**২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমস**কে সামনে রেখে ভারতের ক্রীড়া মহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবারের আসরে **ভারতীয় মহিলা অ্যাথলিটদের সংখ্যা আগের সংস্করণের তুলনায় কমেছে**, যা নিয়ে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ, সমর্থক এবং বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অংশগ্রহণকারীদের তালিকা প্রকাশের পরই দেখা যায়, পুরুষ ও মহিলা খেলোয়াড়দের অনুপাতের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
ক্রীড়া প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের কমনওয়েলথ গেমসে আগের তুলনায় কম সংখ্যক খেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বহু ইভেন্ট বাদ পড়েছে, বিশেষ করে এমন কিছু প্রতিযোগিতা যেখানে ভারতীয় মহিলা খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। এই পরিবর্তনের ফলেই মহিলা অ্যাথলিটদের মোট সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়ের সংখ্যা শুধুমাত্র দেশের নির্বাচন নীতির উপর নির্ভর করে না। আয়োজক কমিটির নির্ধারিত ইভেন্ট তালিকা, যোগ্যতা অর্জনের মানদণ্ড (Qualification Criteria), সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার নিয়ম এবং প্রতিটি দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া— সবকিছুর উপরই চূড়ান্ত তালিকা নির্ভরশীল।
ভারত গত কয়েক বছরে মহিলা ক্রীড়াবিদদের সাফল্যে বিশ্বমঞ্চে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছে। ব্যাডমিন্টন, বক্সিং, কুস্তি, ভারোত্তোলন, শুটিং, অ্যাথলেটিক্স এবং টেবিল টেনিস-সহ বিভিন্ন খেলায় ভারতীয় মহিলা খেলোয়াড়রা একাধিক আন্তর্জাতিক পদক জিতেছেন। ফলে এবারের তালিকায় মহিলা প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়া অনেকের কাছেই বিস্ময়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনকে শুধুমাত্র নারী ক্রীড়াবিদদের গুরুত্ব কমে যাওয়ার দৃষ্টিতে দেখা ঠিক হবে না। কারণ এবারের গেমসে কোন কোন ইভেন্ট রাখা হবে, তা আয়োজকরাই নির্ধারণ করেছেন। যদি কোনও খেলাই বাদ পড়ে, তাহলে সেই খেলার যোগ্য খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের সুযোগও স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়।
ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (IOA) এবং সংশ্লিষ্ট জাতীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলির লক্ষ্য, যোগ্যতা অর্জনকারী সেরা খেলোয়াড়দেরই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পাঠানো। ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পারফরম্যান্স, আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং, ট্রায়াল এবং নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে মহিলা ক্রীড়াবিদদের জন্য আরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং অবকাঠামোগত সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তৃণমূল স্তরে প্রশিক্ষণ, আধুনিক কোচিং, পুষ্টি এবং আর্থিক সহায়তা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক ভারতীয় মহিলা অ্যাথলিট আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন।
সমর্থকদের একাংশের মতে, সংখ্যার তুলনায় পদক জয়ের সম্ভাবনা এবং খেলোয়াড়দের মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কম সংখ্যক প্রতিনিধি থাকলেও যদি তাঁরা সাফল্য এনে দিতে পারেন, তাহলে ভারতের ক্রীড়া অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ক্রীড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতীয় দলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেরা পারফরম্যান্সের জন্য প্রস্তুত করতে প্রশিক্ষণ শিবির, বৈজ্ঞানিক সহায়তা এবং বিশেষ কোচিং কর্মসূচি চালু রয়েছে। মহিলা ও পুরুষ— উভয় বিভাগের খেলোয়াড়দেরই সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি চালানো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, **২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় মহিলা অ্যাথলিটদের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি ক্রীড়া মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
** তবে এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে প্রতিযোগিতার ইভেন্ট তালিকায় পরিবর্তন এবং যোগ্যতা অর্জনের নিয়মকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এখন সকলের নজর থাকবে ভারতের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে কেমন পারফরম্যান্স করেন এবং দেশের জন্য কতগুলি পদক জিততে সক্ষম হন।


