পশ্চিমবঙ্গের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে শিশু ও গর্ভবতী এবং স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য পুষ্টিকর খাবারের মান আরও উন্নত করতে **প্রতি প্লেট খাবারের বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব** দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে পরিবেশিত খাবারের গুণগত মান আরও উন্নত হবে এবং নিয়মিত **ডিমসহ গরম রান্না করা খাবার** দেওয়ার পথ আরও সুগম হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, মূল্যবৃদ্ধির কারণে দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যসামগ্রীর দাম বেড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে আগের বরাদ্দে উন্নত মানের খাবার সরবরাহ করা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়ছিল। এই সমস্যার সমাধান করতেই প্রতি প্লেট বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব আনা হয়েছে। এর ফলে শিশুদের জন্য আরও পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে প্রশাসনের আশা।
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি মূলত **সমন্বিত শিশুবিকাশ পরিষেবা (ICDS)** প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত হয়। এখানে ছয় বছরের কম বয়সি শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং প্রসূতি মায়েদের পুষ্টিকর খাদ্য, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকাকরণে সহায়তা এবং প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। পুষ্টিহীনতা কমানো এবং শিশুদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে অঙ্গনওয়াড়ির খাবারের তালিকায় নিয়মিত ডিম এবং উন্নত মানের গরম রান্না করা খাবার অন্তর্ভুক্ত করা সহজ হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এটি অত্যন্ত উপকারী। তাই অল্প বয়স থেকেই সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে ডিম অন্তর্ভুক্ত করা ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে।
শিশু পুষ্টিবিদদের মতে, শুধুমাত্র পেট ভরানো নয়, সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে অপুষ্টি, রক্তাল্পতা এবং কম ওজনের সমস্যা রোধে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের গুরুত্ব অনেক বেশি। সেই দিক থেকে বরাদ্দ বৃদ্ধি কার্যকর হলে অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবার মান আরও উন্নত হতে পারে।
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের একাংশও এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের বরাদ্দে নির্ধারিত মান বজায় রাখা কঠিন হচ্ছিল। বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে উন্নত মানের খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করা সহজ হবে এবং উপভোক্তারাও আরও ভালো পরিষেবা পাবেন।
তবে প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন এবং আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তর নতুন নির্দেশিকা জারি করলে রাজ্যের বিভিন্ন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে তা কার্যকর করা হবে।
পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সুষম খাদ্যের পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকাকরণ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি এই সমস্ত পরিষেবা একসঙ্গে দেওয়ার কারণে গ্রামীণ এবং শহরতলির বহু পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এদিকে সমাজকল্যাণ ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বরাদ্দ বৃদ্ধি বাস্তবায়িত হলে শুধু শিশুদের নয়, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েরাও আরও উন্নত পুষ্টি সুবিধা পাবেন। এর ফলে মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, **অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে প্রতি প্লেট খাবারের বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব** শিশু পুষ্টি এবং জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ উপভোক্তা উন্নত মানের পুষ্টিকর খাবারের সুবিধা পেতে পারেন।


