পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প **‘অন্নপূর্ণা যোজনা’** নিয়ে ফের বড় আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী **শুভেন্দু অধিকারী**। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক এবং সরকারি কর্মসূচিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রকৃত যোগ্য কোনও মহিলাই এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না। যাঁদের নাম এখনও তালিকাভুক্ত হয়নি বা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি, তাঁদের আবেদনও দ্রুত নিষ্পত্তি করে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর পর ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক মহিলা মাসিক আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে প্রায় **২৮ লক্ষেরও বেশি** মহিলা প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। পরবর্তীতে আরও এক লক্ষের বেশি নতুন আবেদনকারীর তথ্য যাচাই সম্পন্ন হয়েছে এবং তাঁদেরও পর্যায়ক্রমে অর্থ প্রদান করা হবে। সব মিলিয়ে উপভোক্তার সংখ্যা ইতিমধ্যেই **২৯ লক্ষের বেশি** ছাড়িয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাঁরা এখনও আবেদন করতে পারেননি, তাঁদের জন্য বিশেষ জনকল্যাণ শিবির (Janakalyan Camps) এবং স্থানীয় প্রশাসনিক দপ্তরের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়েও আবেদনপত্র পূরণে সহায়তা করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মহিলাদের নিয়মিত আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করা এবং কোনও প্রকৃত সুবিধাভোগী যেন প্রশাসনিক কারণে বাদ না পড়েন।
অন্নপূর্ণা যোজনা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম বড় **ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)** প্রকল্প। এই প্রকল্পে যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে **₹৩,০০০** করে সরাসরি তাঁদের আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। এই প্রকল্পটি পূর্ববর্তী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের পরিবর্তে চালু করা হয়েছে এবং একাধিক ধাপে এর বাস্তবায়ন চলছে।
তবে মুখ্যমন্ত্রী একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছেন, প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদেরই দেওয়া হবে। এজন্য আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। সরকার দাবি করেছে, অতীতে কিছু অযোগ্য ব্যক্তি বা ভুয়ো নামও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন। সেই কারণেই এবার আবেদনকারীদের পরিচয়, পারিবারিক তথ্য, আধার সংযোগ এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই সম্পূর্ণ হলেই নতুন আবেদনকারীদেরও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এছাড়া সাম্প্রতিক প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য কোনও যোগ্য আবেদনকারীকে বাদ দেওয়া নয়। বরং প্রকল্পকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। তিনি প্রশাসনের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আবেদন নিষ্পত্তিতে অযথা দেরি না হয় এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে না হয়।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘোষণা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে সরকার দাবি করছে, অন্নপূর্ণা যোজনা মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশ প্রকল্পের যোগ্যতার মানদণ্ড এবং যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে সরকার জানিয়েছে, সমস্ত আবেদন নির্ধারিত নিয়ম মেনেই পরীক্ষা করা হবে এবং আইনসম্মতভাবে প্রকল্প পরিচালিত হবে।
সব মিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক আশ্বাসে স্পষ্ট হয়েছে যে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যাঁরা এখনও সুবিধা পাননি কিন্তু যোগ্য, তাঁদেরও পর্যায়ক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। ফলে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন এবং নতুন আবেদনকারীদের অন্তর্ভুক্তির দিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।


