উৎসবের মরসুমের আগে ফের ঊর্ধ্বমুখী হল সোনার দাম। রবিবার, **২৬ জুলাই ২০২৬**, দেশের একাধিক শহরে ২২ ক্যারেট ও ২৪ ক্যারেট সোনার দামে বৃদ্ধি বা উচ্চস্তরে স্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার এবং দেশীয় চাহিদার প্রভাবে বাজারে এই পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে প্রায় **₹১৪,৪৯৩**, আর ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে **₹১৩,২৮৫**-এর কাছাকাছি রয়েছে। আগের দিনের তুলনায় দাম উচ্চস্তরে বজায় রয়েছে, ফলে গয়না কেনার পরিকল্পনা থাকলে ক্রেতাদের বাড়তি খরচের মুখে পড়তে হতে পারে।
কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই, হায়দরাবাদ-সহ দেশের বড় শহরগুলিতে সোনার দামে সামান্য তারতম্য দেখা যায়। এর কারণ হিসেবে স্থানীয় চাহিদা, পরিবহণ ব্যয়, কর এবং জুয়েলার্সদের মূল্য নির্ধারণ নীতিকে দায়ী করা হয়। তাই এক শহরের তুলনায় অন্য শহরে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দামে কিছুটা পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ওঠানামার পাশাপাশি মার্কিন ডলারের মূল্য, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির নীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ভারতীয় বাজারে সোনার দামের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। যখন আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ে, তখন দেশীয় বাজারেও তার প্রতিফলন দেখা যায়।
অন্যদিকে, ভারতের অভ্যন্তরে আমদানি শুল্ক, জিএসটি, পরিবহণ ব্যয় এবং গয়নার মেকিং চার্জও শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের পরিশোধ করতে হওয়া মোট টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে বাজারদরের পাশাপাশি গয়না কেনার আগে অতিরিক্ত খরচ সম্পর্কেও সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন জুয়েলারি বিশেষজ্ঞরা।
ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, বিয়ে ও উৎসবের মরসুম যত এগিয়ে আসবে, ততই সোনার চাহিদা বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলে দেশীয় বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের উপর ভবিষ্যতের দাম অনেকটাই নির্ভর করবে।
বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে সোনা এখনও নিরাপদ সম্পদগুলির অন্যতম। তবে যারা শুধুমাত্র গয়না কেনার উদ্দেশ্যে বাজারে যাচ্ছেন, তাঁদের প্রতিদিনের দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। পাশাপাশি হলমার্কযুক্ত গয়না কেনা এবং অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকেই কেনাকাটা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া ২২ ক্যারেট ও ২৪ ক্যারেট সোনার মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কেও সচেতন থাকা জরুরি। ২৪ ক্যারেট সোনা সবচেয়ে বিশুদ্ধ হলেও গয়না তৈরির ক্ষেত্রে ২২ ক্যারেট সোনাই বেশি ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি তুলনামূলকভাবে বেশি মজবুত এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য উপযোগী।
সব মিলিয়ে, ২৬ জুলাইয়ের বাজারে সোনার দাম উচ্চস্তরে থাকায় ক্রেতাদের কিছুটা বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। তাই গয়না বা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে সোনা কেনার আগে দিনের বাজারদর, মেকিং চার্জ এবং হলমার্কের বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত হবে।


