বর্ষা মানেই বাঙালির কাছে ইলিশের মরশুম। বছরের এই সময়টাতেই মাছের বাজারে ভিড় বাড়তে শুরু করে। কিন্তু এ বছর জুলাইয়ের শুরুতেই বাজারে দেখা দিয়েছে ইলিশের আকাল। ফলে রুপোলি শস্য কিনতে গিয়ে কার্যত নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ ক্রেতাদের। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় ওজনভেদে ইলিশের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। মাছ ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যাপ্ত বর্ষা না হওয়া এবং নদীতে ইলিশের কম প্রবেশের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে এক কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশের দাম প্রতি কেজি ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। অন্যদিকে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১,২০০ থেকে ১,৪০০ টাকা কেজি দরে। তুলনামূলক ছোট, অর্থাৎ ৩০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা প্রতি কেজি। যদিও ছোট মাছের দাম কিছুটা কম, তবুও সামগ্রিকভাবে বাজারে ইলিশের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে বলেই মনে করছেন অনেক ক্রেতা।
কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক মাছের বাজারে সকাল থেকেই ইলিশ কেনার জন্য ভিড় দেখা গেলেও অধিকাংশ ক্রেতাই দাম শুনে হতাশ হচ্ছেন। অনেকেই আগের বছরের তুলনায় এ বছরের দাম অনেক বেশি বলে দাবি করেছেন। বিশেষ করে বড় সাইজের ইলিশ কিনতে গেলে দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে যাচ্ছে।
মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, সুন্দরবন উপকূল এবং নদী অঞ্চল থেকে প্রত্যাশিত পরিমাণ ইলিশ এখনও বাজারে আসেনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইলিশও এখনও পর্যাপ্ত পরিমাণে বাজারে পৌঁছয়নি। ফলে সরবরাহ কম থাকায় দাম স্বাভাবিকভাবেই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। তাঁদের আশা, আগামী কয়েক সপ্তাহে বর্ষা জোরদার হলে নদীতে ইলিশের আনাগোনা বাড়বে এবং বাজারে জোগানও বৃদ্ধি পাবে।
মৎস্যজীবীদের একাংশ জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর মৌসুমের শুরুতে জালে ইলিশের পরিমাণ অনেক কম ধরা পড়ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, নদীর জলস্তর এবং সমুদ্রের পরিস্থিতির উপর অনেকটাই নির্ভর করে ইলিশের আগমন। তাই নিয়মিত বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেই তাঁদের আশা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলিশের বাজার মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যের উপর নির্ভর করে। মৌসুমের শুরুতে মাছের সরবরাহ কম থাকলে দাম বাড়ে, আবার পর্যাপ্ত মাছ বাজারে এলে দামও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। অতীতের অভিজ্ঞতাও সেই কথাই বলে।
ক্রেতাদের অনেকেই জানিয়েছেন, বর্ষার শুরুতে পরিবারের জন্য অন্তত একদিন ইলিশ কিনতে চাইলেও বর্তমান দামে তা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেকেই ছোট সাইজের মাছ কিনে সন্তুষ্ট থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
মাছ ব্যবসায়ীদের আশা, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গভীর সমুদ্র থেকে আরও ট্রলার ফিরে আসবে এবং বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে। পাশাপাশি যদি বাংলাদেশের ইলিশও আমদানি শুরু হয়, তাহলে দাম কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে। তবে সবটাই নির্ভর করছে আবহাওয়া এবং মাছের জোগানের উপর।
এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি যা, তাতে ইলিশপ্রেমীদের একটু বাড়তি খরচের জন্য প্রস্তুত থাকতেই হবে। তবে ব্যবসায়ী এবং মৎস্যজীবী—উভয়েই আশাবাদী, বর্ষা জোরালো হলে খুব শিগগিরই বাজারে ইলিশের জোগান বাড়বে এবং দামেও কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।


