কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের পদক তালিকায় আরও এক সাফল্য যোগ করলেন ভারোত্তোলক **চানাম্বাম ঋষিকান্ত সিং**। পুরুষদের ৬০ কেজি বিভাগে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে তিনি রৌপ্য পদক জয় করেছেন। শুধু পদকই নয়, স্ন্যাচ বিভাগে নতুন **কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড** গড়ে নিজের নামও ইতিহাসে তুলে রেখেছেন।
গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী দেখায় ভারতীয় ভারোত্তোলককে। স্ন্যাচে দুর্দান্ত লিফট করে তিনি **১২১ কেজি** ওজন তুলে নতুন গেমস রেকর্ড গড়েন। তাঁর এই পারফরম্যান্সে ভারতীয় শিবিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে এবং সোনা জয়ের সম্ভাবনাও জোরালো হয়ে ওঠে।
তবে ক্লিন অ্যান্ড জার্ক পর্বে মালয়েশিয়ার **মোহামাদ আনিক বিন কাসদান** অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি মোট **২৭৩ কেজি** ওজন তুলে নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড গড়ে সোনা জিতে নেন। অন্যদিকে ঋষিকান্ত সিং মোট **২৬৪ কেজি** ওজন তুলে রৌপ্য পদক নিশ্চিত করেন।
এই রৌপ্য পদক ভারতের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের **প্রথম রৌপ্য পদক** এবং দেশের সামগ্রিক পদকসংখ্যাও বাড়িয়ে দিল। প্রতিযোগিতার শুরুতেই ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের এই সাফল্য পরবর্তী ইভেন্টগুলির জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মণিপুরের এই ভারোত্তোলক দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়ে আসছেন। কঠোর অনুশীলন, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং মানসিক দৃঢ়তার জোরেই তিনি ভারতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ওজনোত্তোলক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় মঞ্চে তাঁর এই সাফল্য সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন।
ভারতীয় কোচিং স্টাফের মতে, স্ন্যাচ বিভাগে ঋষিকান্তের পারফরম্যান্স ছিল বিশ্বমানের। যদিও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে তিনি নিজের সেরা লিফট তুলতে পারেননি, তবুও চাপের মধ্যে যেভাবে প্রতিযোগিতা শেষ করেছেন, তা প্রশংসার দাবিদার। ভবিষ্যতে এই অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও বড় প্রতিযোগিতায় সফল হতে সাহায্য করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় রেকর্ড গড়ে পদক জেতা শুধু একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নতিরও প্রতিফলন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতীয় ভারোত্তোলনের মান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং তরুণ ক্রীড়াবিদরাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রমাণ করছেন। ঋষিকান্তের এই সাফল্য আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলেও মত তাঁদের।
সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা ঋষিকান্ত সিংকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, রৌপ্য পদক জিতলেও তাঁর রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স সোনার থেকেও কম নয়। বিশেষ করে স্ন্যাচে নতুন গেমস রেকর্ড তৈরি করে তিনি প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন।
এদিকে ভারতের সামনে এখনও একাধিক পদকের সুযোগ রয়েছে। ভারোত্তোলন, অ্যাথলেটিক্স, বক্সিং এবং অন্যান্য ইভেন্টে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের কাছ থেকে ভালো ফলের আশা করছেন সমর্থকরা। প্রতিযোগিতার শুরুতেই ঋষিকান্ত সিংয়ের এই সাফল্য পুরো ভারতীয় দলের মনোবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ঋষিকান্ত সিংয়ের রৌপ্য পদক ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি স্মরণীয় সংযোজন। রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স, দুর্দান্ত লড়াই এবং দেশের জন্য পদক জয়ের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় ভারোত্তোলন ক্রমশ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।


