২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ততই জমে উঠছে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার **গোল্ডেন বুট** জয়ের লড়াই। ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন শুধুমাত্র কোন দল বিশ্বকাপ জিতবে, সেদিকে নয়; সমানভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুই মহাতারকা—আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। দু’জনেই দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন এবং প্রতিটি ম্যাচে গোল করে একে অপরকে টক্কর দিচ্ছেন।
বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বে ফ্রান্সের হয়ে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে জয়সূচক গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। পেনাল্টি থেকে করা সেই গোল শুধু ফ্রান্সকে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে দেয়নি, গোল্ডেন বুটের দৌড়েও তাঁকে আরও এগিয়ে দিয়েছে। গোলসংখ্যায় তিনি লিওনেল মেসির সমতায় পৌঁছে গিয়েছেন এবং টাইব্রেকারে এগিয়ে রয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসিও অসাধারণ ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। গ্রুপ পর্ব থেকেই গোলের ঝড় তুলেছেন তিনি। নক-আউট পর্বেও তাঁর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। গোলের পাশাপাশি একাধিক অ্যাসিস্ট করে দলের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করেছেন মেসি। ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে থাকবেন, তা এখনই বলা কঠিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপে এমবাপ্পের অন্যতম বড় শক্তি তাঁর গতি, ফিনিশিং এবং বড় ম্যাচে পারফর্ম করার ক্ষমতা। ২০২২ বিশ্বকাপেও তিনি গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। এবারও সেই কৃতিত্ব ধরে রাখার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন ফরাসি তারকা। যদি তিনি আবারও এই পুরস্কার জেতেন, তবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা দুই আসরে গোল্ডেন বুট জয়ের বিরল নজির গড়বেন।
অন্যদিকে, মেসির ক্ষেত্রে এই বিশ্বকাপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড গড়লেও প্রতিটি বিশ্বকাপেই নিজের ছাপ রেখে গিয়েছেন তিনি। এবারও তাঁর লক্ষ্য শুধু আর্জেন্টিনাকে শিরোপার লড়াইয়ে রাখা নয়, ব্যক্তিগতভাবেও সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকা। তাঁর অভিজ্ঞতা, ম্যাচ পড়ার ক্ষমতা এবং সুযোগ তৈরি করার দক্ষতা এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা।
গোল্ডেন বুট নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রথমে দেখা হয় মোট গোলসংখ্যা। যদি দুই বা ততোধিক ফুটবলারের গোল সমান হয়, তাহলে অ্যাসিস্টের সংখ্যা বিবেচনা করা হয়। এরপরও সমতা থাকলে কম সময় খেলেই বেশি গোল করা ফুটবলারকে এগিয়ে রাখা হয়। ফলে শুধু গোল করাই নয়, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো এবং কম সময়ে কার্যকর পারফরম্যান্সও এই পুরস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে শুধু মেসি ও এমবাপ্পেই নন, এই তালিকায় রয়েছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন, নরওয়ের আর্লিং হালান্ড, ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে এবং ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো তারকারাও। যদিও গোলসংখ্যার বিচারে বর্তমানে মেসি ও এমবাপ্পের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ হয়ে রয়েছে।
বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রতিযোগিতা আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। যদি আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্স আরও কয়েকটি ম্যাচ খেলে, তাহলে দুই তারকারই গোলসংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ফলে শেষ বাঁশি বাজার আগে গোল্ডেন বুটের মালিক কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ মনে করছেন, এই লড়াই শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত পুরস্কারের জন্য নয়; এটি দুই প্রজন্মের দুই সেরা ফুটবলারের মধ্যকার আরেকটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। একদিকে অভিজ্ঞ লিওনেল মেসি, অন্যদিকে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাঁদের দ্বৈরথ বিশ্বকাপকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলিতে কে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়িয়ে ইতিহাসের পাতায় নতুন কীর্তি গড়েন। আপাতত গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসি ও এমবাপ্পের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।


