বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম **হোয়াটসঅ্যাপ**-এ (WhatsApp) শিগগিরই চালু হতে পারে বহুল আলোচিত **Username Feature**। এই নতুন ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা মোবাইল নম্বর প্রকাশ না করেও নির্দিষ্ট একটি ইউজারনেম ব্যবহার করে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন বলে জানা যাচ্ছে। তবে এই সম্ভাব্য ফিচারকে ঘিরে গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে কেন্দ্র সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গিয়েছে।বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপে কারও সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ করতে হলে মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করা প্রয়োজন হয়। নতুন ইউজারনেম ফিচার চালু হলে ব্যবহারকারীরা ফোন নম্বরের পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট ইউজারনেমের মাধ্যমে সংযুক্ত হতে পারবেন। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য আরও সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করতে পারে।
তবে বিষয়টির অন্য দিকও রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউজারনেম ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তিগত নম্বর গোপন রাখা সম্ভব হলেও, ভুয়ো পরিচয়, প্রতারণা, ফিশিং এবং ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরির ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই এই ধরনের ফিচার চালুর আগে শক্তিশালী যাচাইকরণ ব্যবস্থা, রিপোর্টিং সিস্টেম এবং অপব্যবহার রোধে কার্যকর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ফিচারের ফলে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইন প্রতারণা, সাইবার অপরাধ এবং ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করেই বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অনেক জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া এবং মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে ইউজারনেম ব্যবস্থার প্রচলন রয়েছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা নিজেদের মোবাইল নম্বর প্রকাশ না করেই সহজে যোগাযোগ করতে পারেন। যদি হোয়াটসঅ্যাপেও একই ধরনের ব্যবস্থা চালু হয়, তাহলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অন্যদিকে, ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে হবে, অন্যদিকে অপরাধমূলক কার্যকলাপের ক্ষেত্রে তদন্তকারী সংস্থাগুলিও যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
ব্যবহারকারীদের একাংশ নতুন ফিচার নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অচেনা ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফোন নম্বর গোপন রেখে শুধুমাত্র ইউজারনেমের মাধ্যমে যোগাযোগ করা অনেক বেশি নিরাপদ হতে পারে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী, ফ্রিল্যান্সার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং পেশাদারদের জন্য এই সুবিধা কার্যকর হতে পারে।
তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কোনও নতুন ফিচার চালু হওয়ার পর সাইবার অপরাধীরা সেটির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তাই ব্যবহারকারীদেরও সচেতন থাকতে হবে। অপরিচিত ইউজারনেম থেকে আসা বার্তা যাচাই করা, সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক না করা এবং দ্বি-স্তরীয় নিরাপত্তা (Two-Step Verification) চালু রাখার মতো অভ্যাস ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
এখনও পর্যন্ত হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকে এই ফিচার সবার জন্য কবে চালু হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিভিন্ন প্রযুক্তি মহলে এই ফিচার নিয়ে জোর আলোচনা চলছে এবং ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে এটি চালু হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, **WhatsApp Username Feature** ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন সুবিধার সম্ভাবনা তৈরি করলেও, তার সঙ্গে নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তার প্রশ্নও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই ফিচারটি চালুর আগে সরকারের নজরদারি এবং প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন ভবিষ্যতে এর নিরাপদ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।


