ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাক্তন অফস্পিনার রমেশ পাওয়ারকে এবার দেখা গেল অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের শিবিরে। তবে কোনও স্থায়ী দায়িত্ব নয়, স্বল্প সময়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার তরুণ স্পিনারদের কোচিং করাচ্ছেন তিনি। ভারতের মাটিতে চলতি ভারত-অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ সিরিজের মাঝেই অজি শিবিরে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার। রাজকোটের নিরঞ্জন শাহ স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার যুব দলের অনুশীলনে রবিবার উপস্থিত ছিলেন পাওয়ার। সেখানে দলের তরুণ স্পিনারদের বিভিন্ন কৌশল এবং বোলিং নিয়ে পরামর্শ দিতে দেখা যায় তাঁকে।
জানা গিয়েছে, শনিবার অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন পাওয়ার। বুধবার ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের শেষ যুব ওয়ানডে পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া দলের সঙ্গে থাকার কথা তাঁর। অর্থাৎ কয়েক দিনের জন্যই এই বিশেষ দায়িত্ব নিয়েছেন প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তরফে বেশ কিছুদিন আগেই তাঁকে তরুণ স্পিনারদের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই পুরনো প্রতিশ্রুতি রাখতেই এবারের ভারত সফরে অস্ট্রেলিয়ার যুব দলের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি।
নিজের নতুন দায়িত্ব নিয়ে রমেশ পাওয়ার জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। অস্ট্রেলিয়ার তরুণ স্পিনারদের সঙ্গে কয়েক দিন কাজ করে তাঁদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার স্পিনারদের কোচিং করানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। ফলে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কর্তারা তাঁর কাজের ধরন এবং অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আগে থেকেই অবহিত। সেই কারণেই তরুণ স্পিনারদের নিয়ে কাজ করার জন্য তাঁকে ফের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
রমেশ পাওয়ারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের যোগাযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০১৮ সালেও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আমন্ত্রণে তিনি ব্রিসবেনের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-২৩ স্পিনারদের নিয়ে কাজ করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার পর এবার ফের অস্ট্রেলিয়ার তরুণ প্রজন্মের স্পিনারদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেলেন তিনি। ভারতের মাটিতে ভারতীয় ব্যাটারদের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে অস্ট্রেলিয়ার যুব দলের স্পিনারদের প্রস্তুতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইতিমধ্যেই ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের যুব ওয়ানডে সিরিজ শুরু হয়ে গিয়েছে। শুক্রবার সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারত সাত রানে অস্ট্রেলিয়াকে হারায়। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি কমিয়ে ২০ ওভারের করা হয়েছিল। ভারত প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৮২ রান তোলে। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে ১৭৫ রানেই থেমে যায়। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ভারত ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। পরবর্তী ম্যাচগুলি সোমবার এবং বুধবার হওয়ার কথা।
এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার তরুণ স্পিনারদের সামনে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ সামলানোর চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেই জায়গাতেই পাওয়ারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাইছে অস্ট্রেলিয়া। স্পিন বোলিংয়ের সূক্ষ্ম বিষয়, ফিল্ড সেটিং, ব্যাটারকে পড়ে বোলিংয়ের গতি ও লাইন পরিবর্তন এবং চাপের পরিস্থিতিতে কীভাবে পরিকল্পনা করতে হয়—এই ধরনের বিষয় নিয়ে তিনি তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করছেন বলে জানা গিয়েছে।
তবে রমেশ পাওয়ারকে ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেটে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে। বিসিসিআইয়ের জুনিয়র নির্বাচক কমিটির একটি পদের জন্য আবেদন করেছেন তিনি। বোর্ড ইতিমধ্যেই নতুন জুনিয়র নির্বাচক কমিটির পাঁচটি পদ পূরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এখনও পাওয়ারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়নি। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে প্রার্থীদের বাছাই করা হচ্ছে। এরপর ক্রিকেট অ্যাডভাইজরি কমিটি তাঁদের সাক্ষাৎকার নেবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জুনিয়র নির্বাচকদের দায়িত্বও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বয়সভিত্তিক ভারতীয় দলগুলির জন্য ক্রিকেটার বাছাই, ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী ক্রিকেটারদের পুল তৈরি করা তাঁদের কাজের অন্যতম অংশ। ফলে কোচিংয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ক্রিকেট-অভিজ্ঞতা থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচক পদে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রমেশ পাওয়ারের ক্রিকেট ও কোচিং জীবনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভারতের হয়ে তিনি দুটি টেস্ট এবং ৩১টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। পরবর্তী সময়ে কোচিং পেশায়ও যুক্ত হন। ভারতীয় মহিলা দলের প্রধান কোচ হিসেবে দু’দফায় কাজ করেছেন তিনি। জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতেও বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভিভিএস লক্ষ্মণের অধীনেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
ঘরোয়া ক্রিকেটেও পাওয়ারের কোচিংয়ের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত তিন মরশুম গুজরাটের কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এর আগে তাঁর কোচিংয়েই মুম্বই ২০২১ সালের মার্চে বিজয় হাজারে ট্রফি জিতেছিল। ফলে খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি কোচ হিসেবেও দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের তরুণ স্পিনারদের কয়েক দিনের জন্য কোচিং করানো পাওয়ারের আন্তর্জাতিক কোচিং অভিজ্ঞতার আরও একটি অধ্যায়। একই সময়ে ভারতের জুনিয়র নির্বাচক পদে তাঁর আবেদনও তাঁকে ভারতীয় ক্রিকেটের প্রশাসনিক ও প্রতিভা নির্বাচনের আলোচনায় রেখেছে। তবে নির্বাচক হিসেবে তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আপাতত তাঁর নজর রাজকোটে অস্ট্রেলিয়ার যুব দলের সঙ্গে থাকা এবং তরুণ স্পিনারদের ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের বাকি ম্যাচগুলির জন্য প্রস্তুত করা।


