মুক্তির আগেই বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলল আল্লু অর্জুন ও অ্যাটলির বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘রাকা’। ভারতীয় সিনেমার প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ক্ষেত্রে নতুন নজির তৈরি করে Guinness World Records-এ নাম তুলে নিয়েছে এই সায়েন্স-ফিকশন ছবি। ‘Most People Motion-Captured in Real-Time’ বিভাগে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে ‘রাকা’। একটি মাত্র সেশনে একসঙ্গে ৩৭ জন পারফর্মারের মুভমেন্ট রিয়েল টাইমে ক্যাপচার করে এই নজির তৈরি করা হয়েছে। ছবির পরিচালক অ্যাটলি এবং অভিনেতা আল্লু অর্জুনের হাতে ইতিমধ্যেই তুলে দেওয়া হয়েছে Guinness World Records-এর শংসাপত্র।
এই রেকর্ড তৈরির পিছনে রয়েছে অত্যাধুনিক motion-capture প্রযুক্তি। ছবির একটি বিশেষ দৃশ্যের জন্য ৩৭ জন পারফর্মারকে একই সময়ে ক্যামেরার সামনে এনে তাঁদের শরীরের প্রতিটি নড়াচড়া রেকর্ড করা হয়। সাধারণভাবে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিনেমার চরিত্র বা ভিজ্যুয়াল এফেক্ট তৈরির সময় একসঙ্গে তুলনামূলক কম সংখ্যক পারফর্মারের মুভমেন্ট ক্যাপচার করা হয়। কিন্তু ‘রাকা’-র নির্মাতারা একসঙ্গে ৩৭ জনের পারফরম্যান্স রিয়েল টাইমে রেকর্ড করে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছেন। এই কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল মোট ৯২টি ক্যামেরার একটি অত্যাধুনিক সেটআপ।
বিশেষ বিষয় হল, এই রেকর্ডটি ছবির শুটিংয়ের সময়ই তৈরি হয়েছিল। জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই রেকর্ডিং সেশন সম্পন্ন হয়। এরপর Guinness World Records-এর তরফে বিষয়টি যাচাই করা হয় এবং ১৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ডটি স্বীকৃতি পায়। পরে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে Guinness World Records-এর সিনিয়র অ্যাডজুডিকেটর স্বপ্নিল ডাংরিকর আল্লু অর্জুন ও অ্যাটলির হাতে শংসাপত্র তুলে দেন। অনুষ্ঠানে ছবির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
রেকর্ডের খবর প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত ছবির গোটা টিম। প্রযোজনা সংস্থা Sun Pictures সোশ্যাল মিডিয়ায় আল্লু অর্জুন ও অ্যাটলির হাতে Guinness World Records-এর শংসাপত্রের ছবি প্রকাশ করে। একই সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে রেকর্ড তৈরির নেপথ্যের কিছু দৃশ্যও। সেই behind-the-scenes ফুটেজে দেখা যায়, কীভাবে একই সময়ে ৩৭ জন পারফর্মারকে motion-capture প্রযুক্তির মাধ্যমে রেকর্ড করা হয়েছিল। ফলে দর্শকদের সামনে ছবিটির প্রযুক্তিগত পরিসর সম্পর্কে কিছুটা ধারণাও তৈরি হয়েছে।
এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন আল্লু অর্জুনও। Guinness World Records-এর স্বীকৃতিকে তিনি গোটা টিমের জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অভিনেতার বক্তব্য, এই ধরনের স্বীকৃতি সিনেমার প্রচলিত সীমাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। পরিচালক অ্যাটলির ভিশন এবং ছবির গোটা টেকনিক্যাল টিমের পরিশ্রমের ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
‘রাকা’ ছবিটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ অবশ্য রেকর্ড ঘোষণার অনেক আগে থেকেই ছিল। আল্লু অর্জুনের সঙ্গে প্রথমবার কাজ করছেন পরিচালক অ্যাটলি। অ্যাটলি এর আগে ‘জওয়ান’-এর মতো সফল ছবি পরিচালনা করে সর্বভারতীয় স্তরে বিশেষ পরিচিতি তৈরি করেছেন। অন্যদিকে আল্লু অর্জুন ‘পুষ্পা’ ফ্র্যাঞ্চাইজির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশাল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। ফলে এই দুই তারকার প্রথম সহযোগিতা নিয়ে প্রথম থেকেই প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। এবার সেই প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত হল প্রযুক্তিগত বিশ্বরেকর্ডও।
ছবিতে আল্লু অর্জুনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন। ফলে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় তারকা এবং বলিউডের অন্যতম পরিচিত অভিনেত্রীর এই জুটি নিয়েও দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। ছবিটি পরিচালনা করছেন অ্যাটলি এবং প্রযোজনা করছেন Sun Pictures-এর কলানিধি মারান। সিনেমাটিকে বড় মাপের সায়েন্স-ফিকশন অ্যাকশন প্রজেক্ট হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। ছবির গল্প ও চরিত্র সম্পর্কে এখনও নির্মাতারা খুব বেশি তথ্য প্রকাশ্যে আনেননি। ফলে প্রযুক্তিগত এই রেকর্ড ছবিকে ঘিরে রহস্য ও উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
‘রাকা’-র ক্ষেত্রে motion capture প্রযুক্তির ব্যবহার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বাস্তব অভিনেতা বা পারফর্মারের শারীরিক নড়াচড়া ডিজিটাল চরিত্রের মধ্যে রূপান্তর করা যায়। বিশেষ করে সায়েন্স-ফিকশন, ফ্যান্টাসি এবং বড় মাপের ভিজ্যুয়াল এফেক্ট নির্ভর সিনেমায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। ‘রাকা’-র ক্ষেত্রে একই সময়ে ৩৭ জন পারফর্মারের মুভমেন্ট ক্যাপচার করার ঘটনা শুধু সংখ্যার দিক থেকেই বড় নয়, বরং সমন্বয় এবং প্রযুক্তিগত নির্ভুলতার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ৯২টি ক্যামেরা ব্যবহার করে এই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ছবির নির্মাতারা এই রেকর্ডের মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমার প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরতে চাইছেন। এতদিন ভারতীয় ছবির ক্ষেত্রে গল্প, গান, নাচ এবং অ্যাকশনের পাশাপাশি ভিএফএক্স নিয়ে আলোচনা হলেও motion-capture-এর মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে বিশ্বরেকর্ড তৈরি করা নিঃসন্দেহে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। ‘রাকা’-র এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও ভারতীয় নির্মাতাকে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করতে পারে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্রমহলের একাংশ।
এরই মধ্যে ছবির প্রথম ঝলক নিয়েও দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নির্মাতারা জানিয়েছেন, ছবিটির প্রথম glimpse ডিসেম্বর মাসে প্রকাশ করা হবে। সম্প্রতি ছবির প্রচারে ‘37’ সংখ্যাটি ব্যবহার করা নিয়েও দর্শকদের মধ্যে জল্পনা শুরু হয়েছিল। পরে সেই সংখ্যার সঙ্গে motion-capture রেকর্ডের যোগসূত্র স্পষ্ট হয়েছে। অর্থাৎ ছবির প্রচার কৌশলেও প্রযুক্তিগত এই সাফল্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
‘রাকা’-কে ঘিরে আরও একটি বিষয় হল এর আন্তর্জাতিক মানের প্রযোজনা ও ভিজ্যুয়াল এফেক্ট। ছবির জন্য একাধিক আন্তর্জাতিক VFX সংস্থার সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়। ফলে ছবিটি শুধুমাত্র একটি তারকানির্ভর ভারতীয় সিনেমা নয়, বরং বড় আন্তর্জাতিক বাজারকে মাথায় রেখে তৈরি করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মুক্তির আগেই Guinness World Records-এ নাম তোলা ছবিটির প্রচারে নিঃসন্দেহে বড় ভূমিকা পালন করবে।
তবে বিশ্বরেকর্ড তৈরি হলেও ‘রাকা’ এখনও মুক্তি পায়নি। ছবিটি ২০২৭ সালে প্রেক্ষাগৃহে আসার কথা। অর্থাৎ দর্শকরা এখনও ছবির সম্পূর্ণ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু তার আগেই ৩৭ জন পারফর্মারের real-time motion capture-এর মাধ্যমে Guinness World Records-এ জায়গা করে নিয়েছে সিনেমাটি। ফলে মুক্তির আগেই ‘রাকা’ যে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম আলোচিত আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট হয়ে উঠেছে, তা বলাই যায়।
সব মিলিয়ে, আল্লু অর্জুন, অ্যাটলি এবং দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত ‘রাকা’ এখন শুধু একটি বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা নয়, প্রযুক্তিগত দিক থেকেও আলোচনার কেন্দ্রে। ৩৭ জন পারফর্মারকে একসঙ্গে motion capture করে তৈরি হয়েছে Guinness World Records-এর নতুন নজির। ৯২টি ক্যামেরার বিশাল সেটআপ, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রযোজনার সমন্বয়ে তৈরি এই রেকর্ড ছবিটির প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দর্শকদের অপেক্ষা ডিসেম্বরের প্রথম ঝলক এবং ২০২৭ সালের বড় পর্দায় ‘রাকা’-র পূর্ণাঙ্গ আত্মপ্রকাশের জন্য।


