Wednesday, August 12, 2026

Creating liberating content

श्रीलंका दौरे के बाद...

भारतीय क्रिकेट टीम के अगले अंतरराष्ट्रीय कार्यक्रम को लेकर बड़ी जानकारी सामने आई...

চাঁদে ঘাঁটি তৈরিতে NASA-র...

মহাকাশ গবেষণায় ভারত ও আমেরিকার সহযোগিতা এবার আরও বড় মাত্রা পেতে চলেছে। চাঁদের...

‘বন্দে মাতরম’-এর অপমানে এবার...

জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি এবার দেশের জাতীয় গান **‘বন্দে মাতরম’**-এর মর্যাদা ও পরিবেশনের ক্ষেত্রেও...

নেতাজি-অসম্মানে কড়া ব্যবস্থা, অনন্ত...

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অসম্মানজনক পোস্ট ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের...
Homeবাংলাইমরান খান কি...

ইমরান খান কি মৃত? পাকিস্তানি সাংবাদিকের বিস্ফোরক দাবি

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা PTI প্রধান ইমরান খানকে ঘিরে ফের চরম রহস্য তৈরি হয়েছে। এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের বিস্ফোরক দাবিকে কেন্দ্র করে বুধবার দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সাংবাদিক ওয়াজাহাত সইদ খান দাবি করেন, কারাগারে বন্দি ইমরান খান আর বেঁচে নেই। তবে এই দাবির কোনও স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। বরং পরবর্তীতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ইমরান খানের মৃত্যুর খবরকে **ভুয়ো** বলে খারিজ করেছে। 

ঘটনার আরও গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ইমরানের দুই ছেলে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বাবার সঙ্গে দেখা বা সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারার অভিযোগ করে আসছেন। এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতাই নতুন করে ইমরানের নিরাপত্তা ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। 

### সাংবাদিকের দাবিতে তোলপাড় পাকিস্তান

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সইদ খান একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, সামরিক সূত্রের মাধ্যমে তিনি ইমরান খানের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। তাঁর দাবির পরই সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। 

তবে এই দাবি প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কারণ ইমরান খানের মৃত্যুর বিষয়ে কোনও সরকারি নিশ্চিত ঘোষণা আসেনি। বরং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এমন খবরকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। 

ফলে বর্তমানে বিষয়টি মূলত **একটি বিতর্কিত ও অযাচাইকৃত মৃত্যুর দাবি** হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

### পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাল্টা বক্তব্য

সাংবাদিকের দাবির পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বিরলভাবে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানায়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ইমরান খানের মৃত্যুর খবরকে ‘false’ বা মিথ্যা বলে খারিজ করা হয়েছে। 

এ ধরনের গুজবের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের মতো রাজনৈতিকভাবে অস্থির পরিস্থিতিতে সরকারি বা সামরিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইমরান খান শুধু পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতাও।

তাঁকে ঘিরে কোনও গুরুতর খবর প্রকাশিত হলে তার রাজনৈতিক প্রভাবও অত্যন্ত বড় হতে পারে।

### কেন ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে এত প্রশ্ন?

ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে বন্দি। তাঁর পরিবার এবং PTI-এর পক্ষ থেকে বারবার তাঁর স্বাস্থ্য ও কারাবন্দি অবস্থার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশেষ করে তাঁর চোখের সমস্যা নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বোন পাকিস্তান সরকারের দেওয়া ইমরানের চোখের অবস্থার ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

ফলে নতুন করে তাঁর মৃত্যু সংক্রান্ত দাবি সামনে আসতেই পুরনো স্বাস্থ্যসংক্রান্ত উদ্বেগগুলি আবার আলোচনায় এসেছে।

### ছেলেদের সঙ্গে দেখা হয়নি দীর্ঘদিন

ইমরান খানের দুই ছেলে—কাসিম খান এবং সুলেমান খান—বিদেশে থাকেন। তাঁরাও দীর্ঘদিন ধরে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার অভিযোগ করেছেন।

আগেও তাঁরা জানিয়েছিলেন যে তাঁরা তাঁদের বাবাকে দেখতে পারছেন না এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। 

২০২৫ সালের শেষদিকে কাসিম খান এমনকি বাবার জীবিত থাকার প্রমাণ প্রকাশের দাবিও তুলেছিলেন। সেই সময়ও পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবীদের ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছিল। 

এখন নতুন করে মৃত্যুর দাবি সামনে আসায় সেই পুরনো উদ্বেগই আরও তীব্র হয়েছে।

### ‘Proof of Life’ দাবি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কোনও বন্দি রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে পরিবার এবং আইনজীবীদের নিয়মিত যোগাযোগ না থাকলে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

ইমরানের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হয়েছে। তাঁর ছেলেরা আগে প্রকাশ্যে বাবার জীবিত থাকার প্রমাণ চেয়েছিলেন। 

যদিও এই মুহূর্তে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী মৃত্যুর খবর অস্বীকার করেছে, তারপরও পরিবার ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সরাসরি যোগাযোগের দাবি উঠতে পারে।

কারণ কোনও সরকারি বিবৃতি এবং পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ—দুটি বিষয়ই আলাদা।

### ইমরান খান কোথায় বন্দি?

ইমরান খান পাকিস্তানের **Adiala Jail**-এ বন্দি রয়েছেন। ২০২৩ সালের আগস্টে তাঁর গ্রেফতারির পর থেকেই তিনি জেলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। 

তাঁর কারাবাসের সময় বারবার তাঁর সঙ্গে পরিবারের সাক্ষাৎ, আইনজীবীদের প্রবেশাধিকার এবং চিকিৎসা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এই কারণেই তাঁর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কোনও নতুন খবর খুব দ্রুত রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণ হয়ে ওঠে।

### PTI-এর প্রতিক্রিয়া

মৃত্যুর দাবিকে কেন্দ্র করে PTI-এর মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম *The Express Tribune* জানিয়েছে, PTI ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে ছড়িয়ে পড়া উদ্বেগজনক রিপোর্টের পর দেশজুড়ে উৎকণ্ঠার কথা জানিয়েছে। 

দলের পক্ষ থেকে ইমরানের নিরাপত্তা ও অবস্থান সম্পর্কে স্বচ্ছতা চাওয়ার বিষয়টি আরও জোরালো হতে পারে।

ইমরান খান এখনও PTI-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুখ। তাই তাঁর সম্পর্কে এমন কোনও খবর দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকেও সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে।

### পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরানের গুরুত্ব

ইমরান খান পাকিস্তানের ক্রিকেট কিংবদন্তি থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠেন। তাঁর নেতৃত্বে PTI পাকিস্তানের রাজনীতিতে অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হয়।

২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরার পর তাঁর সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক আরও তীব্র সংঘাতের দিকে যায়।

পরবর্তীতে একাধিক মামলায় তাঁকে কারাবন্দি করা হয়।

তাঁর জনপ্রিয়তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান খানের প্রভাব এখনও অত্যন্ত বড়।

### মৃত্যুর খবর ছড়ালে কী হতে পারে?

ইমরান খানের মৃত্যুর খবর সত্যি হলে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকত। তাঁর সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ, বিক্ষোভ এবং দেশব্যাপী রাজনৈতিক কর্মসূচির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারত।

PTI ইতিমধ্যেই ইমরানের মুক্তি এবং তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে।

তবে যেহেতু পাকিস্তানের সেনাবাহিনী মৃত্যুর খবর অস্বীকার করেছে, এখন মূল বিষয় হল—এই দাবির উৎস কতটা নির্ভরযোগ্য এবং কোনও স্বাধীন প্রমাণ সামনে আসে কি না।

### সাংবাদিকের দাবি নিয়ে প্রশ্ন

কোনও রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর শুধুমাত্র একটি সূত্রের দাবির ভিত্তিতে নিশ্চিত করা যায় না।

বিশেষ করে যখন সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার বা সেনাবাহিনী তা অস্বীকার করছে, তখন আরও বেশি সতর্কতা প্রয়োজন।

এই মুহূর্তে ইমরান খানের মৃত্যুর কোনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। তাই **‘ইমরান খান মারা গিয়েছেন’—এমন নিশ্চিত বক্তব্য দেওয়া ঠিক হবে না।**

বরং বলা যায়, তাঁর মৃত্যুর দাবি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সেই দাবি অস্বীকার করেছে।

### কেন এমন গুজব ছড়াল?

ইমরান খানের পরিবারকে দীর্ঘদিন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার অভিযোগ এই গুজব ছড়ানোর অন্যতম কারণ হতে পারে। তাঁর ছেলেরা আগে থেকেই বাবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।

এর পাশাপাশি ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে চোখের সমস্যা নিয়ে তাঁর পরিবার এবং পাকিস্তান সরকারের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য দেখা গিয়েছে। 

এই সমস্ত বিষয় মিলিয়েই নতুন করে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

### আগেও উঠেছিল জীবিত থাকার প্রমাণের দাবি

ইমরান খানের ছেলের পক্ষ থেকে এর আগেও তাঁর জীবিত থাকার প্রমাণ চাওয়া হয়েছিল। সেই সময় পরিবার অভিযোগ করেছিল যে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলতে বা সাক্ষাৎ করতে পারছেন না। 

অর্থাৎ বর্তমান পরিস্থিতি একেবারে নতুন নয়। তবে এবার একজন পাকিস্তানি সাংবাদিক সরাসরি ইমরানের মৃত্যুর দাবি করায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্ব পেয়েছে।

### আন্তর্জাতিক মহলের নজর

ইমরান খান পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর কারাবাস এবং স্বাস্থ্য নিয়ে আগেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

তাই তাঁর মৃত্যুর মতো দাবি সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে।

তবে নির্ভরযোগ্য confirmation না পাওয়া পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমগুলির পক্ষ থেকেও সতর্কতার সঙ্গে খবরটি উপস্থাপন করা হচ্ছে।

### পরিবারের উদ্বেগকে হালকাভাবে দেখা যাচ্ছে না

ইমরানের ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরে বাবার সঙ্গে যোগাযোগের অধিকার দাবি করে আসছেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও তাঁরা পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বাবাকে দেখতে যাওয়ার জন্য ভিসা সংক্রান্ত বাধা তৈরির অভিযোগ করেছিলেন। 

তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাবার স্বাস্থ্য এবং কারাবন্দি অবস্থার বিষয়ে তাঁরা পর্যাপ্ত তথ্য পাচ্ছেন না।

এই অভিযোগগুলি মৃত্যুর দাবি প্রমাণ করে না, কিন্তু কেন তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এতটা উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, তার একটি প্রেক্ষাপট তৈরি করে।

### পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা

ইমরান খানের জনপ্রিয়তার কারণে তাঁকে ঘিরে যে কোনও বড় ঘটনা পাকিস্তানে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

তাঁর মৃত্যু সত্যি হলে তা দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারত। আবার মৃত্যুর খবর ভুয়ো প্রমাণিত হলেও এই ধরনের গুজব রাজনৈতিক অবিশ্বাস এবং উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।

তাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল তথ্য যাচাই এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখা।

### সামরিক বাহিনীর বিবৃতি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইমরান খানের সঙ্গে পাকিস্তানের establishment-এর সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের বিষয়।

তাই তাঁর মৃত্যু সংক্রান্ত গুজবের পর সেনাবাহিনীর সরাসরি বক্তব্য প্রকাশ রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মৃত্যুর খবর মিথ্যা। 

এখন প্রশ্ন হল, ইমরান খানকে সামনে এনে কোনও সরাসরি proof of life বা তাঁর বর্তমান অবস্থার স্বাধীন confirmation প্রকাশ করা হবে কি না।

### গুজব বনাম তথ্য

বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি বিষয় আলাদা করে দেখা প্রয়োজন—

**প্রথমত**, একজন পাকিস্তানি সাংবাদিক ইমরান খানের মৃত্যুর দাবি করেছেন।

**দ্বিতীয়ত**, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সেই দাবি অস্বীকার করেছে।

**তৃতীয়ত**, ইমরানের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ করছে।

এই তিনটি তথ্য একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায়, পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। কিন্তু এর ভিত্তিতে ইমরান খান মৃত—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

### ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে পুরনো বিতর্ক

ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে গত কয়েক মাসেও বিভিন্ন খবর সামনে এসেছে। বিশেষ করে তাঁর চোখের সমস্যা নিয়ে তাঁর পরিবার পাকিস্তান সরকারের দেওয়া তথ্য নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। 

এছাড়াও কারাগারে তাঁর চিকিৎসা এবং স্বাধীন চিকিৎসকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ এবং বর্তমান মৃত্যুর দাবির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

### সামনে কী হতে পারে?

এখন সবার নজর থাকবে পাকিস্তান সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ইমরান খানের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে আরও নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয় কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁর পরিবার বা আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি দেওয়া হলে পরিস্থিতি অনেকটাই পরিষ্কার হতে পারে।

একইসঙ্গে যে সাংবাদিক মৃত্যুর দাবি করেছেন, তাঁর সূত্র ও তথ্যের ভিত্তিও যাচাই করা প্রয়োজন।

### রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন

ইমরান খানকে ঘিরে শুধু তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, PTI-এর ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

ইমরান দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকলেও তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাঁর জনপ্রিয়তা PTI-এর রাজনীতিতে এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

তাই তাঁর শারীরিক অবস্থার প্রতিটি আপডেট দলের রাজনৈতিক কৌশল এবং পাকিস্তানের বিরোধী রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

### শেষ কথা

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী **ইমরান খানকে নিয়ে ফের চরম রহস্য তৈরি হয়েছে**। পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সইদ খান দাবি করেছেন যে কারাগারে বন্দি ইমরান খান আর বেঁচে নেই। কিন্তু এই দাবির কোনও স্বাধীন নিশ্চিত প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। বরং পাকিস্তানি সেনাবাহিনী স্পষ্টভাবে এই খবরকে **মিথ্যা** বলে অস্বীকার করেছে। 

অন্যদিকে, ইমরানের দুই ছেলে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বাবার সঙ্গে দেখা বা কথা বলতে না পারার অভিযোগ করে আসছেন। অতীতে তাঁরা এমনকি ইমরান খান জীবিত থাকার প্রমাণও দাবি করেছিলেন। 

তাঁর স্বাস্থ্য নিয়েও আগে থেকেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে চোখের সমস্যা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাঁর পরিবার ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। 

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল **গুজব এবং যাচাই করা তথ্যকে আলাদা করে দেখা**। বর্তমানে উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী ইমরান খানের মৃত্যুর দাবি নিশ্চিত নয়; বরং সংশ্লিষ্ট পাকিস্তানি সামরিক কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে। তাই তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে আরও নির্ভরযোগ্য এবং স্বাধীন confirmation-এর অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

চাঁদে ঘাঁটি তৈরিতে NASA-র আমন্ত্রণ পেল ISRO

মহাকাশ গবেষণায় ভারত ও আমেরিকার সহযোগিতা এবার আরও বড় মাত্রা পেতে চলেছে। চাঁদের বুকে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে NASA যে **Moon Base Programme** নিয়ে এগোচ্ছে, সেই কর্মসূচিতে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা **ISRO**-কে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে মার্কিন...

‘বন্দে মাতরম’-এর অপমানে এবার থেকে কড়া শাস্তি

জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি এবার দেশের জাতীয় গান **‘বন্দে মাতরম’**-এর মর্যাদা ও পরিবেশনের ক্ষেত্রেও আরও কড়া আইনি সুরক্ষা কার্যকর হল। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু **Prevention of Insults to National Honour (Amendment) Bill, 2026**-এ সম্মতি দিয়েছেন। এর ফলে বিলটি আইনে পরিণত হয়েছে।...

নেতাজি-অসম্মানে কড়া ব্যবস্থা, অনন্ত মহারাজকে ঘিরে বাড়ছে চাপ

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অসম্মানজনক পোস্ট ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, নেতাজিকে অসম্মান করে কোনও ধরনের মন্তব্য, মিথ্যা প্রচার...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.