কলকাতার **কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে** ডুরান্ড কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে দুরন্ত ফুটবল উপহার দিল **ইস্টবেঙ্গল এফসি**। একতরফা লড়াইয়ে **সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্স (CISF Protectors)**-কে **৮-০** গোলে বিধ্বস্ত করে লাল-হলুদ শিবির টুর্নামেন্টে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াল। প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের হতাশা কাটিয়ে এই জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, গোল পার্থক্যও অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে, যা নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে আক্রমণের পর আক্রমণ শানাতে থাকে ইস্টবেঙ্গল। যদিও প্রথম দিকে সিআইএসএফের রক্ষণ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, কিন্তু সেই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টেকেনি। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে **পি. ভি. বিষ্ণু** গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন। এরপর প্রতিপক্ষ অধিনায়ক **মহম্মদ খালিদের আত্মঘাতী গোল** ব্যবধান বাড়িয়ে দেয়। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে **জিকসন সিং** গোল করে বিরতির আগেই দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে যেন আরও বিধ্বংসী রূপ নেয় লাল-হলুদ আক্রমণ। বিরতির পরপরই আবার গোল করেন বিষ্ণু। এরপর একে একে গোলের তালিকায় নাম লেখান **বিপিন সিং**, **জেসিন টি. কে.** (দুটি গোল) এবং শেষদিকে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন বিষ্ণু। ফলে শেষ বাঁশি বাজার সময় স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছিল ৮-০ ব্যবধান।
এই ম্যাচের নায়ক নিঃসন্দেহে **পি. ভি. বিষ্ণু**। তাঁর হ্যাটট্রিক ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণভাগের ধার আরও একবার প্রমাণ করেছে। পাশাপাশি জেসিন টি. কে.-র জোড়া গোল এবং দলের মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের দাপুটে পারফরম্যান্স গোটা ম্যাচে আধিপত্য বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। কোচের কৌশলও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করেন ফুটবলাররা।
এই জয়ের ফলে গ্রুপে ইস্টবেঙ্গলের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। প্রথম ম্যাচে কলকাতা ডার্বিতে হারের পর সমর্থকদের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই দূর করেছে এই বিশাল জয়। বিশেষ করে গোল পার্থক্যে বড়সড় উন্নতি হওয়ায় পরবর্তী ম্যাচগুলিতে দলের আত্মবিশ্বাসও অনেকটাই বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
ম্যাচে সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্স শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে খেললেও ইস্টবেঙ্গলের দ্রুত পাসিং, উইং দিয়ে আক্রমণ এবং ফিনিশিংয়ের সামনে তারা কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে। গোলরক্ষক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করলেও শেষ পর্যন্ত গোলের বন্যা আটকানো সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে শারীরিক ক্লান্তির সুযোগ নিয়ে ইস্টবেঙ্গল আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ব্যবধান বাড়াতে থাকে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক ছিল আক্রমণভাগের ধারাবাহিকতা এবং একাধিক খেলোয়াড়ের গোল করার ক্ষমতা। শুধু একজন স্ট্রাইকারের উপর নির্ভর না করে দলগত ফুটবল খেলেই তারা প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে ডুরান্ড কাপে ইস্টবেঙ্গল অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, **ডুরান্ড কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্সকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করল ইস্টবেঙ্গল।** পি. ভি. বিষ্ণুর হ্যাটট্রিক, জেসিন টি. কে.-র জোড়া গোল এবং গোটা দলের দাপুটে পারফরম্যান্সে লাল-হলুদ শিবির শুধু বড় জয়ই পেল না, নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইকেও আরও জোরালো করে তুলল।


