ফের বড়সড় দুর্ঘটনা উত্তরাখণ্ডে। চামোলি জেলার পিপলকোটিতে একটি নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আচমকা বিপুল পরিমাণ জল ঢুকে পড়ার পাশাপাশি ধস নামায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক ভিতরে আটকে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত **অন্তত ১০ জন নির্মাণ শ্রমিক আটকে থাকার খবর** পাওয়া গিয়েছে। তবে উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যেই অভিযান শুরু করেছে এবং **৮ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে** বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। উত্তরাখণ্ড প্রশাসনের তরফে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা **NDRF** এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী **SDRF** যৌথভাবে ধসের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
## কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
জানা গিয়েছে, চামোলি জেলার পিপলকোটিতে **Tehri Hydro Development Corporation Limited (THDC)**-এর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেই প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন।
প্রায় **সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ** আচমকাই সুড়ঙ্গের ভিতরে বিপুল পরিমাণ ধস নামে। ধসের পরপরই সেখানে তীব্র জলস্রোত ঢুকে পড়ে। আচমকা এই পরিস্থিতিতে সুড়ঙ্গের ভিতরে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন শ্রমিক জলস্রোতের সঙ্গে অনেকটা দূর পর্যন্ত ভেসে যান।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ওই শিফটে মোট **১৮ জন শ্রমিক** সুড়ঙ্গের ভিতরে কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার পর তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আটকে পড়েন।
## এখনও কতজন শ্রমিক আটকে?
সংবাদমাধ্যমের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর **অন্তত ১০ জন শ্রমিক আটকে পড়েছিলেন**। তবে উদ্ধারকারী দলের তৎপরতায় ইতিমধ্যেই **৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে**।
অর্থাৎ ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চামোলির পুলিশকর্তা সুরজিৎ সিং পওয়ার জানিয়েছেন, জলস্রোতের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে শ্রমিকরা নিজেদের রক্ষা করার সুযোগ পাননি। অনেকটা দূরে তাঁরা ভেসে যান।
বাকি শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
## ‘জলস্রোত অত্যন্ত বেশি ছিল’
চামোলির পুলিশকর্তা সুরজিৎ সিং পওয়ার জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভিতরে জলস্রোতের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি ছিল। সেই কারণেই শ্রমিকদের পক্ষে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ধসের পর হঠাৎ জল ঢুকে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। উদ্ধারকারী দলকে একদিকে ধ্বংসস্তূপ সরাতে হচ্ছে, অন্যদিকে সুড়ঙ্গের ভিতরে জল জমার পরিস্থিতিও সামলাতে হচ্ছে।
পুলিশ প্রশাসনের আশা, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাকি শ্রমিকদেরও নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হবে।
## যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই প্রশাসনের তরফে উদ্ধারকাজে গতি আনা হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী **পুষ্কর সিং ধামি** দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর NDRF এবং SDRF-এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
ধসে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর জন্য ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। পাশাপাশি সুড়ঙ্গের ভিতরের পরিস্থিতি ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
## জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে দুর্ঘটনা
এই দুর্ঘটনা যে সুড়ঙ্গে ঘটেছে সেটি কোনও সাধারণ রাস্তার সুড়ঙ্গ নয়। এটি একটি **নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ**। ফলে সেখানে নির্মাণকাজ চলাকালীন একাধিক ধরনের ঝুঁকি থাকে।
পাহাড়ি এলাকায় সুড়ঙ্গ নির্মাণের সময় মাটির স্তর, জলধারা এবং পাথরের স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আচমকা জল ঢুকে পড়লে বা ধস নামলে ভিতরে থাকা শ্রমিকদের দ্রুত বের করে আনা কঠিন হয়ে পড়ে।
চামোলির মতো পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টি বা প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের পরিবর্তনও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।
## চামোলিতে বারবার বিপর্যয়ের স্মৃতি
উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি এলাকাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা এবং অতিবৃষ্টিজনিত বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। চামোলিও সেই তালিকায় অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ জেলা।
এর আগে চামোলি এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় একাধিক বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছে। ফলে নতুন করে সুড়ঙ্গে ধস ও জল ঢোকার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
তবে বর্তমান দুর্ঘটনাটি ঠিক কী কারণে ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জলস্রোতের উৎস এবং ধসের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে।
## উদ্ধার অভিযানে বড় চ্যালেঞ্জ
সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ধ্বংসস্তূপ এবং জল। সুড়ঙ্গের ভিতরের জায়গা সংকীর্ণ হওয়ায় উদ্ধারকারী দলের কাজও কঠিন হয়ে পড়ে।
এর পাশাপাশি নতুন করে ধস নামার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই উদ্ধারকারীদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে।
প্রথমে নিরাপদ পথ তৈরি করে আটকে থাকা শ্রমিকদের অবস্থান শনাক্ত করা এবং তারপর তাঁদের একে একে বাইরে নিয়ে আসাই মূল লক্ষ্য।
## আটকে পড়া শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
দুর্ঘটনার পর থেকে আটকে থাকা শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সুড়ঙ্গের ভিতরে দীর্ঘ সময় আটকে থাকলে পানীয় জল, অক্সিজেন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
তবে উদ্ধার অভিযান দ্রুত শুরু হওয়ায় আশার আলো রয়েছে। ইতিমধ্যেই আটজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হওয়ায় বাকি শ্রমিকদেরও দ্রুত বের করে আনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
## প্রশাসনের নজরদারি
মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, তিনি ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় সমস্ত সাহায্য দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
NDRF এবং SDRF-এর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশও ঘটনাস্থলে সক্রিয় রয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ চালানো হচ্ছে।
এই ধরনের ঘটনায় সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যত দ্রুত সম্ভব আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে।
## পরিবারগুলির মধ্যে উৎকণ্ঠা
সুড়ঙ্গে শ্রমিক আটকে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁদের পরিবারগুলির মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক পরিবারই উদ্ধার অভিযানের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
আটজন শ্রমিককে উদ্ধার করার খবর কিছুটা স্বস্তি দিলেও বাকি শ্রমিকদের নিরাপদে বের করে আনা না পর্যন্ত উৎকণ্ঠা কাটছে না।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিবারের সদস্যদের পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
## পাহাড়ি প্রকল্পে নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন
চামোলির এই ঘটনা পাহাড়ি এলাকায় নির্মীয়মাণ বড় প্রকল্পগুলির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে। বিশেষ করে সুড়ঙ্গ নির্মাণের ক্ষেত্রে ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা, জলপ্রবাহের পূর্বাভাস এবং জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনা কতটা কার্যকর—তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
যদিও বর্তমান দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তদন্তের পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
## এখন মূল লক্ষ্য উদ্ধার
এই মুহূর্তে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে বিতর্কের চেয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করাই প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। ইতিমধ্যেই উদ্ধারকারী দলগুলি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কাজ শুরু করেছে।
পুলিশের তরফে আশাবাদী বার্তা দেওয়া হয়েছে যে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাকি শ্রমিকদেরও উদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে।
## শেষ কথা
উত্তরাখণ্ডের **চামোলি জেলার পিপলকোটিতে নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আচমকা ধস এবং তীব্র জলস্রোতের ঘটনা** ঘটে। সেই সময় ভিতরে ১৮ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার পর অন্তত ১০ জন শ্রমিক আটকে পড়েন বলে জানা যায়। ইতিমধ্যে আটজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নির্দেশে NDRF এবং SDRF যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, জলস্রোতের তীব্রতা অত্যন্ত বেশি ছিল এবং কয়েকজন শ্রমিক ভেসে অনেকটা দূরে চলে যান।
এখন প্রশাসনের একমাত্র লক্ষ্য বাকি শ্রমিকদের দ্রুত এবং নিরাপদে উদ্ধার করা। আগামী কয়েক ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


