Tuesday, September 15, 2026

Creating liberating content

নন্দীগ্রাম আসন ছাড়তে কংগ্রেসকে...

নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে ফের জটিলতা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, নন্দীগ্রাম...

জেলায় মিড-ডে মিলের দায়িত্ব...

পশ্চিমবঙ্গে স্কুলের মিড-ডে মিল বা মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই নতুন তথ্য সামনে...

দুর্গাপুজো উদ্যোক্তাদের একজোট করতে...

দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে বাংলার রাজনীতিতে নতুন তৎপরতা শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজ্যের...

FATF বৈঠকের আগে মসুদ...

আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেই জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মসুদ আজহারকে নিয়ে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা...
Homeবাংলা৮০ হাজার স্কুলে...

৮০ হাজার স্কুলে ২৯৬ কোটি বরাদ্দ, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী **শুভেন্দু অধিকারী**। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ তিন বছর পর রাজ্যের প্রায় **৮০ হাজার সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলের জন্য মোট ₹২৯৬ কোটি টাকার কম্পোজিট স্কুল গ্র্যান্ট (Composite School Grant)** বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই অর্থ বিদ্যালয়গুলির প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত কয়েক বছর ধরে এই খাতে বরাদ্দ না হওয়ায় বহু বিদ্যালয় আর্থিক সমস্যার মুখে পড়েছিল। স্কুলগুলির দৈনন্দিন রক্ষণাবেক্ষণ, ছোটখাটো মেরামতি, পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য জরুরি কাজের জন্য এই তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বরাদ্দের ফলে সেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে সরকারের আশা।

সরকারি সূত্রের দাবি, **কম্পোজিট স্কুল গ্র্যান্ট** এমন একটি তহবিল, যা বিদ্যালয়গুলিকে তাদের নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করার সুযোগ দেয়। বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষ সংস্কার, শিক্ষাসামগ্রী সংগ্রহ, স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে এই অর্থ ব্যয় করা যায়। এর ফলে প্রতিটি বিদ্যালয় তাদের বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। শুধুমাত্র নতুন প্রকল্প ঘোষণা নয়, ইতিমধ্যেই চলমান শিক্ষা কর্মসূচিগুলিকেও আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তাঁর মতে, উন্নত পরিকাঠামো ছাড়া গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই বিদ্যালয়গুলিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য এই বরাদ্দ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, কম্পোজিট স্কুল গ্র্যান্ট দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে স্কুল পরিচালনায় নানা সমস্যা তৈরি হয়। অনেক সময় বিদ্যালয়গুলিকে ছোটখাটো সংস্কার, আসবাবপত্র মেরামত, নিরাপদ পানীয় জল বা শৌচাগারের মতো মৌলিক পরিষেবার জন্যও সমস্যায় পড়তে হয়। ফলে এই ধরনের বরাদ্দ পুনরায় চালু হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে।

তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ দাবি করেছে, বরাদ্দ ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়; নির্ধারিত সময়ে প্রতিটি স্কুলে অর্থ পৌঁছানো এবং সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, বরাদ্দের পাশাপাশি স্বচ্ছ হিসাবরক্ষণ এবং নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থাও থাকা উচিত, যাতে সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়।

অন্যদিকে শিক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, বরাদ্দের অর্থ নির্দিষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রতিটি স্কুলকে নির্ধারিত নিয়ম মেনে অর্থ ব্যয় করতে হবে এবং ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে নিরীক্ষার মাধ্যমে সেই হিসাবও যাচাই করা হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু নতুন ভবন নির্মাণ নয়, বিদ্যমান বিদ্যালয়গুলির রক্ষণাবেক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি পরিষ্কার, নিরাপদ এবং আধুনিক পরিবেশে পড়াশোনা করলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার, শেখার আগ্রহ এবং সামগ্রিক শিক্ষার মান উন্নত হয়। সেই দিক থেকে কম্পোজিট স্কুল গ্র্যান্ট অত্যন্ত কার্যকর একটি উদ্যোগ।

এছাড়াও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বরাদ্দের মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহুরে—উভয় এলাকার বিদ্যালয়ই উপকৃত হবে। বিশেষ করে যেসব স্কুল দীর্ঘদিন ধরে অর্থাভাবে ছোটখাটো সংস্কারের কাজ করতে পারেনি, তারা এখন সেই কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ পাবে।

সব মিলিয়ে, **প্রায় ৮০ হাজার সরকারি ও সরকার-পোষিত বিদ্যালয়ের জন্য ₹২৯৬ কোটি টাকার বরাদ্দ** রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই অর্থ যথাসময়ে বিদ্যালয়গুলির কাছে পৌঁছে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে শিক্ষা পরিকাঠামোর উন্নয়নে তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

নন্দীগ্রাম আসন ছাড়তে কংগ্রেসকে বার্তা মমতার

নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে ফের জটিলতা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, নন্দীগ্রাম আসনে কংগ্রেসকে প্রার্থী না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপালের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে বলে...

জেলায় মিড-ডে মিলের দায়িত্ব এখনই নিচ্ছে না ইসকন

পশ্চিমবঙ্গে স্কুলের মিড-ডে মিল বা মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই নতুন তথ্য সামনে এসেছে। রাজ্যের জেলাগুলিতে এখনই মিড-ডে মিলের দায়িত্ব নিচ্ছে না ইসকন বা ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস। আপাতত কলকাতার নির্দিষ্ট কিছু স্কুলে রান্না করা খাবার সরবরাহের বিষয়টি...

দুর্গাপুজো উদ্যোক্তাদের একজোট করতে রুদ্রনীলের নেতৃত্বে কমিটি

দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে বাংলার রাজনীতিতে নতুন তৎপরতা শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজ্যের বিভিন্ন দুর্গাপুজো কমিটি ও উদ্যোক্তাদের এক ছাতার তলায় আনতে বিশেষ কমিটি গঠন করল বিজেপি। অভিনেতা-রাজনীতিক রুদ্রনীল ঘোষকে এই কমিটির নেতৃত্বে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুজোকে...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.