স্বাধীনতা দিবসের আবহে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের বহু বিস্মৃত অধ্যায় আবারও সামনে আসে। সেই ইতিহাসেরই এক অনন্য চরিত্র ছিলেন **হাকিম সৈয়দ মোহাম্মদ শরফুদ্দিন কাদরি**—একজন ইউনানি চিকিৎসক, স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং আজীবন জনসেবায় নিয়োজিত মানুষ। মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নেওয়া থেকে শুরু করে কারাবাস, কলকাতায় এসে দরিদ্র মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং শেষ পর্যন্ত **পদ্মভূষণ সম্মান**—তাঁর জীবন ছিল অসাধারণ বৈচিত্র্যে ভরা।
সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৩০ সালের লবণ সত্যাগ্রহ ও ডান্ডি অভিযানে গান্ধীর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন শরফুদ্দিন। পরবর্তী সময়ে আইন অমান্য আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেওয়ার কারণে তাঁকে কারাবরণও করতে হয়। বিভিন্ন সমকালীন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে, কটকের কারাগারে তিনি একই সময়ে গান্ধীর সঙ্গে বন্দি ছিলেন।
কিন্তু স্বাধীনতার পর ক্ষমতার রাজনীতিতে যাওয়ার বদলে তিনি বেছে নিয়েছিলেন সাধারণ মানুষের সেবার পথ। কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘স্বদেশী দাওয়াখানা’, যেখানে অর্থের বিনিময়ে নয়, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রোগীদের চিকিৎসা করতেন।
## বিহারের গ্রাম থেকে চিকিৎসক হয়ে ওঠা
হাকিম সৈয়দ মোহাম্মদ শরফুদ্দিন কাদরির জন্ম নিয়ে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে কিছুটা মতভেদ রয়েছে। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯০১ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিহারের নওয়াদা জেলার কুমরাওয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবা মোহাম্মদ মোহিব্বুদ্দিন নিজেও ইউনানি চিকিৎসক ছিলেন। বাবার কাছ থেকেই ছোটবেলায় চিকিৎসাশাস্ত্রের প্রাথমিক শিক্ষা পান শরফুদ্দিন।
পরবর্তীতে তিনিও ইউনানি চিকিৎসাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। কিন্তু তাঁর চিকিৎসা পেশা কখনও শুধুমাত্র জীবিকা অর্জনের মাধ্যম হয়ে ওঠেনি। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিশেষ করে দরিদ্রদের চিকিৎসা করা ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই পরবর্তী সময়ে তাঁকে কলকাতার মানুষের কাছে এক বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়।
## গান্ধীর সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ
শরফুদ্দিনের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়।
১৯৩০ সালে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে লবণ সত্যাগ্রহ এবং ডান্ডি অভিযান ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিবাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে। সেই আন্দোলনে শরফুদ্দিনও অংশ নিয়েছিলেন।
তিনি শুধু আন্দোলনে অংশ নিয়েই থেমে থাকেননি। অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলনের সময়ও সক্রিয় ছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁকে কারাবরণ করতে হয়।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, কটকের কারাগারে তিনি মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে একই সময়ে বন্দি ছিলেন বলে বিভিন্ন সমকালীন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
অর্থাৎ স্বাধীনতার ইতিহাসে তাঁর পরিচয় শুধু একজন চিকিৎসক হিসেবে নয়, একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
## স্বাধীনতার পরে রাজনীতি নয়, জনসেবা
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেক স্বাধীনতা সংগ্রামী সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন। শরফুদ্দিন অবশ্য অন্য পথ বেছে নেন।
ক্ষমতার রাজনীতিতে যাওয়ার পরিবর্তে তিনি মানুষের সেবাকেই জীবনের মূল লক্ষ্য করেন। ১৯৩০-এর দশকের মাঝামাঝি তাঁর পরিবার কলকাতায় চলে আসে। শহরে এসে তিনি হাজি মোহাম্মদ মহসিন স্কোয়ারে প্রতিষ্ঠা করেন **‘স্বদেশী দাওয়াখানা’**।
এই দাওয়াখানার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল—চিকিৎসার জন্য দরিদ্র মানুষদের কাছ থেকে কোনও অর্থ নেওয়া হতো না।
শরফুদ্দিন বিশ্বাস করতেন, চিকিৎসা মানুষের মৌলিক প্রয়োজন এবং অর্থের অভাবে কোনও মানুষ যেন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন। সেই আদর্শেই দীর্ঘদিন তিনি বিনামূল্যে রোগীদের চিকিৎসা করে গিয়েছেন।
## ১০০ বছর বয়সেও প্রতিদিন শতাধিক রোগী
শরফুদ্দিনের জনসেবার ব্যাপ্তি বোঝা যায় তাঁর বার্ধক্যের সময়কার কর্মকাণ্ড থেকেও।
সমসাময়িক প্রতিবেদনের উল্লেখ করে সংবাদ প্রতিদিন জানিয়েছে, **১০৫ বছর বয়সেও তিনি প্রতিদিন প্রায় ১০০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা করতেন।**
এত বেশি বয়সেও রোগী দেখার ক্ষেত্রে তাঁর উৎসাহ কমেনি। ইউনানি চিকিৎসার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল এবং নাড়ি পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয়ের দক্ষতার জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের সাধনা তাঁকে কলকাতার চিকিৎসা জগতে একটি স্বতন্ত্র জায়গা করে দিয়েছিল।
## রাজেন্দ্র প্রসাদকেও চিকিৎসা করেছিলেন?
শরফুদ্দিনের চিকিৎসা দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর সঙ্গে যুক্ত আরও একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য থেকে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি **ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ** অসুস্থ হওয়ার সময় তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বও শরফুদ্দিনের উপর পড়েছিল বলে কথিত রয়েছে।
তবে এই তথ্যটি প্রতিবেদনে ঐতিহাসিক সূত্রের দাবির ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এটিকে নিশ্চিত সরকারি নথি হিসেবে না দেখে প্রচলিত তথ্য হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
## শুধু চিকিৎসক নন, শিক্ষারও পৃষ্ঠপোষক
শরফুদ্দিনের কাজ শুধু চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
কলকাতায় শিশুদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সাক্ষরতা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা নিয়েছিলেন। অর্থাৎ চিকিৎসার পাশাপাশি শিক্ষাকেও সমাজ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখেছিলেন তিনি।
তিনি **‘হিকমত-এ-বাঙ্গালা’** নামে একটি চিকিৎসাবিষয়ক পত্রিকাও প্রকাশ করেছিলেন। ইউনানি চিকিৎসার প্রসার এবং চিকিৎসাবিষয়ক জ্ঞান সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এছাড়াও কলকাতায় **Calcutta Unani Medical College and Hospital** প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও তাঁর যোগ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
## দেশভাগের বিরোধিতা করেছিলেন
স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দেশভাগের প্রশ্নেও শরফুদ্দিনের অবস্থান ছিল স্পষ্ট।
তিনি **দ্বিজাতিতত্ত্বের বিরোধিতা করেছিলেন**। তাঁর কাছে ভারত ছিল একটি অভিন্ন মাতৃভূমি, যাকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করা উচিত নয়।
দেশভাগের মতো অস্থির সময়েও তাঁর এই অবস্থান তাঁর জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।
তাঁর জীবন দেখায়, স্বাধীনতা সংগ্রাম তাঁর কাছে শুধুমাত্র ব্রিটিশ শাসনের অবসানের আন্দোলন ছিল না। স্বাধীনতার পরও মানুষের মধ্যে ঐক্য, শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণ প্রতিষ্ঠার কাজকে তিনি সমান গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন।
## দীর্ঘ জনসেবার স্বীকৃতি পদ্মভূষণ
দশকের পর দশক ধরে চিকিৎসা এবং সমাজসেবার পর অবশেষে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও আসে।
**২০০৭ সালে তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়।** রাষ্ট্রপতি ভবনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি **ড. এ.পি.জে. আবদুল কালাম** তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেন। তখন তাঁর বয়স ১০৬ বছর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ, চিকিৎসাক্ষেত্রে অবদান এবং সাধারণ মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের নিঃস্বার্থ সেবার স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও উল্লেখযোগ্য বিষয়, পদ্মভূষণ পাওয়ার পরেও নিজের পরিচয় নিয়ে তাঁর মধ্যে কোনও আত্মগর্ব দেখা যায়নি। তিনি নিজেকে মূলত একজন **‘হাকিম’** হিসেবেই পরিচয় দিতে পছন্দ করতেন।
## ১০০ পেরিয়েও চিকিৎসাসেবা
শরফুদ্দিনের জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণামূলক দিক ছিল তাঁর অসাধারণ দীর্ঘ কর্মজীবন।
১০০ বছর বয়স পেরিয়েও তিনি রোগী দেখেছেন, বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়েছেন এবং মানুষের পাশে থেকেছেন। তাঁর কাছে বয়স যেন কখনও জনসেবার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
বর্তমান সময়ে চিকিৎসা পরিষেবার খরচ যখন বহু মানুষের কাছে বড় বোঝা, তখন শতবর্ষ পেরিয়েও অর্থের বিনিময় ছাড়াই রোগীদের চিকিৎসা করে যাওয়া তাঁর জীবনকে আরও বিশেষ করে তোলে।
## কলকাতার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক
বিহারে জন্ম হলেও জীবনের দীর্ঘ একটি অধ্যায় কলকাতায় কাটিয়েছেন শরফুদ্দিন। এখানেই তাঁর ‘স্বদেশী দাওয়াখানা’ মানুষের জন্য খুলে যায়।
কলকাতার সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ধীরে ধীরে শুধু চিকিৎসক নন, একজন সমাজসেবী হিসেবেও পরিচিত হয়ে ওঠেন।
শিক্ষা, চিকিৎসা এবং জনসেবাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তাঁর প্রচেষ্টা শহরের সামাজিক ইতিহাসেরও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।
## শেষ জীবন
দীর্ঘ জীবন কাটানোর পর **২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর কলকাতার রিপন স্ট্রিটের বাসভবনে তাঁর মৃত্যু হয়**। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুর মাত্র তিন দিন আগে তাঁর ১১৪তম জন্মদিন পালন করা হয়েছিল। তবে তাঁর প্রকৃত জন্মতারিখ এবং বয়স নিয়ে ঐতিহাসিক অনিশ্চয়তার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর জীবনকাহিনি স্বাধীনতা সংগ্রাম, চিকিৎসা এবং জনসেবার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রয়েছে।
## স্বাধীনতা দিবসে কেন তাঁকে মনে করা জরুরি?
স্বাধীনতার ইতিহাস বলতে সাধারণত কয়েকজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা এবং বিপ্লবীর নামই বেশি আলোচিত হয়। কিন্তু স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অসংখ্য মানুষ, যাঁদের অনেকের অবদান সময়ের সঙ্গে বিস্মৃত হয়েছে।
শরফুদ্দিন তাঁদেরই একজন।
গান্ধীর সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নেওয়া, ব্রিটিশের জেলে যাওয়া, দেশভাগের বিরোধিতা করা এবং স্বাধীনতার পরে রাজনীতির বদলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় নিজেকে নিয়োজিত করা—তাঁর জীবন স্বাধীনতার অর্থকে আরও বিস্তৃতভাবে বুঝতে সাহায্য করে।
তাঁর কাছে স্বাধীনতা শুধু একটি রাজনৈতিক অর্জন ছিল না; মানুষের সেবা, শিক্ষা এবং সামাজিক ঐক্যও ছিল স্বাধীন ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
## ইতিহাসের পাতায় এক বিস্মৃত নাম
আজকের প্রজন্মের কাছে হাকিম সৈয়দ মোহাম্মদ শরফুদ্দিন কাদরির নাম হয়তো খুব বেশি পরিচিত নয়। অথচ তাঁর জীবনের বিভিন্ন অধ্যায় ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সমাজসেবার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
গান্ধীর সহযোদ্ধা থেকে কলকাতার দরিদ্র মানুষের চিকিৎসক, শিক্ষার প্রসারে উদ্যোগী ব্যক্তি থেকে পদ্মভূষণপ্রাপ্ত জনসেবক—তাঁর জীবন একাধিক পরিচয়ের সমন্বয়।
স্বাধীনতার ৭৯তম বর্ষপূর্তির আবহে তাঁর মতো বিস্মৃত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কথা মনে করা তাই শুধু অতীত স্মরণ নয়, বরং স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধকে নতুন করে বোঝারও সুযোগ।
## শেষ কথা
হাকিম সৈয়দ মোহাম্মদ শরফুদ্দিন কাদরির জীবন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক বিস্মৃত অথচ অনন্য অধ্যায়। ১৯৩০ সালের লবণ সত্যাগ্রহে গান্ধীর সঙ্গে যোগ দেওয়া এবং কটকের জেলে তাঁর সঙ্গে একই সময়ে বন্দি থাকা থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পর কলকাতায় এসে দরিদ্রদের বিনামূল্যে চিকিৎসা—প্রতিটি পর্যায়েই তাঁর জীবনের মূল সুর ছিল মানুষের সেবা।
তিনি চিকিৎসার পাশাপাশি শিক্ষা ও সাক্ষরতার প্রসারেও কাজ করেছিলেন, ‘হিকমত-এ-বাঙ্গালা’ চিকিৎসা পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন এবং কলকাতার ইউনানি চিকিৎসা শিক্ষার পরিকাঠামো গড়ে তুলতেও ভূমিকা রেখেছিলেন। দীর্ঘ জনসেবার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৭ সালে রাষ্ট্রপতি এ.পি.জে. আবদুল কালামের হাত থেকে পদ্মভূষণ গ্রহণ করেন তিনি।
**স্বাধীনতা দিবসের আগে তাঁর কাহিনি মনে করিয়ে দেয়—দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস শুধু বড় নেতাদের নয়, এমন অসংখ্য নীরব কর্মীরও, যাঁরা স্বাধীনতার আগে লড়েছেন এবং স্বাধীনতার পরে মানুষের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।**


