রাজনীতির ময়দানে বরাবরই পরিচিত মুখ। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে চলচ্চিত্র পরিচালনার জগতেও নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন। এবার জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন বিজেপি নেতা ও পরিচালক শঙ্কুদেব পণ্ডা। রবিবার সন্ধ্যায় ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এক সাংবাদিককেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন শঙ্কুদেব। বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে রাজনৈতিক মহল, সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, গঙ্গার বুকে বিশেষ আয়োজনের মধ্যেই সম্পন্ন হয় এই বিয়ের অনুষ্ঠান। বিয়ের সাজেও নজর কেড়েছেন নবদম্পতি। শঙ্কুদেব পণ্ডার পরনে ছিল লাল রঙের ধুতি-পাঞ্জাবি, অন্যদিকে নববধূ সেজেছিলেন লাল বেনারসি শাড়ি ও ঐতিহ্যবাহী সোনার গয়নায়। বাঙালি রীতিনীতি মেনে সম্পূর্ণ আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই চার হাত এক হয়েছে তাঁদের। অনুষ্ঠানের একাধিক ছবি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
বিয়ের আগে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানেও দেখা যায় নবদম্পতিকে। সেই অনুষ্ঠানে দু’জনেই হলুদ রঙের পোশাক পরেছিলেন। ফুলের সাজ, পারিবারিক আবহ এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-বন্ধুদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি ছিল একেবারে ঘরোয়া অথচ আড়ম্বরপূর্ণ। সেই ছবিগুলিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে।
শঙ্কুদেব পণ্ডার বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন রাজনীতি, সংবাদমাধ্যম এবং সমাজজগতের বহু পরিচিত মুখ। বিশেষভাবে নজর কেড়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতি। নবদম্পতির সঙ্গে তাঁর তোলা ছবিও ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে এবং তা নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গেছে। এছাড়াও একাধিক রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক এবং ঘনিষ্ঠ শুভানুধ্যায়ীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরেই শঙ্কুদেব পণ্ডার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। বিশেষ করে এক সাংবাদিকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক এবং সংবাদমহলে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। অবশেষে সেই জল্পনার ইতি টেনে রবিবার সন্ধ্যায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন দু’জনে। যদিও নবদম্পতি তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি, তবুও তাঁদের বিয়ের খবর শুভেচ্ছার বন্যা বইয়ে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
রাজনীতির পাশাপাশি সম্প্রতি চলচ্চিত্র নির্মাণেও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন শঙ্কুদেব পণ্ডা। আরজি কর হাসপাতালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি ‘অভয়া শক্তি’ নামে একটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করছেন। গত জুন মাসে ছবিটির পোস্টার প্রকাশ করা হয়। পরিচালক হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করার পর থেকেই ছবিটি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। শঙ্কুদেব জানিয়েছিলেন, এই ছবিতে এমন কিছু তথ্য তুলে ধরা হবে যা সাধারণ মানুষের সামনে আগে আসেনি।
শঙ্কুদেব পণ্ডা দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, টেলিভিশন বিতর্ক এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁকে নিয়মিত দেখা যায়। একইসঙ্গে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও তিনি সক্রিয়। সেই কারণেই তাঁর বিয়ের খবর রাজনৈতিক পরিসরের গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নবদম্পতির উদ্দেশে শুভেচ্ছাবার্তা জানিয়েছেন অসংখ্য অনুগামী ও শুভানুধ্যায়ী। অনেকেই তাঁদের নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়ে পোস্ট করেছেন। বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়েছে এবং বিভিন্ন মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রেখে এখন ব্যক্তিগত ও পেশাগত—দুই ক্ষেত্রেই নতুন দায়িত্বের মুখোমুখি শঙ্কুদেব পণ্ডা। রাজনীতির পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালনা এবং ব্যক্তিগত জীবনের এই নতুন সূচনা আগামী দিনে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যান, সেদিকেই নজর থাকবে তাঁর সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের।


