২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ও সবচেয়ে জটিল টুর্নামেন্ট হিসেবে ফুটবলপ্রেমীদের সামনে হাজির হয়েছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া এই আসরে শুধু মাঠের লড়াই নয়, সমর্থকদের জন্যও শুরু হয়েছে কঠিন অঙ্ক কষার সময়। কোন দল শেষ ৩২-এ উঠবে, কারা নকআউট পর্বে জায়গা করে নেবে এবং কোন দল কার মুখোমুখি হবে—এসব হিসাব এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবল অনুরাগীদের আলোচনার কেন্দ্রে।
নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, ৪৮টি দলকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুইটি দল সরাসরি শেষ ৩২-এ পৌঁছে যাবে। অর্থাৎ ২৪টি দল সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করবে। এরপর বাকি আটটি স্থান পূরণ হবে ১২টি গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে সেরা আটটি দলকে নিয়ে। ফলে গ্রুপ পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সমীকরণই পুরোপুরি পরিষ্কার হচ্ছে না।
ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের দুই সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো নিজেদের প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। এতে ঘরের মাঠের দর্শকদের উচ্ছ্বাস যেমন বেড়েছে, তেমনি আয়োজকদের জন্যও এটি স্বস্তির খবর।
তবে আসল জটিলতা শুরু হয় যখন একাধিক দলের পয়েন্ট সমান হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে ফিফা গোল ব্যবধানকে টাইব্রেকারের প্রধান মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার করলেও এবার গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ‘হেড-টু-হেড’ বা মুখোমুখি ম্যাচের ফলাফলে। অর্থাৎ সমান পয়েন্ট পাওয়া দুটি দলের মধ্যে যে দল সরাসরি লড়াইয়ে জিতেছে, সেই দল এগিয়ে থাকবে।
যদি দুইয়ের বেশি দল সমান পয়েন্টে থাকে, তাহলে তাদের নিয়ে একটি বিশেষ ‘মিনি-লিগ’ তৈরি করা হবে। সেখানে কেবল সমান পয়েন্টধারী দলগুলোর নিজেদের মধ্যে ম্যাচের ফল বিবেচনা করা হবে। প্রথমে দেখা হবে অর্জিত পয়েন্ট, এরপর গোল ব্যবধান এবং তারপর গোল সংখ্যা। তাতেও সমাধান না হলে পুরো গ্রুপ পর্বের গোল ব্যবধান ও মোট গোল বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এরপরও সমতা বজায় থাকলে কার্যকর হবে ফিফার ‘টিম কন্ডাক্ট স্কোর’ বা ফেয়ার প্লে রেকর্ড। খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের হলুদ ও লাল কার্ডের ভিত্তিতে পয়েন্ট কাটা হয়। কম নেতিবাচক স্কোর থাকা দল এগিয়ে থাকবে। বর্তমানে কয়েকটি দল এখনো কোনো কার্ড না পাওয়ায় শূন্য স্কোর ধরে রেখেছে, যা তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা হতে পারে।
সবশেষেও যদি কোনো পার্থক্য না পাওয়া যায়, তাহলে ফিফার সর্বশেষ বিশ্ব র্যাঙ্কিং বিবেচনা করা হবে। জুন মাসে প্রকাশিত র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দল অগ্রাধিকার পাবে।
সবচেয়ে বেশি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর লড়াই। ১২টি দলের মধ্যে মাত্র আটটি দল শেষ ৩২-এ সুযোগ পাবে। ফলে প্রতিটি গোল, প্রতিটি পয়েন্ট এবং এমনকি প্রতিটি কার্ডও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।ফিফা আগেই সম্ভাব্য নকআউট ম্যাচগুলোর একাধিক বিকল্প সূচি তৈরি করে রেখেছে। তৃতীয় স্থানধারী সেরা দলগুলোর অবস্থান চূড়ান্ত হওয়ার পর সেই অনুযায়ী ম্যাচ সূচি পূরণ করা হবে। এ কারণেই সমর্থকদের জন্য সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ও নকআউট ড্র বোঝা আগের যেকোনো বিশ্বকাপের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে।
ফিফা আগেই সম্ভাব্য নকআউট ম্যাচগুলোর একাধিক বিকল্প সূচি তৈরি করে রেখেছে। তৃতীয় স্থানধারী সেরা দলগুলোর অবস্থান চূড়ান্ত হওয়ার পর সেই অনুযায়ী ম্যাচ সূচি পূরণ করা হবে। এ কারণেই সমর্থকদের জন্য সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ও নকআউট ড্র বোঝা আগের যেকোনো বিশ্বকাপের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ কয়েক দিন তাই শুধু মাঠের ফুটবল নয়, সমীকরণের ফুটবলও। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনো দল নিরাপদ নয়, আবার অনেক দল শেষ ম্যাচ পর্যন্ত আশা ধরে রাখতে পারবে। নতুন ফরম্যাট বিশ্বকাপকে যেমন আরও প্রতিযোগিতামূলক করেছে, তেমনি সমর্থকদের জন্য এনে দিয়েছে রোমাঞ্চকর হিসাব-নিকাশের এক নতুন অধ্যায়।

