পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বাজেটকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন রাজ্যের প্রশাসনের দায়িত্ব সামলানো এই বর্ষীয়ান নেত্রী বাজেটের একাধিক দিক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
চলতি বছরের বাজেট রাজ্যের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। বাজেটে সরকারি চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি, মহিলাদের জন্য বিশেষ সুবিধা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই বাজেট আগামী কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত করবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাজেটের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলি তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যদিও তিনি বর্তমানে প্রশাসনের দায়িত্বে নেই, তবুও রাজ্যের উন্নয়নমূলক উদ্যোগ সম্পর্কে তাঁর মতামত এখনও যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে।
বাজেটে এক লক্ষ নতুন চাকরির ঘোষণা, মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ বৃদ্ধির প্রস্তাব এবং সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধির মতো একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার দাবি করেছে, এর ফলে যুব সমাজ যেমন উপকৃত হবে, তেমনই মধ্যবিত্ত ও সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তিও বাড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাজেট শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক লাভের কথা ভেবে তৈরি করা হয়নি, বরং দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার লক্ষ্যও রাখা হয়েছে। শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনা বাজেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে। একটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি এখন ধীরে ধীরে ভোগনির্ভর মডেল থেকে বিনিয়োগনির্ভর বৃদ্ধির পথে এগোচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারণ বিরোধী রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও তিনি উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের প্রশংসা করতে পিছপা হননি বলে মনে করা হচ্ছে। এতে রাজনৈতিক সৌজন্যের একটি বার্তাও উঠে এসেছে বলে অনেকে মনে করছেন।
অন্যদিকে, বাজেট নিয়ে বিরোধী ও শাসক উভয় পক্ষের মধ্যেই আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। কেউ একে জনমুখী বাজেট বলছেন, আবার কেউ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে অর্থনীতি ও উন্নয়নের প্রশ্নে এই বাজেট যে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে, তা বলাই যায়।
রাজ্যের শিল্পোন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পরিকাঠামো নির্মাণ এবং সামাজিক সুরক্ষার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গ নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দিকে এগোতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। সেই কারণেই বাজেটকে ঘিরে সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব—সবার মধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গ বাজেট ২০২৬ শুধুমাত্র একটি আর্থিক নথি নয়, বরং আগামী দিনের উন্নয়ন রূপরেখা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। আর সেই কারণেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সন্তোষ প্রকাশ রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে বাজেটের ঘোষণাগুলি কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং তার প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা পড়ে, সেদিকেই এখন নজর থাকবে সকলের।


