিতে**। এই বিপুল রাজস্ব দেশের জাতীয় সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং আধুনিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সংসদে এই তথ্য তুলে ধরেছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী **নিতিন গড়করি**।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, **উত্তরপ্রদেশ** টোল সংগ্রহের নিরিখে দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্যটিতে মোট **₹৮,৮৬২ কোটি** টোল সংগ্রহ হয়েছে, যা দেশের সর্বোচ্চ। উত্তরপ্রদেশে গত কয়েক বছরে একাধিক এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণ এবং যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক দশকে ভারতজুড়ে দ্রুতগতিতে জাতীয় সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হওয়ায় যান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে **FASTag**-ভিত্তিক ইলেকট্রনিক টোল সংগ্রহ ব্যবস্থা চালু হওয়ার ফলে টোল আদায়ের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা কমেছে। বর্তমানে জাতীয় সড়কের টোল প্লাজাগুলিতে ৯৮ শতাংশেরও বেশি লেনদেন FASTag-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, টোল থেকে প্রাপ্ত অর্থ নতুন সড়ক নির্মাণ, পুরনো রাস্তার সংস্কার, সেতু নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং জাতীয় মহাসড়কের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করা হয়। ফলে টোল সংগ্রহ বৃদ্ধি শুধু রাজস্ব বৃদ্ধির ইঙ্গিত নয়, বরং দেশের অবকাঠামো উন্নয়নেরও প্রতিফলন।
এদিকে ভারতীয় সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে কেন্দ্র সরকার **AI-ভিত্তিক Multi-Lane Free Flow (MLFF)** টোল ব্যবস্থা চালুর দিকেও এগোচ্ছে। এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণভাবে চালু হলে ভবিষ্যতে গাড়িকে আর টোল প্লাজায় থামতে হবে না। নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ এবং উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল কেটে নেওয়া হবে। সরকারের দাবি, এর ফলে যানজট কমবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং টোল সংগ্রহ আরও বাড়বে।
পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, FASTag চালু হওয়ার পর থেকেই টোল প্লাজায় অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে যেখানে টোল দিতে কয়েক মিনিট সময় লাগত, এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এক মিনিটেরও কম সময়ে গাড়ি পার হয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে AI-ভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সময় আরও কমে প্রায় শূন্যে নেমে আসতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সড়ক অবকাঠামো উন্নত হলে শিল্প, বাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহণের খরচ কমে যায়। দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা বিনিয়োগ আকর্ষণ করে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সেই কারণে টোল সংগ্রহের অর্থকে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে টোল বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ যাত্রী এবং পরিবহণ সংস্থার একাংশের মধ্যে ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। তাঁদের দাবি, টোলের অর্থ সঠিকভাবে অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত। একই সঙ্গে উন্নত রাস্তা, নিরাপদ যাত্রা এবং আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করাও জরুরি।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক বছরে আরও নতুন এক্সপ্রেসওয়ে, অর্থনৈতিক করিডর এবং জাতীয় মহাসড়ক চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টোল সংগ্রহের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি ডিজিটাল টোলিং ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ফলে রাজস্ব সংগ্রহে স্বচ্ছতা ও দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে।
সব মিলিয়ে, **২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশজুড়ে ₹৭০,২৮৭ কোটি টোল আদায়** ভারতের সড়ক অবকাঠামো খাতে দ্রুত অগ্রগতিরই প্রতিফলন। উত্তরপ্রদেশ সর্বোচ্চ টোল সংগ্রহকারী রাজ্য হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছে, আর কেন্দ্র সরকার ডিজিটাল ও AI-নির্ভর টোল ব্যবস্থার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই পরিষেবাকে আরও আধুনিক করার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।


