অযোধ্যা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত কোঠারি ভাইদের স্মরণে কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে সংঘ পরিবারের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা দেন। রাম কোঠারি ও শরদ কোঠারির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলায় সাধুসন্তদের অপমান আর বরদাস্ত করা হবে না।” একই সঙ্গে তিনি যুবসমাজের মধ্যে রাষ্ট্রবাদী ও সনাতনী চেতনা আরও জোরদার করার কথাও তুলে ধরেন।
শনিবার অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংঘ পরিবারের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা। রাম ও শরদ কোঠারির স্মৃতির উদ্দেশ্যে আয়োজিত “প্রতিভা সম্মানজ্ঞাপন” অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং অযোধ্যা আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করেন।
### কারা ছিলেন কোঠারি ভাই?
রাম কোঠারি ও শরদ কোঠারি কলকাতার বাসিন্দা ছিলেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তাঁরা করসেবক হিসেবে অযোধ্যায় গিয়েছিলেন। সেই সময়ের ঘটনাবলিতে তাঁদের মৃত্যু হয় এবং আন্দোলনের সমর্থকদের একাংশ তাঁদের অযোধ্যা আন্দোলনের প্রথম শহিদ হিসেবে স্মরণ করে থাকে। শনিবারের অনুষ্ঠানে তাঁদের সেই স্মৃতিকে সামনে রেখেই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
### “সাধুসন্তদের অপমান বরদাস্ত নয়”
নিজের বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অতীতে ৬ ডিসেম্বর “শৌর্য দিবস” পালন নিয়ে নানা বিধিনিষেধ ছিল। তাঁর দাবি, আগে ইচ্ছা থাকলেও অনেক কিছু করা সম্ভব হতো না। এখন পরিস্থিতি বদলেছে এবং বাংলায় ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বা সাধুসন্তদের অসম্মান সহ্য করা হবে না বলেই তিনি মন্তব্য করেন।
### রাষ্ট্রবাদী চেতনার ওপর জোর
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, যুব প্রজন্মের মধ্যে রাষ্ট্রবাদী ও সনাতনী ভাবধারা আরও শক্তিশালী করে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর মতে, দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও জাতীয় চেতনা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং জানান, সরকার এই ধরনের উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
### সীমান্ত ও অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ
সভায় তিনি পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাস পরিবর্তনের প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। তাঁর বক্তব্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশের বিষয়টি উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, সীমান্ত সুরক্ষিত করা হয়েছে এবং এই বিষয়ে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই মন্তব্যও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
### যাদবপুর ও ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গ
সাম্প্রতিক সময়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তরুণদের মধ্যে রাষ্ট্রবাদী আদর্শ নিয়ে আরও আলোচনা হওয়া উচিত। তাঁর মতে, ছাত্রসমাজের মধ্যে দেশ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।
### যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে তুলনা
অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়েও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উল্লেখ করে বলেন, তিনিও সেই ধরনের বৃহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ কোটি গাছ লাগানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলির পরিচর্যাতেও বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
### রাজনৈতিক তাৎপর্য
কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানকে অনেকেই শুধুমাত্র একটি স্মরণসভা হিসেবে দেখছেন না; বরং এটি রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কোঠারি ভাইদের স্মরণ, রাষ্ট্রবাদী চেতনার ওপর জোর, যুবসমাজকে নিয়ে বার্তা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মতো একাধিক বিষয় একই মঞ্চে তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। এর ফলে অনুষ্ঠানের বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


