স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে কলকাতায় পাক গুপ্তচর সন্দেহে এক ব্যক্তির গ্রেফতারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কলকাতা পুলিশের **Special Task Force (STF)**-এর হাতে গ্রেফতার হওয়া পাকিস্তানি নাগরিক রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলমের কাছ থেকে কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা **ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি ও ম্যাপ** উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। এই ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ১৫ আগস্টের আগে ওই ব্যক্তি বা তাঁর সহযোগীদের কোনও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এসটিএফের তদন্ত অনুযায়ী, শুধু ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি বা ম্যাপ নয়, ধৃতদের কাছ থেকে পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের একাধিক মোবাইল নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, দুটি সিম কার্ড এবং ফোন নম্বর লেখা একটি নোটবুকও উদ্ধার হয়েছে। কিছু চ্যাট এবং ফোন নম্বর মুছে ফেলার প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।
এই সমস্ত তথ্য সামনে আসার পর তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—**কেন একজন পাকিস্তানি নাগরিকের কাছে কলকাতার সেনা সদর দপ্তর ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি এবং ম্যাপ ছিল?** সেই তথ্য তিনি কোথা থেকে পেলেন এবং কোথায় পাঠানোর চেষ্টা করছিলেন, এখন তারই উত্তর খুঁজছে এসটিএফ।
## বেনাপোল সীমান্তে পালানোর আগেই গ্রেফতার
তদন্তকারীদের দাবি, রানা রউফ খালিদ দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছিলেন। বাংলাদেশ হয়ে পাকিস্তানে বা অন্য কোনও জায়গায় পালানোর প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে খবর পায় এসটিএফ।
এসটিএফের দাবি অনুযায়ী, **১১ আগস্ট** বিশেষ সূত্রে রানার গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর তাঁর উপর নজরদারি শুরু করা হয়। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তিনি এবং তাঁর সহযোগী মহম্মদ ইজাজ যশোর রোড ধরে বেনাপোল সীমান্তের দিকে এগোচ্ছেন। এরপর হাবড়ার চোংদা মোড় এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টা নাগাদ সেখানে অভিযান চালিয়ে রানা রউফ খালিদ এবং মহম্মদ ইজাজকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, বাংলাদেশে প্রবেশের আগে সীমান্তের কয়েকজন দালালের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন রানা। ফলে শুধু গুপ্তচরবৃত্তি নয়, সীমান্তপথে পালানোর জন্য তিনি কতটা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে।
## ১৪ বছর ধরে ভারতে থাকার অভিযোগ
এই মামলার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ধৃত রানা নাকি প্রায় **১৪ বছর ধরে ভারতে বসবাস করছিলেন**।
এসটিএফের দাবি, পাকিস্তানের ফয়সলাবাদ জেলার হাফিজাবাদ গ্রামের বাসিন্দা রানা ২০১২ সালে নেপালের কাঠমান্ডু সীমান্ত হয়ে রকসোল দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি কলকাতার তপসিয়া সেকেন্ড লেনে বসবাস শুরু করেন।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, তাঁর সহযোগী ইজাজের সাহায্যে তিনি ‘ওয়াহাব আলম’ নামে ভুয়ো ভোটার এবং আধার কার্ড তৈরি করেছিলেন। পরবর্তীতে **SIR প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে** বলে তদন্তে জানা গিয়েছে।
অর্থাৎ, দীর্ঘ সময় ধরে ভারতীয় পরিচয় ব্যবহার করে তিনি কীভাবে এ দেশে ছিলেন এবং কীভাবে প্রয়োজনীয় নথি তৈরি করেছিলেন, সেটিও এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
## পাক সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগের অভিযোগ
এসটিএফ সূত্রে আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, রানা এবং ইজাজের মূল কাজ ছিল **ভারতীয় সেনার গতিবিধি, সামরিক পরিকাঠামো এবং রেলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর কাছে পৌঁছে দেওয়া**।
পেট্রাপোল এবং ঘোজাডাঙা সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সেনার গতিবিধি এবং সামরিক পরিকাঠামো সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
তবে তদন্ত এখনও চলছে। ঠিক কী ধরনের তথ্য তাঁরা সংগ্রহ করেছিলেন, কতটা তথ্য পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছিল এবং তাঁদের পিছনে আরও কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন কাজ করছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ধৃতদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
## ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি-ম্যাপ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
কলকাতার **ফোর্ট উইলিয়াম** ভারতীয় সেনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। এটি কলকাতায় অবস্থিত ভারতীয় সেনার Eastern Command-এর সদর দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা।
তাই কোনও সন্দেহভাজন বিদেশি নাগরিকের কাছে ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি বা ম্যাপ পাওয়া তদন্তকারীদের কাছে স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিশেষ করে যদি সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ এবং সামরিক তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ থাকে, তাহলে ওই ছবি-ম্যাপ কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা জরুরি হয়ে পড়ে।
তবে শুধুমাত্র ছবি বা ম্যাপ উদ্ধার হওয়া থেকেই কোনও নাশকতার পরিকল্পনা নিশ্চিত হয়েছে—এমন দাবি এখনও করা হয়নি। **নাশকতার কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, সেটিই তদন্তের বিষয়।**
## স্বাধীনতা দিবসের আগে কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
আগামী **১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস**। এই সময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সরকারি স্থাপনাগুলির নিরাপত্তা সাধারণত আরও জোরদার করা হয়।
তার ঠিক আগে কলকাতায় একজন পাকিস্তানি নাগরিকের কাছ থেকে ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি এবং ম্যাপ উদ্ধার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এসটিএফ ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে সেনা গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে জানা গিয়েছে। ধৃতদের কাছে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে সেনা সংক্রান্ত অন্য কোনও তথ্যের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
## ফোনে একাধিক দেশের নম্বর
তদন্তকারীদের হাতে যে তথ্য এসেছে, তার মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ধৃতদের মোবাইলে **পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের একাধিক নম্বর** পাওয়া যাওয়া।
এর পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং দুটি সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে। ফোন নম্বর লেখা একটি নোটবুকও পাওয়া গিয়েছে বলে এসটিএফ জানিয়েছে। কিছু চ্যাট এবং নম্বর মুছে ফেলার চিহ্নও তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এই নম্বরগুলির মালিক কারা, তাঁদের সঙ্গে রানার কী ধরনের যোগাযোগ ছিল এবং সেই যোগাযোগ কতদিনের—এসব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
## আগের পাক-যোগ সন্দেহভাজনদের সঙ্গে যোগাযোগ?
তদন্তে আরও একটি সূত্র সামনে এসেছে। এসটিএফের দাবি, এর আগে পাক-যোগ সন্দেহে গ্রেফতার হওয়া **হামিম মণ্ডল, অর্পিতা সরকার এবং আদিত্য সিং**-এর সঙ্গে রানা এবং ইজাজের যোগাযোগ ছিল।
রানার মোবাইলে ওই তিনজনের ফোন নম্বর সেভ করা ছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। এই সূত্র ধরে আরও কয়েকজনের নাম তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলেও খবর।
ফলে এই গোটা নেটওয়ার্ক কতটা বড় এবং এর সঙ্গে আরও কারা যুক্ত থাকতে পারেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
## পাকিস্তানে একাধিকবার যাওয়ার অভিযোগ
এসটিএফের তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, রানা একাধিকবার পাকিস্তানের **রাওয়ালপিন্ডি** গিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। তাঁর পাকিস্তান সফরের উদ্দেশ্য কী ছিল, কার সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং সেই সফরের সঙ্গে গুপ্তচরবৃত্তির কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ভারতে থাকার পর কেন তিনি হঠাৎ বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন—এই প্রশ্নের উত্তরও তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
## ভুয়ো পরিচয়ের আড়ালে এতদিন?
তদন্তকারীদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলির একটি হল—যদি রানা সত্যিই ভুয়ো পরিচয়ে দীর্ঘদিন ভারতে বসবাস করে থাকেন, তাহলে এত বছর ধরে তিনি কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ছিলেন?
ভোটার এবং আধার সংক্রান্ত নথি কীভাবে তৈরি হয়েছিল, কে তাঁকে সাহায্য করেছিল, তাঁর অর্থের উৎস কী ছিল এবং তিনি কোথায় কোথায় যাতায়াত করতেন—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এছাড়াও কলকাতায় তাঁর থাকার সময়কালে তিনি কার কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন, সেই তথ্যও তদন্তকারীরা সংগ্রহ করছেন।
## রেল সংক্রান্ত তথ্যও কি পাচার হয়েছে?
এসটিএফের দাবি অনুযায়ী, ধৃতদের বিরুদ্ধে শুধু সেনা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ নেই। **রেলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পাকিস্তানের কাছে পাঠানোর অভিযোগ** রয়েছে।
ভারতের সামরিক ও কৌশলগত পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে রেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণের ক্ষেত্রে রেলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই ধরনের তথ্যের অপব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সতর্ক।
তাই ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল, চ্যাট এবং অন্যান্য নথি ফরেনসিকভাবে পরীক্ষা করে কোনও সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদান হয়েছিল কি না, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে।
## সীমান্তের সামরিক গতিবিধির উপর নজর?
পেট্রাপোল এবং ঘোজাডাঙা সীমান্তে সেনার গতিবিধি এবং সামরিক পরিকাঠামো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
এই দুই সীমান্তই পশ্চিমবঙ্গের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সীমান্তপথ। ফলে সেখানে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান, গতিবিধি কিংবা পরিকাঠামো সম্পর্কে তথ্য কোনও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পৌঁছনো নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হতে পারে।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি—এটি মনে রাখা জরুরি।
## আরও কারা যুক্ত?
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁদের মধ্যে কারা সরাসরি যোগাযোগে ছিলেন এবং কারা কেবল পরিচিত ছিলেন, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
এছাড়া রানা এবং ইজাজের সঙ্গে পাকিস্তান বা অন্য কোনও দেশের ব্যক্তিদের যোগাযোগ ছিল কি না, তা তাঁদের মোবাইল ডেটা এবং চ্যাট বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই মামলার সূত্র ধরে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
## সেনা গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ
ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি ও ম্যাপ উদ্ধারের বিষয়টি সামনে আসার পর তদন্তের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এই কারণে এসটিএফ সেনা গোয়েন্দাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে বলে জানা গিয়েছে।
সেনা গোয়েন্দারা ওই ছবি বা ম্যাপে কোনও সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে পারেন। পাশাপাশি ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে সেনা সংক্রান্ত কোনও তথ্যের মিল রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই হতে পারে।
## কলকাতায় নিরাপত্তা নিয়ে পুরনো উদ্বেগ
কলকাতার সামরিক স্থাপনা ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ অবশ্য একেবারে নতুন নয়। অতীতেও ফোর্ট উইলিয়াম ও আশপাশের এলাকায় সন্দেহজনক ড্রোন উড়তে দেখা যাওয়ার ঘটনা নিয়ে কলকাতা পুলিশ এবং সেনার তরফে তদন্ত হয়েছে। ২০২৫ সালে ফোর্ট উইলিয়ামের কাছে ড্রোন সদৃশ উড়ন্ত বস্তু দেখা যাওয়ার পর Kolkata Police STF এবং Eastern Command তদন্ত শুরু করেছিল।
তখন ফোর্ট উইলিয়াম-সংলগ্ন এলাকা যে ড্রোনের জন্য no-fly zone, সেই বিষয়টিও সামনে এসেছিল।
এই প্রেক্ষাপটে এবার একজন পাক নাগরিকের কাছ থেকে ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি ও ম্যাপ উদ্ধারের ঘটনা নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
## তদন্তে এখন কোন বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ?
এই মামলায় তদন্তকারীরা মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন—
**প্রথমত**, ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি এবং ম্যাপ কীভাবে রানার কাছে এল?
**দ্বিতীয়ত**, এই ছবি বা ম্যাপ কোথাও পাঠানো হয়েছিল কি না?
**তৃতীয়ত**, ভারতীয় সেনা ও রেলের কী কী তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল?
**চতুর্থত**, পাকিস্তানের কোনও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল কি না?
**পঞ্চমত**, বাংলাদেশে পালানোর পরিকল্পনার সঙ্গে এই তথ্য সংগ্রহের কোনও যোগ রয়েছে কি না?
**ষষ্ঠত**, দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ভারতে থাকার সময় রানা আর কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিললেই গোটা চক্রের প্রকৃত পরিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
## মোবাইল ও চ্যাট থেকে মিলতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
ধৃতদের মোবাইল ফোন তদন্তের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ফোন নম্বর, সিম কার্ড এবং মুছে ফেলা তথ্য থেকে তাঁদের যোগাযোগের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
তদন্তকারীরা যদি মুছে দেওয়া চ্যাট বা ডেটা পুনরুদ্ধার করতে পারেন, তাহলে কার কাছে তথ্য পাঠানো হয়েছিল এবং কী ধরনের তথ্য আদানপ্রদান হয়েছিল, তারও হদিশ মিলতে পারে।
## এখনই নাশকতার দাবি নয়
ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি-ম্যাপ উদ্ধারের ঘটনা নিঃসন্দেহে গুরুতর। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে **স্বাধীনতা দিবসের আগে নিশ্চিত নাশকতার পরিকল্পনা ছিল**—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো এখনও ঠিক হবে না।
এসটিএফের তদন্তের অন্যতম প্রশ্নই হল, ধৃতরা কোনও বড় নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন কি না। তদন্তকারীরা সেই সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখছেন।
অর্থাৎ উদ্ধার হওয়া সামগ্রী এবং অভিযোগগুলি তদন্তের সূত্র, কিন্তু আদালতে প্রমাণিত অপরাধ নয়।
## সামনে আরও গ্রেফতার হতে পারে?
তদন্তে নতুন নাম এবং যোগাযোগের সূত্র সামনে এলে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেফতার করা হতে পারে। বিশেষ করে যদি ফোন এবং চ্যাট বিশ্লেষণ করে বিদেশি যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে।
রানা এবং ইজাজের সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, কে তাঁদের ভারতীয় নথি তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন এবং সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রে কারা সহযোগিতা করছিলেন—এই প্রশ্নগুলির উত্তর পাওয়া গেলে তদন্ত আরও এগোবে।
## শেষ কথা
স্বাধীনতা দিবসের মাত্র কয়েকদিন আগে কলকাতায় পাক গুপ্তচর সন্দেহে দুই ব্যক্তির গ্রেফতার এবং তাঁদের কাছ থেকে **ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি ও ম্যাপ উদ্ধার** হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা মহলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসটিএফের দাবি অনুযায়ী, ধৃত রানা রউফ খালিদ দীর্ঘদিন ভারতে বসবাস করছিলেন এবং ভুয়ো ভারতীয় পরিচয় ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তাঁদের কাছ থেকে একাধিক দেশের ফোন নম্বর, সিম কার্ড, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং নোটবুক উদ্ধারের পাশাপাশি ভারতীয় সেনা, সামরিক পরিকাঠামো ও রেল সংক্রান্ত তথ্য পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে।
এখন তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য হল ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি ও ম্যাপের উৎস খুঁজে বের করা, ধৃতদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ যাচাই করা এবং কোনও সংবেদনশীল তথ্য ইতিমধ্যে দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছিল কি না তা নিশ্চিত হওয়া।


