স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার উপর বিশেষ জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ভবিষ্যতের সংঘাত শুধুমাত্র সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকবে না। রিফাইনারি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ডেটা সেন্টার, কারখানা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোও আধুনিক যুদ্ধের লক্ষ্য হতে পারে। তাই ভারতকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে শুধু আমদানিকারক নয়, বরং অত্যাধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তির বিশ্ব সরবরাহকারী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তি এবং হাইপারসনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তাঁর কথায়, দেশের নিরাপত্তার জন্য বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। একইসঙ্গে ‘রক্ষা শক্তি’কে বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি শক্তির ধারার অন্যতম হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
### সীমান্তের বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে যুদ্ধের ঝুঁকি
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল আধুনিক যুদ্ধের পরিবর্তিত চরিত্র নিয়ে তাঁর সতর্কবার্তা। অতীতে যুদ্ধ বলতে মূলত সীমান্ত এলাকায় সেনাবাহিনীর সংঘর্ষকেই বোঝানো হত। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির সঙ্গে সেই ধারণা বদলে গিয়েছে। এখন একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে অচল করে দিয়েও বড় ধরনের ক্ষতি করা সম্ভব।
মোদী বলেন, ভবিষ্যতের সংঘাত সীমান্তে আটকে থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। রিফাইনারি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং ডেটা সেন্টারও আক্রমণের লক্ষ্য হতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধের ময়দান এখন আরও বিস্তৃত হয়ে গিয়েছে। শিল্প ও পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানোর মাধ্যমে একটি দেশের অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করা সম্ভব।
এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকেও আধুনিক করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু প্রচলিত অস্ত্রশস্ত্রের উপর নির্ভর না করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন, সাইবার প্রযুক্তি এবং হাইপারসনিক প্রযুক্তির মতো নতুন ক্ষেত্রগুলিতে ভারতকে নেতৃত্ব দিতে হবে বলে তিনি বার্তা দেন।
### ড্রোন ও কাউন্টার-ড্রোনে বিশেষ নজর
মোদীর ভাষণে ড্রোন প্রযুক্তি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। নজরদারি থেকে শুরু করে হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তথ্য সংগ্রহ—বিভিন্ন কাজে ড্রোন ব্যবহৃত হচ্ছে। একইসঙ্গে শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত করে তা নিষ্ক্রিয় করার জন্য কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারতকে নিজস্ব ড্রোন এবং কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারতের প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
শুধু ড্রোন তৈরি করাই নয়, সেগুলিকে শনাক্ত করা, ট্র্যাক করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরোধ করার প্রযুক্তিও গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে বিপুল সংখ্যক ড্রোন একসঙ্গে ব্যবহার করার সম্ভাবনা আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে।
### হাইপারসনিক প্রযুক্তিতে নেতৃত্বের বার্তা
প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে হাইপারসনিক প্রযুক্তিকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভারতকে হাইপারসনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব নেওয়ার লক্ষ্যে এগোতে হবে।
হাইপারসনিক প্রযুক্তি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্র। অত্যন্ত দ্রুতগতির অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ভবিষ্যতের যুদ্ধের চরিত্র বদলে দিতে পারে। ফলে এই ক্ষেত্রে অন্য দেশের উপর নির্ভরশীল না হয়ে ভারতের নিজস্ব গবেষণা, প্রযুক্তি এবং উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যই সামনে এসেছে। ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পকে শুধু দেশীয় চাহিদা পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্বমানের প্রযুক্তি উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
### ‘রক্ষা শক্তি’ হবে বিকশিত ভারতের অন্যতম স্তম্ভ
২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত দেশ বা ‘বিকশিত ভারত’-এ পরিণত করার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী ভাষণে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তির কথা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে ‘রক্ষা শক্তি’ বা প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ধারণার মূল বক্তব্য হল, অর্থনৈতিক উন্নয়ন যতই হোক না কেন, একটি দেশের নিরাপত্তা শক্তিশালী না হলে সেই উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী করা কঠিন। তাই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোকে জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
মোদীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতকে এমন একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভারত নিজেই উন্নত সামরিক প্রযুক্তির সরবরাহকারী হয়ে উঠতে পারে।
### বিদেশি অস্ত্রের উপর নির্ভরতা কমানোর ডাক
প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, বিদেশ থেকে কোনও সরঞ্জাম দ্রুত এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচে পাওয়া গেলেও তার উপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা দেশের নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি করে না। বরং দেশীয় প্রযুক্তি এবং উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুললে দেশের বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ এবং শিল্পক্ষেত্র আরও শক্তিশালী হয়।
এই কারণেই ‘আত্মনির্ভর ভারত’, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘স্বদেশি’ এবং ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর উপর জোর দিয়েছেন তিনি। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদনের প্রসারকে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে দেখানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের অর্থ, ভবিষ্যতে ভারতের প্রতিরক্ষা নীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য থাকবে দেশীয় গবেষণা ও উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়ানো। একইসঙ্গে দেশীয় সংস্থাগুলিকে উন্নত প্রযুক্তি তৈরিতে আরও বেশি উৎসাহ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।
### ১২ বছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বড় বৃদ্ধি
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে গত ১২ বছরে ভারতের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন প্রায় চারগুণ বেড়েছে। একই সময়ে প্রতিরক্ষা রপ্তানিও প্রায় ৫০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা পণ্য প্রায় ১০০টি দেশে পৌঁছচ্ছে।
এই পরিসংখ্যান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বোঝাতে চেয়েছেন যে ভারত ধীরে ধীরে বিশ্বের প্রতিরক্ষা বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে। আগে যেখানে ভারতকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করতে হত, এখন দেশীয় উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বিদেশে অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ব্যবসা ও প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। দেশীয় উৎপাদন বাড়লে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
### দ্রুত এগোচ্ছে ‘মিশন সুদর্শন চক্র’
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ‘মিশন সুদর্শন চক্র’-এর অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অসামরিক পরিকাঠামোকে আকাশপথের বিভিন্ন হুমকি থেকে সুরক্ষিত করার জন্য একটি দেশীয় প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা। বিভিন্ন স্তরের এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা এবং কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তিকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
আধুনিক যুদ্ধের পরিবর্তিত চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ধরনের বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় সমন্বিত প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা ক্রমশ বাড়ছে।
### সাইবার নিরাপত্তাকেও প্রতিরক্ষার অংশ বললেন মোদী
বর্তমান যুগে যুদ্ধ শুধু স্থল, জল বা আকাশে সীমাবদ্ধ নয়। সাইবার দুনিয়াতেও একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে আক্রমণ করা সম্ভব। তাই সাইবার নিরাপত্তাকেও প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের তরুণ প্রযুক্তিবিদদের দক্ষতাকে সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যেতে পারে। এতে দেশের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি ভারতীয় প্রযুক্তিবিদরা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন।
ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং ডেটা সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে আধুনিক যুদ্ধের সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করার সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল নির্ভরতা যত বাড়ছে, সাইবার আক্রমণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা রক্ষা করার প্রয়োজনও তত বাড়ছে।
### পুরনো সিভিল ডিফেন্স ব্যবস্থায় বদলের পরিকল্পনা
প্রতিরক্ষা ও যুদ্ধের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, গত শতাব্দীর যুদ্ধের প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি দেশের সিভিল ডিফেন্স ব্যবস্থার অনেকটাই বর্তমানে পুরনো হয়ে গিয়েছে। আধুনিক সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি নতুন ও সক্রিয় সিভিল ডিফেন্স নেটওয়ার্ক তৈরি করা হবে।
এর জন্য বড় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। আধুনিক প্রতিরক্ষা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পদ্ধতি সম্পর্কে এই স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
অর্থাৎ দেশের নিরাপত্তাকে শুধু সেনাবাহিনী বা নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব হিসেবে না দেখে সাধারণ নাগরিকদেরও প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ পরিস্থিতি কিংবা অন্যান্য বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
### প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নের কথাও
প্রতিরক্ষা নিয়ে বক্তব্যের শেষ দিকে নারী শক্তির ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় প্রতিরক্ষা অ্যাকাডেমি থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলা ক্যাডেটদের সামরিক নেতৃত্বে এগিয়ে আসার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।
এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে মহিলাদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্বের সুযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। ভারতের সশস্ত্র বাহিনীতে মহিলাদের ভূমিকা গত কয়েক বছরে আরও বিস্তৃত হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের সঙ্গে মানবসম্পদের ক্ষেত্রেও এই অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
### বিশ্ব প্রতিরক্ষা বাজারে ভারতের লক্ষ্য
মোদীর বক্তব্যের সামগ্রিক বার্তা ছিল স্পষ্ট—ভারতকে শুধু নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই হবে না, বরং বিশ্বের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠতে হবে। উন্নত ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন, হাইপারসনিক প্রযুক্তি এবং অন্যান্য দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য সামনে এসেছে।
প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং রপ্তানিতে গত কয়েক বছরের বৃদ্ধিকে এই পরিবর্তনের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, ভারত এখন ধীরে ধীরে এমন জায়গায় পৌঁছচ্ছে যেখানে দেশীয় প্রযুক্তি শুধু দেশের প্রয়োজন মেটাবে না, বিশ্বের অন্যান্য দেশের চাহিদাও পূরণ করতে পারবে।
### যুদ্ধের নতুন বাস্তবতায় প্রস্তুতির বার্তা
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে যুদ্ধ নিয়ে মোদীর বক্তব্যের মূল সুর ছিল প্রস্তুতি। তাঁর মতে, ভবিষ্যতের সংঘাতের ধরন সম্পর্কে কোনও পুরনো ধারণার উপর নির্ভর করে থাকা যাবে না। সীমান্তের পাশাপাশি অর্থনীতি, শিল্প, প্রযুক্তি, সাইবার ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকেও নিরাপত্তার আওতায় আনতে হবে।
এই কারণেই প্রতিরক্ষা উৎপাদন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং নাগরিক প্রস্তুতিকে একই বৃহত্তর নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যে ভারতের প্রতিরক্ষা নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি উঠে এসেছে। ড্রোন ও কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তি থেকে শুরু করে হাইপারসনিক প্রতিরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা এবং মিশন সুদর্শন চক্র—প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে ভারতকে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির বিশ্ব সরবরাহকারী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যও স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় আরও একটি বিষয় স্পষ্ট—আগামী দিনের জাতীয় নিরাপত্তা শুধু সেনাবাহিনীর শক্তির উপর নির্ভর করবে না। দেশীয় প্রযুক্তি, গবেষণা, শিল্প, সাইবার দক্ষতা, নাগরিক প্রস্তুতি এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো—সবকিছুকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে পৌঁছতে ‘রক্ষা শক্তি’কে যে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে দেখা হচ্ছে, স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তারই বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী।


