অবশেষে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন অভিনেতা তথা ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তী। শনিবার কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান বর্ষীয়ান অভিনেতা। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর অসুস্থতার খবর সামনে আসতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছিল অনুরাগীদের মধ্যে। তবে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে মিঠুন নিজেই জানালেন, তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ এবং চিকিৎসক ও নার্সদের পরিষেবায় তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট।
সম্প্রতি জানা যায়, হাতের একটি সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল মিঠুন চক্রবর্তীকে। তাঁর কনুইয়ের পুরনো অস্ত্রোপচারের জায়গাতেই তৈরি হয়েছিল জটিলতা। সেই সমস্যা সমাধানের জন্য চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই অনুরাগীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে চিকিৎসার পর মিঠুনের শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
### হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে কী বললেন মিঠুন?
হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় মিঠুন চক্রবর্তীর বক্তব্যে ছিল চিকিৎসকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা। অভিনেতা জানান, হাসপাতালে কাটানো তিনটি দিন তাঁর কাছে যেন চোখের পলকে কেটে গিয়েছে। তাঁকে সুস্থ করে তোলার জন্য চিকিৎসকদের বিশেষজ্ঞ দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
শুধু চিকিৎসকরাই নন, হাসপাতালের নার্সদেরও বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান মিঠুন। তাঁর কথায়, চিকিৎসক এবং নার্সরা অত্যন্ত যত্ন নিয়ে তাঁর চিকিৎসা করেছেন। তাঁদের আন্তরিক পরিষেবা এবং সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।
অভিনেতা আরও জানান, অস্ত্রোপচারের দিনই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর হাতের পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। নিজের আঙুল দিয়ে কোনও জিনিস ধরতে পারার ক্ষমতা ফিরে আসার বিষয়টিও তিনি লক্ষ্য করেছিলেন। চিকিৎসার পর দ্রুত হাতের কার্যক্ষমতা ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি পেয়েছিলেন তিনি।
### কী হয়েছিল মিঠুনের হাতে?
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মিঠুন চক্রবর্তীর কনুইয়ে এর আগে অন্যত্র একটি অস্ত্রোপচার হয়েছিল। সেই সময় তাঁর হাতে একটি প্লেট বসানো হয়েছিল। পরবর্তীকালে সেই প্লেটের সঙ্গে হাতের একটি নার্ভ আটকে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হয়।
শুধু নার্ভ আটকে যাওয়াই নয়, প্লেটে থাকা স্ক্রুগুলিও ওই নার্ভের উপরে চাপ সৃষ্টি করছিল। ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল। এই সমস্যার কারণেই চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নার্ভটিকে চাপমুক্ত করে আলাদা জায়গায় সেট করার ব্যবস্থা করা হয়।
চিকিৎসকদের এই সিদ্ধান্তের ফলে মিঠুনের হাতের সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
### মিঠুনকে দেখতে হাসপাতালে যান শুভেন্দু অধিকারীমিঠুন চক্রবর্তীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়ার পর তাঁকে দেখতে হাসপাতালে পৌঁছেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সকালে তিনি হাসপাতালে গিয়ে অভিনেতার সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। পরে চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মিঠুনের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায়ও শেয়ার করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি অভিনেতার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। মিঠুন চক্রবর্তী শুধু চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় মুখই নন, তিনি বর্তমানে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত। ফলে তাঁর অসুস্থতার খবর রাজনৈতিক মহলেও যথেষ্ট গুরুত্ব পায়।
### অনুরাগীদের উদ্বেগ কাটলমিঠুন চক্রবর্তী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাঁর অগণিত অনুরাগী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। বিশেষ করে তাঁর বয়স এবং অতীতে হওয়া শারীরিক সমস্যার কথা মাথায় রেখে অনেকেই তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। তবে এবার হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে অভিনেতা নিজেই চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানানোয় অনুরাগীদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে।
মিঠুনের দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার খবর নিঃসন্দেহে তাঁর ভক্তদের জন্য স্বস্তির। আপাতত চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে বিশ্রাম নেওয়াই তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একাধিক প্রজন্মের দর্শকের মন জয় করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয়, নাচ এবং স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব তাঁকে বিশেষ জনপ্রিয়তা দিয়েছে। ‘মহাগুরু’ হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা এখনও অটুট। তাই তাঁর অসুস্থতার খবর সামনে এলেই অনুরাগীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
তবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর মিঠুনের নিজের বক্তব্যই আপাতত সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর। চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এবং নিজের শারীরিক উন্নতির কথা জানিয়ে তিনি কার্যত অনুরাগীদেরও আশ্বস্ত করেছেন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


