NEET-UG পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দেশব্যাপী আন্দোলন থামানোর কোনও ইঙ্গিত দিল না **ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janata Party বা CJP)**। কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আন্দোলনকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, **আলোচনা চললেও আন্দোলন বন্ধ হবে না**। তাঁদের দাবি, শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে আলোচনার অর্থ এই নয় যে তাঁদের মূল দাবিগুলি থেকে সরে আসা হচ্ছে। সংগঠনের দাবি, পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা, পরীক্ষা পরিচালনা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ করতে হবে।
কয়েক সপ্তাহ আগে সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আন্দোলন অল্প সময়ের মধ্যেই বৃহত্তর ছাত্র-যুব আন্দোলনের রূপ নেয়। বর্তমানে দিল্লির জন্তর মন্তর-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। হাজার হাজার পড়ুয়া, চাকরিপ্রার্থী এবং যুবক-যুবতী এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।
আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ **সোনম ওয়াংচুক** সম্প্রতি ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার করলেও আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর অনশন শেষ হওয়ার অর্থ আন্দোলনের সমাপ্তি নয়। বরং আন্দোলনকে আরও বিস্তৃতভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি হল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। তাঁদের অভিযোগ, বারবার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁরা দাবি করছেন, শুধুমাত্র কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; গোটা ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন।
অন্যদিকে কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগগুলির তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে নতুন আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথাও সরকার জানিয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের মতে, ঘোষিত পদক্ষেপগুলি তাঁদের মূল দাবিগুলি পূরণ করার জন্য যথেষ্ট নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন ইতিমধ্যেই দেশের অন্যতম বড় ছাত্র-যুব আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলও এই ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু একটি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্কে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থা বজায় রাখতে প্রশ্নফাঁস রোধে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দ্রুত তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, **ককরোচ জনতা পার্টি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সরকারের সঙ্গে সংলাপ চললেও NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে তাদের আন্দোলন আপাতত বন্ধ হচ্ছে না।** দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তেই অনড় রয়েছে সংগঠনটি।


