রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ফের একবার দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার একটি ফেসবুক লাইভে এসে তিনি জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা তাঁর কাছে নতুন নয়। অতীতের মতো এবারও তিনি নতুন উদ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যাবেন। একই সঙ্গে তিনি দলীয় কর্মীদের হতাশ না হয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
ফেসবুক লাইভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহু চড়াই-উতরাইয়ের মুখোমুখি হয়েছেন। ১৯৯৬ ও ২০০৪ সালের মতো কঠিন সময়ের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, অতীতেও নানা বাধা অতিক্রম করে তিনি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। এবারও মানুষের আশীর্বাদ ও দলীয় কর্মীদের সমর্থন নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক লড়াই শুরু করবেন বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে আত্মবিশ্বাসের সুর স্পষ্ট ছিল।
এদিনের ভাষণে তিনি আরও বলেন, যদি তিনি রাজনৈতিক সমঝোতা বা ব্যক্তিগত সুবিধার পথে হাঁটতেন, তাহলে হয়তো আজকের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। কিন্তু আদর্শের সঙ্গে কখনও আপস করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না বলেই দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর কথায়, নীতি ও মানুষের স্বার্থকেই তিনি সবসময় অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
দলীয় সংগঠন প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, যাঁরা দল ছেড়ে যেতে চান তাঁদের তিনি বাধা দেবেন না। বরং যাঁরা দলের আদর্শে বিশ্বাস রাখেন, তাঁদের নিয়েই নতুনভাবে সংগঠনকে শক্তিশালী করা হবে। তৃণমূল কংগ্রেসকে আরও সংগঠিত ও জনমুখী করে তোলার লক্ষ্যেই আগামী দিনে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এছাড়াও তিনি ২১ জুলাই শহিদ দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। ১৯৯৩ সালের আন্দোলনের স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই আন্দোলনই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় মোড় ছিল। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রাম আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, কোনও ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিতে কান না দিয়ে মানুষের মধ্যে থাকতে হবে। সাধারণ মানুষের সমস্যার পাশে দাঁড়ানো, সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং জনসংযোগ বাড়ানোর উপর বিশেষ জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমেই রাজনৈতিক শক্তি আরও সুদৃঢ় হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ফেসবুক লাইভ ছিল দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। অতীতের সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ভবিষ্যতের লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে রাজনৈতিকভাবে তিনি এখনও সক্রিয় এবং আগামী দিনেও জনসংযোগ ও আন্দোলনের মাধ্যমেই নিজের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
সব মিলিয়ে, এই ফেসবুক লাইভ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না, বরং কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে একপ্রকার আত্মবিশ্বাসের বার্তা। অতীতের অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিয়েছেন যে প্রতিকূল পরিস্থিতিকেও তিনি রাজনৈতিক লড়াইয়ের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।


