হরিয়ানার আম্বালায় নির্মীয়মাণ তিনতলা একটি ভবন ধসে বড় দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। ভবনের তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলাকালীন হঠাৎ করেই লিন্টেল ভেঙে পড়ে পুরো কাঠামোর বড় অংশ ধসে যায়। ঘটনায় অন্তত দুজন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর প্রথমে সামনে এলেও, উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু শ্রমিক আটকে পড়েছেন বলে প্রশাসনের আশঙ্কা।
রবিবার সন্ধ্যায় আম্বালার ঢুলকোট (Dhulkot) গ্রামের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার সময় ভবনের তৃতীয় তলায় ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সেখানে একসঙ্গে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। আচমকাই একটি বিকট শব্দ শোনা যায় এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গোটা অংশ ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ধুলোয় ঢেকে যায় এলাকা, আর শ্রমিকদের চিৎকারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
### দ্রুত শুরু উদ্ধার অভিযান
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ, দমকল, এসডিআরএফ (State Disaster Response Force) এবং স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। ভারী যন্ত্রপাতি, জেসিবি, ক্রেন এবং কাটার মেশিন নিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়।
উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে, কারণ অতিরিক্ত চাপ পড়লে আরও অংশ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
### জীবিতদের খুঁজে বের করার লড়াই
উদ্ধারকর্মীরা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কয়েকজন শ্রমিককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হলেও, স্থানীয় সূত্রের আশঙ্কা ছিল যে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন। পরবর্তী উদ্ধার অভিযানে আরও মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
### কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, ভবনের তৃতীয় তলায় লিন্টেল ঢালাইয়ের সময়ই বিপর্যয় ঘটে। ঠিক কী কারণে কাঠামো ভেঙে পড়ল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি। নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান, শাটারিংয়ের অবস্থা এবং নির্মাণের নিরাপত্তাবিধি মেনে কাজ হচ্ছিল কি না, সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, নির্মাণকাজে কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা নিরাপত্তার গাফিলতি ছিল কি না, তা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে।
### প্রশাসনের নজরদারি
দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজের তদারকি করেন। হাসপাতালগুলিকেও জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ অব্যাহত থাকবে এবং আটকে পড়া প্রত্যেক শ্রমিককে উদ্ধার করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
### প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধসের শব্দ এতটাই জোরালো ছিল যে আশপাশের মানুষ প্রথমে ভূমিকম্প হয়েছে বলে মনে করেছিলেন। পরে তাঁরা দৌড়ে এসে দেখেন, পুরো নির্মীয়মাণ ভবনের বড় অংশ মাটিতে ভেঙে পড়েছে।
অনেকেই নিজেদের উদ্যোগে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শ্রমিকদের বের করার চেষ্টা করেন। পরে উদ্ধারকারী বাহিনী পৌঁছানোর পর সমন্বিতভাবে উদ্ধারকাজ শুরু হয়।
### নির্মাণ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন
এই দুর্ঘটনার পর ফের নির্মাণস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বহুতল নির্মাণের সময় শাটারিং, লিন্টেল ঢালাই এবং ভারবহন ক্ষমতা সংক্রান্ত নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। শ্রমিকদের জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত প্রযুক্তিগত পরিদর্শন নিশ্চিত না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
### তদন্তের অপেক্ষায়
উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। ঠিক কী কারণে নির্মীয়মাণ ভবনটি ভেঙে পড়ল এবং কোনও অবহেলা ছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্ত শেষ হওয়ার পরই। আপাতত উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্য ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা প্রত্যেক শ্রমিককে নিরাপদে বের করে আনা।


