পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও। একটি প্রতিবাদ মিছিল চলাকালীন দলের এক কর্মীকে তিনি চড় মারছেন বলে দাবি করে যে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধী বিজেপি এই ঘটনাকে সামনে রেখে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণ শানাচ্ছে।
এই ইস্যুতেই এবার সরব হলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরেই শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে। তাঁর কথায়, দলের ভিতরে অসন্তোষ এতটাই বেড়েছে যে নেতৃত্বের সঙ্গে কর্মীদের সম্পর্কও আর আগের মতো নেই। সেই কারণেই প্রকাশ্য মঞ্চে এমন ঘটনা ঘটছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, যাঁরা মানুষের সামনে গণতন্ত্র ও মানবিকতার কথা বলেন, তাঁদের আচরণও সেই মানদণ্ডে বিচার হওয়া উচিত। যদি কোনও রাজনৈতিক নেতা প্রকাশ্যে নিজের দলের কর্মীর সঙ্গে এমন আচরণ করেন, তবে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দেয় বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল নেতৃত্ব আজ নিজেদের সংগঠন সামলাতেই ব্যস্ত। সাধারণ মানুষের সমস্যা বা রাজ্যের উন্নয়নের চেয়ে দলীয় সংকটই এখন তাদের প্রধান চিন্তার বিষয়। তাঁর মতে, এই ধরনের ঘটনাই প্রমাণ করে দলের ভিতরে অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে।
এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বিজেপি নেতারা একে নেতৃত্বের ব্যর্থতার প্রতীক বলে তুলে ধরলেও তৃণমূল শিবিরের তরফে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনাকে ঘিরে ভিন্ন ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভাইরাল ভিডিওর সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট না জেনে শুধুমাত্র একটি অংশ দেখে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। তবে ঘটনাটি জনমনে যথেষ্ট কৌতূহল এবং আলোচনা তৈরি করেছে।
দিলীপ ঘোষ এদিন আরও কটাক্ষ করে বলেন, রাজনৈতিক নাটক করে মানুষের সহানুভূতি আদায়ের দিন শেষ হয়ে এসেছে। মানুষ এখন সবকিছু নিজের চোখে দেখছেন এবং বিচারও করছেন। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পরিবর্তন চান এবং এই ধরনের ঘটনা সেই দাবিকেই আরও জোরালো করছে।
বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের মধ্যে এখন নেতৃত্বের সংকট এবং কর্মীদের অসন্তোষ ক্রমশ প্রকাশ্যে চলে আসছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপির এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শাসক শিবিরের মতে, বিরোধীরা একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে অযথা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একের পর এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে সংঘাত আরও বেড়েছে। প্রতিবাদ কর্মসূচি, দলীয় ভাঙন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কিংবা ভাইরাল ভিডিও—প্রতিটি বিষয়ই এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসছে। ফলে এই ঘটনাও আগামী দিনে রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। কেউ এই ঘটনাকে নেত্রীর আবেগের বহিঃপ্রকাশ বলে ব্যাখ্যা করছেন, আবার কেউ এটিকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করছেন। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক সীমানা ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। দিলীপ ঘোষের কড়া সমালোচনার পর এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


