Monday, August 17, 2026

Creating liberating content

সন্ত্রাস দমনে বড় সাফল্য,...

# সন্ত্রাস দমনে বড় সাফল্য, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক ধ্বংস স্বাধীনতা দিবসের আগে দেশে বড়সড়...

রেলস্টেশনের জলে E. coli,...

ভারতীয় রেলের যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর। দেশের একাধিক রেলস্টেশনের পানীয় জলের নমুনায় **E....

ডাক্তারি সামলে বিজেপির কেন্দ্রীয়...

পেশায় বিশিষ্ট চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ অনকোলজিস্ট। চিকিৎসাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের কাজের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন...

মমতার ফোনে ‘আরশোলা’ কর্মী,...

বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত রাজ্য...
Homeবাংলাপাঁশকুড়া ব্লাড ব্যাঙ্কে...

পাঁশকুড়া ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত পাচারের অভিযোগ, গ্রেপ্তার দালাল

পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া ব্লাড ব্যাঙ্ককে ঘিরে উঠল গুরুতর অভিযোগ। **মোটা টাকার বিনিময়ে বেআইনিভাবে রক্ত বাইরে পাচার করা হচ্ছে**, এমন গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালাল রাজ্য পুলিশের দুর্নীতিদমন শাখা বা এসিবি। অভিযানে এক দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই ব্যক্তি রক্তের বেআইনি লেনদেনের কথা স্বীকার করেছেন এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্লাড ব্যাঙ্কের এক কর্মীর ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। 

ঘটনাটি সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাঙ্কের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল জায়গায় কীভাবে এমন একটি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে? রক্ত কোনও সাধারণ পণ্য নয়। একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে এর প্রয়োজন হয়। সেই রক্তই যদি টাকার বিনিময়ে বেআইনিভাবে সরবরাহ করা হয়, তাহলে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রোগীর আত্মীয়দের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে তাঁদের কাছ থেকে মোটা টাকা নেওয়া হত। অভিযোগ, ওই টাকার একটি বড় অংশ ব্লাড ব্যাঙ্কের এক কর্মীর কাছে পৌঁছে যেত। যদিও তদন্ত এখনও চলছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। 

## গোপন সূত্রে খবর এসিবির কাছে

সম্প্রতি পাঁশকুড়া ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত পাচারের অভিযোগ সংক্রান্ত একটি গোপন খবর পৌঁছয় রাজ্য পুলিশের দুর্নীতিদমন শাখার গোয়েন্দাদের কাছে। অভিযোগ ছিল, মোটা টাকার বিনিময়ে ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত বাইরে পাচার করা হচ্ছে।

খবর পাওয়ার পর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেন এসিবির আধিকারিকরা। সরাসরি ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ না করে তদন্তকারীরা অন্য পদ্ধতি গ্রহণ করেন। রোগীর আত্মীয়দের পরিচয় নিয়ে তাঁরা ব্লাড ব্যাঙ্কে পৌঁছন বলে সংবাদ প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে। 

তদন্তকারীদের উদ্দেশ্য ছিল, সত্যিই কোনও দালাল বেআইনি উপায়ে রক্ত জোগাড় করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন কি না, তা হাতেনাতে যাচাই করা।

## রোগীর আত্মীয় সেজে তদন্তকারীদের অভিযান

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এসিবির গোয়েন্দারা রোগীর আত্মীয় সেজে ব্লাড ব্যাঙ্কে যান। সেখানে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় শাহবুদ্দিন মল্লিক নামে এক ব্যক্তির।

তদন্তকারীদের দাবি, শাহবুদ্দিন তাঁদের জানান, বেশি টাকা দিলে তিনি রক্তের ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন। সাধারণ নিয়মে রক্ত পাওয়ার যে প্রক্রিয়া রয়েছে, তার বাইরে টাকা দিয়ে রক্ত জোগাড় করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়াই তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়। 

এরপর গোয়েন্দারা তাঁকে কয়েক হাজার টাকা দেন। কিন্তু ওই টাকা ছিল সাধারণ টাকা নয়। তদন্তকারীরা আগে থেকেই নোটগুলিতে একটি বিশেষ পাউডার লাগিয়ে রেখেছিলেন।

এই বিশেষ পদ্ধতিই পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

## বিশেষ পাউডারেই হাতেনাতে ধরা

শাহবুদ্দিন মল্লিকের হাতে টাকা যাওয়ার পর তাঁর হাতে ওই বিশেষ পাউডারের চিহ্ন পাওয়া যায়। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই তদন্তকারীরা তাঁকে আটক করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তকারীদের দাবি, শাহবুদ্দিন পুরো বিষয়টি স্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতেই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, এই ঘটনায় শুধু একজন দালাল নয়, ব্লাড ব্যাঙ্কের একজন কর্মীরও ভূমিকা থাকতে পারে। 

অর্থাৎ, তদন্তকারীদের সন্দেহ অনুযায়ী, বাইরে থাকা কোনও দালাল একা এই কাজ করতে পারতেন না। ব্লাড ব্যাঙ্কের ভিতর থেকেও সহযোগিতা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

## ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীর ভূমিকা নিয়ে তদন্ত

তদন্তকারীদের দাবি, শাহবুদ্দিন মল্লিক জানিয়েছেন, ব্লাড ব্যাঙ্কের এক কর্মীও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত। রোগীর আত্মীয়দের কাছ থেকে যে টাকা নেওয়া হত, তার বড় অংশ ওই কর্মীকে দেওয়া হত বলে অভিযোগ।

বাকি টাকা দালাল নিজের কাছে রাখতেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। 

এখন এসিবির গোয়েন্দারা ওই কর্মীর পরিচয় জানার চেষ্টা করছেন। একইসঙ্গে তাঁর সঙ্গে দালালের যোগাযোগের ধরন, কতদিন ধরে এই লেনদেন চলছিল এবং কতজন রোগীর পরিবার এই প্রক্রিয়ার শিকার হয়েছেন—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হতে পারে।

## কতদিন ধরে চলছিল এই কারবার?

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলির একটি হল, পাঁশকুড়া ব্লাড ব্যাঙ্কে কথিত এই বেআইনি কারবার কতদিন ধরে চলছিল।

তদন্তকারীদের হাতে যে তথ্য এসেছে, তা থেকে একটি চক্রের অস্তিত্বের অভিযোগ সামনে এসেছে। কিন্তু সেই চক্রের পরিধি কতটা বড়, কতজন এতে যুক্ত এবং কত পরিমাণ রক্ত বেআইনিভাবে সরবরাহ করা হয়েছে—এসব এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

তাই এখনই এই চক্রের আকার সম্পর্কে নিশ্চিত কোনও সংখ্যা বলা সম্ভব নয়।

## আরও কেউ যুক্ত কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে

শাহবুদ্দিন মল্লিককে জেরা করে আরও তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। তাঁর সঙ্গে কারা যোগাযোগ রাখতেন, রক্তের চাহিদা কার কাছ থেকে আসত এবং ব্লাড ব্যাঙ্কের ভিতরে কার সঙ্গে যোগাযোগ করে রক্ত সংগ্রহ করা হত—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

একইসঙ্গে তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কোনও দালাল বা কর্মী যুক্ত ছিলেন কি না।

যদি এমন কোনও নেটওয়ার্কের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত আরও বড় আকার নিতে পারে।

## রক্তের কালোবাজারি নিয়ে উদ্বেগ

পাঁশকুড়ার ঘটনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন পশ্চিমবঙ্গের একাধিক ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরও কয়েকটি ব্লাড ব্যাঙ্কের কার্যকলাপ খতিয়ে দেখছে। 

এর মধ্যে অভিযোগ রয়েছে, কোথাও কোথাও রক্ত বা রক্তের উপাদান অন্য রাজ্যে অর্থের বিনিময়ে পাঠানো হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন জায়গায় পরিদর্শন ও তদন্ত চালানো হয়েছে।

তাই পাঁশকুড়ার ঘটনা বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

## রক্ত কোনও সাধারণ বাণিজ্যিক পণ্য নয়

রক্তের প্রয়োজন সাধারণত জরুরি পরিস্থিতিতে হয়। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি, অস্ত্রোপচারের রোগী, প্রসূতি, ক্যানসার আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য রক্তের প্রয়োজন হতে পারে।

এই অবস্থায় কোনও রোগীর পরিবার যখন ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের জন্য যায়, তখন তাঁদের কাছে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই অসহায় পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যদি কেউ অতিরিক্ত টাকা দাবি করে, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

পাঁশকুড়ার ঘটনায় এই কারণেই তদন্ত দ্রুত শেষ করে প্রকৃত তথ্য সামনে আনা জরুরি।

## রোগীর পরিবারের অসহায়তার সুযোগ?

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, রোগীর আত্মীয়দের কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হত। অর্থাৎ, যাঁদের পরিবারের সদস্যের জন্য জরুরি ভিত্তিতে রক্ত প্রয়োজন, তাঁদের অসহায়তার সুযোগ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

রক্তের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে কোনও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি টাকা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি অত্যন্ত গুরুতর প্রশাসনিক ও নৈতিক অপরাধের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

## তদন্তে প্রযুক্তি ও নথিপত্রও গুরুত্বপূর্ণ

এই ধরনের ঘটনায় শুধু অভিযুক্তের বক্তব্যের উপর নির্ভর করলেই হবে না। ব্লাড ব্যাঙ্কের রক্তের স্টক, রেজিস্টার, রোগীদের রিকুইজিশন, ইস্যু সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য রেকর্ড খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

কোন দিনে কত ইউনিট রক্ত এসেছিল, কত ইউনিট ইস্যু হয়েছে এবং কার নামে দেওয়া হয়েছে—এই তথ্যগুলির মধ্যে কোনও অসঙ্গতি আছে কি না, তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।

পাশাপাশি ব্লাড ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ CCTV ফুটেজ, ফোন যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্যও তদন্তের অংশ হতে পারে।

## রাজ্যজুড়ে রক্তের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

পাঁশকুড়ার ঘটনা একদিকে স্থানীয় তদন্তের বিষয় হলেও, অন্যদিকে রাজ্যের রক্ত সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

জুলাইয়ের শেষ দিকে পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত অন্য রাজ্যে পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। 

পরবর্তীতে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্ককে রক্তদান শিবির আয়োজনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছিল। 

এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে পাঁশকুড়ার ঘটনাটিও বিশেষ নজর কেড়েছে।

## রক্তদানকারীদের আস্থার প্রশ্ন

স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন বহু মানুষ। তাঁদের উদ্দেশ্য থাকে, তাঁদের দেওয়া রক্ত কোনও অসহায় রোগীর জীবন বাঁচাবে।

যদি সেই রক্ত নিয়ে কালোবাজারি বা বেআইনি লেনদেনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

তাই তদন্তের মাধ্যমে সত্যিটা দ্রুত সামনে আনা জরুরি। যদি অভিযোগ মিথ্যা হয়, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। আর যদি অভিযোগ সত্যি হয়, তাহলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

## দালালচক্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে দালালচক্র নতুন কোনও বিষয় নয়। হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা বিভিন্ন চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে রোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থের বিনিময়ে পরিষেবা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ মাঝেমধ্যেই সামনে আসে।

তবে রক্তের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর। কারণ রক্ত সরবরাহের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।

পাঁশকুড়ার ঘটনায় দালালের গ্রেপ্তার সেই বৃহত্তর প্রশ্নকেই সামনে এনেছে—ব্লাড ব্যাঙ্কের ভিতরের কোনও কর্মী যদি সত্যিই এই ধরনের চক্রকে সাহায্য করে থাকেন, তাহলে নজরদারির কোথায় ঘাটতি ছিল?

## নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন

এই ঘটনার পর ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

রক্তের প্রতিটি ইউনিটের উৎস, সংরক্ষণ এবং ইস্যুর তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা গেলে অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।

একইসঙ্গে রোগীর পরিবারের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার অভিযোগ জানানোর জন্য কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন।

## তদন্তে সামনে আসতে পারে আরও তথ্য

শাহবুদ্দিন মল্লিককে জেরা করে তদন্তকারীরা এখন আরও তথ্য সংগ্রহ করছেন। বিশেষ করে তাঁর সঙ্গে ব্লাড ব্যাঙ্কের ওই কর্মীর যোগাযোগ এবং তাঁদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তদন্তকারীরা যদি এই যোগাযোগের প্রমাণ পান, তাহলে মামলাটি আরও জোরালো হতে পারে।

অন্যদিকে, আরও কোনও ব্যক্তি এই ঘটনায় যুক্ত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

## অভিযুক্ত কর্মীর পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে নয়

এই মুহূর্তে তদন্তকারীদের সন্দেহের কেন্দ্রে থাকা ব্লাড ব্যাঙ্ক কর্মীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা উচিত নয়।

তদন্ত শেষ হওয়ার পরই জানা যাবে তিনি সত্যিই এই ঘটনায় যুক্ত ছিলেন কি না।

একইভাবে গ্রেপ্তার হওয়া দালালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও আদালতে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়। তাই তদন্তের প্রতিটি ধাপেই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।

## পাঁশকুড়ার ঘটনায় এখন নজর কোথায়?

এই ঘটনায় এখন মূলত তিনটি দিকে নজর থাকবে—

প্রথমত, গ্রেপ্তার হওয়া দালালের কাছ থেকে তদন্তকারীরা কী তথ্য পান।

দ্বিতীয়ত, ব্লাড ব্যাঙ্কের কোনও কর্মী সত্যিই এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না।

তৃতীয়ত, এই ঘটনায় আরও বড় কোনও নেটওয়ার্কের অস্তিত্ব রয়েছে কি না।

এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর মিললেই পাঁশকুড়ার কথিত রক্ত পাচার চক্রের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

## তদন্তের ফলের অপেক্ষায়

পাঁশকুড়া ব্লাড ব্যাঙ্কের ঘটনা নিয়ে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই এখনই পুরো চক্র সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।

তবে একজন দালালকে হাতেনাতে ধরার দাবি এবং ব্লাড ব্যাঙ্কের এক কর্মীর সম্ভাব্য যোগসূত্রের অভিযোগ তদন্তকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে।

আগামী দিনে জিজ্ঞাসাবাদ, নথিপত্র পরীক্ষা এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা আরও তথ্য সামনে আনতে পারেন।

## রক্তের কালোবাজারি বন্ধ করা কতটা জরুরি?

রক্তের কোনও বিকল্প নেই। একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় রক্ত যদি অর্থের বিনিময়ে বেআইনি পথে সরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে রোগীর চিকিৎসার উপর।

তাই এই ধরনের অভিযোগ সামনে এলে দ্রুত তদন্ত এবং কঠোর নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাঁশকুড়ার ঘটনা যদি সত্যিই একটি বড় চক্রের অংশ হয়, তাহলে সেই চক্রের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছনো প্রয়োজন। আর যদি অভিযোগের পরিধি সীমিত হয়, তাহলেও ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে।

## শেষ কথা

পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত বেআইনিভাবে পাচারের অভিযোগে এক দালাল গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এসিবির তদন্তে রোগীর আত্মীয় সেজে অভিযান চালানোর পর বিশেষ পাউডার লাগানো টাকার মাধ্যমে শাহবুদ্দিন মল্লিককে ধরার দাবি করা হয়েছে। জেরায় তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্লাড ব্যাঙ্কের এক কর্মীর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। 

একই সময়ে রাজ্যের আরও কয়েকটি ব্লাড ব্যাঙ্ককে ঘিরে অনিয়ম ও বেআইনি রক্ত সরবরাহের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলায় পাঁশকুড়ার ঘটনাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। এখন সবচেয়ে বড় অপেক্ষা—এই ঘটনায় সত্যিই কতজন জড়িত, কতদিন ধরে এমন কারবার চলছিল এবং ব্লাড ব্যাঙ্কের ভিতর থেকে কোনও সহযোগিতা করা হয়েছিল কি না, তার উত্তর সামনে আসার।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

সন্ত্রাস দমনে বড় সাফল্য, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক ধ্বংস

# সন্ত্রাস দমনে বড় সাফল্য, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক ধ্বংস স্বাধীনতা দিবসের আগে দেশে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করার দাবি করল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, পাকিস্তানভিত্তিক এবং পাক গুপ্তচর সংস্থা ISI-সমর্থিত **শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক (Shahzad Bhatti Network)**-এর বিরুদ্ধে বড়সড়...

রেলস্টেশনের জলে E. coli, ২০ হাজার পয়েন্টে বড় বদল

ভারতীয় রেলের যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর। দেশের একাধিক রেলস্টেশনের পানীয় জলের নমুনায় **E. coli ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি** ধরা পড়েছে। কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা CAG-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই তথ্য সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসেছে রেল মন্ত্রক। যাত্রীদের জন্য নিরাপদ পানীয়...

ডাক্তারি সামলে বিজেপির কেন্দ্রীয় দলে মধুছন্দা

পেশায় বিশিষ্ট চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ অনকোলজিস্ট। চিকিৎসাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের কাজের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এবার জাতীয় স্তরে বড় দায়িত্ব পেলেন বাংলার মধুছন্দা কর। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের নতুন কেন্দ্রীয় টিমে **সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি** হিসেবে জায়গা পেয়েছেন তিনি। সোমবার বিজেপির...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.