ডিউটির সময় শৃঙ্খলা, কর্মদক্ষতা এবং জনসেবার মান আরও উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল **কলকাতা পুলিশ**। সম্প্রতি বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যেখানে **ডিউটির সময় ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহারের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ** আরোপ করা হয়েছে। এই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য হল দায়িত্ব পালনের সময় কোনও ধরনের অমনোযোগ বা অবহেলা যাতে না ঘটে এবং পুলিশ সদস্যরা সম্পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জায়গায় ডিউটির সময় কিছু পুলিশ কর্মীকে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। কোথাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, কোথাও ব্যক্তিগত ফোনালাপ বা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকার অভিযোগও ওঠে। এই ধরনের ঘটনা জনসাধারণের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয় এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে কর্তৃপক্ষ। সেই কারণেই নতুন করে কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ডিউটির সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। বিশেষ করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, ভিআইপি নিরাপত্তা, জনসমাগম বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিগত মোবাইলে ব্যস্ত থাকা সম্পূর্ণ নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে বা সরকারি কাজে প্রয়োজন হলে নির্ধারিত নিয়ম মেনেই মোবাইল ব্যবহার করা যাবে।
পুলিশ কর্তৃপক্ষের মতে, বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও দায়িত্ব পালনের সময় এর অতিরিক্ত ব্যবহার কর্মদক্ষতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একটি ছোট মুহূর্তের অসাবধানতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনা, নিরাপত্তা বিঘ্ন বা আইন-শৃঙ্খলার সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই দায়িত্বের সময় সম্পূর্ণ মনোযোগ বজায় রাখাই এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কলকাতা পুলিশ নয়, বিশ্বের বহু পুলিশ বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাতেই ডিউটির সময় ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের উপর বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে। কারণ নিরাপত্তা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে মনোযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই নির্দেশিকা কার্যকর করতে বিভিন্ন থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদেরও প্রয়োজনীয় নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোথাও নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাও বিবেচনা করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিকে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, প্রযুক্তির যুগে মোবাইল ফোন সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা সম্ভব না হলেও দায়িত্ব পালনের সময় তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ পুলিশের পেশাদারিত্ব এবং জনসেবার মান আরও উন্নত করতে সহায়ক হবে।
জননিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ প্রতিরোধ, জনসমাগমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে এক মুহূর্তের অমনোযোগও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা একটি ইতিবাচক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
এছাড়াও কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের উপর জোর দিচ্ছে। সিসিটিভি নজরদারি, ডিজিটাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, অনলাইন অভিযোগ গ্রহণ এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিষেবার মান উন্নত করার চেষ্টা চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারে শৃঙ্খলা বজায় রাখার এই নির্দেশিকাকেও প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ডিউটির সময় ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহারে কড়া নির্দেশ জারি করে কলকাতা পুলিশ দায়িত্ব পালনে আরও বেশি শৃঙ্খলা ও মনোযোগ নিশ্চিত করার বার্তা দিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে পুলিশি পরিষেবার মান, কর্মদক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।


