Home বাংলা ২১ জুলাই প্রস্তুতি ঘিরে কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ

২১ জুলাই প্রস্তুতি ঘিরে কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ

0
5

২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষ-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। অভিযোগ, শহিদ দিবসের প্রস্তুতির সময় নির্দিষ্ট এলাকায় কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সেই কারণেই পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে।

প্রতি বছর ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে পালিত হয় শহিদ দিবস। কলকাতার ধর্মতলা চত্বরকে কেন্দ্র করে লক্ষাধিক কর্মী-সমর্থকের সমাবেশ হয়। সেই কর্মসূচিকে সামনে রেখে কয়েক সপ্তাহ আগেই প্রস্তুতি শুরু করে দল। মঞ্চ নির্মাণ, ব্যারিকেড, যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের জন্য প্রশাসন ও দলের তরফে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে অভিযোগ উঠেছে, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সংলগ্ন এলাকায় প্রস্তুতির কাজ চলাকালীন কিছু ব্যক্তি সরকারি বা অনুমোদিত কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখে পুলিশ এফআইআর নথিভুক্ত করেছে বলে জানা গিয়েছে।

অভিযোগে কুণাল ঘোষের নাম উঠে আসায় রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। দলের নেতাদের বক্তব্য, শহিদ দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিকে ঘিরে বিরোধীরা অযথা বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে।

তৃণমূলের একাংশের দাবি, কর্মসূচির প্রস্তুতি সংক্রান্ত সমস্ত কাজ প্রশাসনিক অনুমতি নিয়েই করা হচ্ছিল। ফলে বাধা দেওয়ার অভিযোগের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে বলে তারা মনে করছে।

অন্যদিকে অভিযোগকারীদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট এলাকায় চলমান কাজের কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং অন্যান্য কার্যকলাপে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। পরিস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানানো হলে তা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এরপর বাধ্য হয়েই তারা পুলিশের দ্বারস্থ হন।

ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, ঘটনাস্থলে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ২১ জুলাইয়ের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের অন্যতম বড় মঞ্চ এই কর্মসূচি। ফলে এই কর্মসূচিকে ঘিরে যে কোনও বিতর্ক স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক গুরুত্ব পায়।

বিরোধী দলগুলির একাংশ ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে। তাদের দাবি, আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত এবং অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, তদন্তে সত্য সামনে এলেই অভিযোগের ভিত্তিহীনতা প্রমাণিত হবে।

এই মুহূর্তে এফআইআর দায়ের হওয়ার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা চললেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। পুলিশের তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।

২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি যত এগিয়ে আসছে, ততই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here