Monday, August 17, 2026

Creating liberating content

সন্ত্রাস দমনে বড় সাফল্য,...

# সন্ত্রাস দমনে বড় সাফল্য, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক ধ্বংস স্বাধীনতা দিবসের আগে দেশে বড়সড়...

রেলস্টেশনের জলে E. coli,...

ভারতীয় রেলের যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর। দেশের একাধিক রেলস্টেশনের পানীয় জলের নমুনায় **E....

ডাক্তারি সামলে বিজেপির কেন্দ্রীয়...

পেশায় বিশিষ্ট চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ অনকোলজিস্ট। চিকিৎসাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের কাজের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন...

মমতার ফোনে ‘আরশোলা’ কর্মী,...

বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত রাজ্য...
Homeবাংলাপাকিস্তানে হিন্দুদের অবস্থা...

পাকিস্তানে হিন্দুদের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন, জারদারিকে পাল্টা কটাক্ষ

পাকিস্তানে বসবাসকারী হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে ফের শুরু হয়েছে বিতর্ক। পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি **আসিফ আলি জারদারি** যে মন্তব্য করেছেন, তা ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে। জারদারি দাবি করেছেন, পাকিস্তানে বসবাসকারী হিন্দুরা ভারতের হিন্দুদের তুলনায় বেশি সুখে রয়েছেন এবং পাকিস্তানের মুসলিম সমাজ অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি যথেষ্ট সহনশীল। তাঁর এই বক্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠেছে, বাস্তবে পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি কতটা নিরাপদ এবং স্বাধীন।

এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন প্রাক্তন ভারতীয় কূটনীতিক **কেপি ফ্যাবিয়ান**। তাঁর বক্তব্য, কোনও দেশের নাগরিকের অধিকার বা মর্যাদা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ধর্মকে মাপকাঠি করা উচিত নয়। রাষ্ট্রের কাছে একজন নাগরিক হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান বা অন্য কোনও ধর্মের অনুসারী—যাই হোন না কেন, তাঁর অধিকার সমান হওয়াই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। মূল Banglahunt প্রতিবেদনে জারদারি ও ফ্যাবিয়ানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে। 

## জারদারির বক্তব্য ঘিরেই শুরু বিতর্ক

পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে আসিফ আলি জারদারি দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক ছবি তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, পাকিস্তানে হিন্দুরা দেশের অন্যান্য নাগরিকের মতোই স্বাধীনভাবে বসবাস করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, পাকিস্তানের মুসলিম সমাজ অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সহনশীল।

জারদারির বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের জনসংখ্যার প্রায় চার শতাংশ হিন্দু এবং তাঁরা দেশের নাগরিক হিসেবে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করছেন। একইসঙ্গে তিনি ভারতের কিছু মানুষের ‘অখণ্ড ভারত’-এর ধারণার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তাঁর বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানে ধর্মীয় সহাবস্থান এবং সংখ্যালঘুদের স্বাধীনতার একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরা। 

কিন্তু এই বক্তব্যের পরেই প্রশ্ন ওঠে, রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে বাস্তব পরিস্থিতি কী? কোনও দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রকৃত অবস্থা শুধুমাত্র সরকারি বক্তব্যের মাধ্যমে বিচার করা যায় কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

## প্রাক্তন কূটনীতিকের পাল্টা প্রশ্ন

জারদারির মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন প্রাক্তন ভারতীয় কূটনীতিক কেপি ফ্যাবিয়ান। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু হল নাগরিকদের সমান অধিকার। ফ্যাবিয়ানের মতে, কোনও দেশের নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে তাঁর অধিকার বা সামাজিক মর্যাদা নির্ধারণ করা উচিত নয়।

তিনি পাকিস্তানের জন্মের ইতিহাসের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে তৈরি হলেও পরবর্তী ইতিহাস দেখিয়েছে যে শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয় একটি রাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদে ঐক্যবদ্ধ রাখার নিশ্চয়তা দেয় না।

বিশেষ করে **১৯৭১ সালের ঘটনা** তাঁর যুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাবনার সীমাবদ্ধতার উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, ইতিহাস পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, কিন্তু অতীতের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরও সমানাধিকারভিত্তিক করা সম্ভব। 

## ১৯৭১-এর প্রসঙ্গ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে। ভাষা, রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং আঞ্চলিক পরিচয়ের মতো একাধিক বিষয় সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

কেপি ফ্যাবিয়ানের বক্তব্যে ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে কারণ তিনি মনে করেন, একটি রাষ্ট্রের ঐক্য শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের উপর নির্ভর করতে পারে না। মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক অধিকার এবং সমান নাগরিকত্বও রাষ্ট্রের স্থায়িত্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই যুক্তির ভিত্তিতেই তিনি পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হল—ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, নাগরিক অধিকারই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের প্রধান বিবেচনা। 

## পাকিস্তানের হিন্দুদের সংখ্যা কত?

পাকিস্তানের হিন্দু সম্প্রদায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী। বিশেষ করে **সিন্ধ প্রদেশে** হিন্দু জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বসবাস করেন। পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ব্যবসা, কৃষি, শিক্ষা এবং অন্যান্য পেশার সঙ্গে যুক্ত।

জারদারি তাঁর বক্তব্যে পাকিস্তানের জনসংখ্যার প্রায় চার শতাংশ হিন্দু বলে উল্লেখ করেছেন। এই সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার এবং সামাজিক অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানের ভিতরে ও বাইরে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা হয়ে আসছে।

তবে কোনও দেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি বোঝার জন্য শুধু জনসংখ্যার অনুপাত যথেষ্ট নয়। তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শিক্ষা, সম্পত্তির অধিকার, নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদার মতো বিষয়ও বিবেচনা করতে হয়।

## শুধু বক্তব্যেই কি বোঝা যায় সংখ্যালঘুদের অবস্থা?

এই বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সেটিই। একটি দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান যদি দাবি করেন যে সংখ্যালঘুরা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং স্বাধীন, সেটি অবশ্যই রাষ্ট্রের অবস্থান প্রকাশ করে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার জন্য আইন, প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতাও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

কেপি ফ্যাবিয়ানের বক্তব্যেও এই বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তাঁর মতে, সংখ্যালঘুরা নিরাপদ এবং স্বাধীন—এমন দাবি করা যথেষ্ট নয়। সেই দাবির সত্যতা যাচাই করতে হবে রাষ্ট্রের আইন, প্রশাসনিক আচরণ এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে। 

অর্থাৎ সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হলে একাধিক দিক বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

## ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিক অধিকার নয়

ফ্যাবিয়ানের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল **equal citizenship** বা সমান নাগরিকত্বের ধারণা। তাঁর মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের ধর্ম তাঁর অধিকার নির্ধারণ করতে পারে না।

একজন নাগরিকের ধর্ম আলাদা হলেও তাঁর ভোটাধিকার, নিরাপত্তা, সম্পত্তির অধিকার, শিক্ষা এবং আইনের চোখে সমান মর্যাদা থাকা উচিত। এই নীতিই আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি।

তাই পাকিস্তানে হিন্দুদের পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্কটি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিষয় নয়। এটি একটি রাষ্ট্রের নাগরিকত্বের ধারণা এবং সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্নও তুলে ধরে।

## ভারত-পাকিস্তান তুলনা কেন উঠে আসে?

ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত সংবেদনশীল। দুই দেশের মধ্যে একাধিক যুদ্ধ, সীমান্ত সংঘাত এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে। ফলে দুই দেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়েও প্রায়ই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে আসে।

জারদারি তাঁর বক্তব্যে ভারতের হিন্দুদের প্রসঙ্গ তুলে পাকিস্তানের সংখ্যালঘু পরিস্থিতিকে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি এমনকি ব্যক্তিগতভাবে ভারতের তুলনায় পাকিস্তানের সঙ্গেই থাকতে বেশি পছন্দ করবেন বলেও মন্তব্য করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

এই তুলনার কারণেই বিষয়টি আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে।

## সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে পুরনো বিতর্ক

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে সংখ্যালঘু অধিকার একটি দীর্ঘদিনের আলোচিত বিষয়। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ—প্রতিটি দেশেই বিভিন্ন সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিতর্ক হয়েছে।

পাকিস্তানের ক্ষেত্রে হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘুর অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে ভারতেও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে।

তাই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যখন কোনও দেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে তুলনা করা হয়, তখন বিষয়টি দ্রুত কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে যায়।

## জারদারির বক্তব্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

স্বাধীনতা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপ্রধানের বক্তব্য সাধারণত দেশের রাষ্ট্রীয় অবস্থান তুলে ধরে। তাই জারদারি যখন পাকিস্তানে হিন্দুদের স্বাধীনতা এবং মুসলিম সমাজের সহনশীলতার কথা বলেন, তখন সেটিকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে দেখার সুযোগ কম।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে পাকিস্তান নিজের সংখ্যালঘু নীতি সম্পর্কে একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে চেয়েছে বলেই মনে করা যেতে পারে। কিন্তু প্রাক্তন কূটনীতিকের পাল্টা মন্তব্য সেই দাবির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ফলে বিতর্কটি এখন শুধু ‘পাকিস্তানে হিন্দুরা কেমন আছেন’—এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। বরং একটি রাষ্ট্র তার সংখ্যালঘু নাগরিকদের কীভাবে দেখে, সেই বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে এসেছে।

## কেপি ফ্যাবিয়ানের বক্তব্যের মূল বার্তা

ফ্যাবিয়ানের বক্তব্যকে কয়েকটি মূল বিষয়ের মধ্যে ভাগ করা যায়।

প্রথমত, নাগরিকের অধিকার ধর্মের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা উচিত নয়।

দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় না।

চতুর্থত, রাষ্ট্রের আইন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সমান অধিকার বাস্তবে প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত পাকিস্তানে হিন্দুদের পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি কোনও নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না দিয়ে রাষ্ট্রের কাঠামোগত দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। 

## ১৯৭১ থেকে আজকের পাকিস্তান

১৯৭১-এর পর পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে বিভিন্ন পরিবর্তন এসেছে। রাজনৈতিক দল, সরকার এবং সংবিধানিক ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন হলেও ধর্মীয় পরিচয় এখনও দেশটির রাজনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তবে বর্তমান বিতর্কের ক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, প্রাক্তন কূটনীতিকের মন্তব্য মূলত তাঁর নিজস্ব বিশ্লেষণ। অন্যদিকে জারদারি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি সম্পর্কে ইতিবাচক দাবি করেছেন। দুই বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থেকেই বিতর্কটি তৈরি হয়েছে।

## ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে এর প্রভাব কী?

ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের বিষয়টি প্রায়ই কূটনৈতিক আলোচনায় উঠে আসে। এক দেশ অন্য দেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়া নতুন ঘটনা নয়।

এই পরিস্থিতিতে জারদারির বক্তব্য এবং ফ্যাবিয়ানের পাল্টা মন্তব্যও দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে।

তবে সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে আলোচনা যতই রাজনৈতিক হোক, এর কেন্দ্রে থাকা উচিত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনও নাগরিক যাতে বৈষম্যের শিকার না হন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

## আসল প্রশ্ন নিরাপত্তা ও মর্যাদার

পাকিস্তানে হিন্দুরা সুখে আছেন কি না—এই প্রশ্নের উত্তর শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। একইভাবে কোনও একটি ঘটনা দিয়েও গোটা সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি বিচার করা যায় না।

প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য তথ্য, সরকারি পরিসংখ্যান, মানবাধিকার সংক্রান্ত রিপোর্ট এবং সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা। তবেই বোঝা সম্ভব কোনও দেশের সংখ্যালঘুরা বাস্তবে কতটা নিরাপদ এবং স্বাধীন।

এই জায়গাতেই ফ্যাবিয়ানের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মূলত তুলনামূলক রাজনীতির বদলে **সমান নাগরিক অধিকারের** প্রশ্নটিকে সামনে এনেছেন।

## ভবিষ্যতে কোন পথে পাকিস্তান?

পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে ভবিষ্যতের আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে রাষ্ট্রের আইন এবং তার বাস্তব প্রয়োগ। সংখ্যালঘু নাগরিকরা যদি সমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও আইনি অধিকার পান, তাহলে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হতে পারে।

অন্যদিকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্যে সহনশীলতার দাবি করা হলে, বাস্তব জীবনে সেই নীতির প্রতিফলন না থাকলে বিতর্ক চলতেই থাকবে।

এই কারণেই জারদারির বক্তব্যের পর ফ্যাবিয়ানের মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—**পাকিস্তানে হিন্দুদের অধিকার ও নিরাপত্তা কি সত্যিই বাস্তবে সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেভাবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে?**

এই প্রশ্নের উত্তর রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতেই খুঁজতে হবে। আপাতত দুই পক্ষের বক্তব্যকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যালঘু অধিকার, ধর্মীয় সহাবস্থান এবং সমান নাগরিকত্বের পুরনো বিতর্কই ফের সামনে এসেছে। 

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

সন্ত্রাস দমনে বড় সাফল্য, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক ধ্বংস

# সন্ত্রাস দমনে বড় সাফল্য, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক ধ্বংস স্বাধীনতা দিবসের আগে দেশে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করার দাবি করল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, পাকিস্তানভিত্তিক এবং পাক গুপ্তচর সংস্থা ISI-সমর্থিত **শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক (Shahzad Bhatti Network)**-এর বিরুদ্ধে বড়সড়...

রেলস্টেশনের জলে E. coli, ২০ হাজার পয়েন্টে বড় বদল

ভারতীয় রেলের যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর। দেশের একাধিক রেলস্টেশনের পানীয় জলের নমুনায় **E. coli ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি** ধরা পড়েছে। কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা CAG-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই তথ্য সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসেছে রেল মন্ত্রক। যাত্রীদের জন্য নিরাপদ পানীয়...

ডাক্তারি সামলে বিজেপির কেন্দ্রীয় দলে মধুছন্দা

পেশায় বিশিষ্ট চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ অনকোলজিস্ট। চিকিৎসাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের কাজের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এবার জাতীয় স্তরে বড় দায়িত্ব পেলেন বাংলার মধুছন্দা কর। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের নতুন কেন্দ্রীয় টিমে **সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি** হিসেবে জায়গা পেয়েছেন তিনি। সোমবার বিজেপির...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.